image

আজ, শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

ইসলামী পুস্তক উদ্ধার

   |    ২১:১৬, আগস্ট ১৮, ২০১৮

image

আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক জামায়াত বিএনপি’র কেউ উদ্ধার হলেই সেখানে তালিকায় ইসলামী পুস্তক বা বইয়ের নাম থাকবে সেটা আগে থেকেই বলা যায়। আগে কেবল জঙ্গী সংগঠনের কাউকে গ্রেফতার করা হলেই কেবল ইসলামী পুস্তক অথবা জিহাদী বইয়ের কথা উল্লেখ করা হতো। ইদানিং সেটা জামায়াত ইসলামীর কেউ গ্রেফতার হলেই সেখানে ইসলামী বই বা জিহাদী বইয়ের নাম থাকা যেন আবশ্যিক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জামায়াত নেতাকর্মী গ্রেপ্তারের পর কোন অস্ত্র উদ্ধার করা না গেলে ন্যুন্যতম ইসলামী বই পাওয়া গেছে বলে দাবী করা হয় সংশ্লিষ্টদের নিকট থেকে। এখন কথা হচ্ছে ইসলামী যেকোন বই নিষিদ্ধ কিনা ? মুসলমানদেরকে কি তাহলে ইসলামী বই পড়া ছেড়ে দিতে হবে ? এটা কি বৈষম্যমুলক আচরণ নয় ? অন্যের ধর্মের অনুসারীরা তাদের স্ব-স্ব ধমীয় বই পড়তে পারবে তাতে কোন বাঁধা নেই, কেবল ইসলাম ধর্মের অনুসারীরাই ইসলামী বই পড়তে পারবেনা এমন ধারণা পোষণ করা কোনমতেই যুক্তিসঙ্গত নয়। 

ধর্মীয় উগ্রবাদকে জাগ্রত করে কিংবা ধর্মের সাথে সাংঘর্ষিক কোন বই হলে পড়া যাবেনা, সেটাতে আমাদের দ্বিমত নেই। কিন্তু কাউকে গ্রেপ্তারের পর উদ্ধারের তালিকায় যখন দেখা যায় গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে অনেকগুলো ইসলামী বই পাওয়া গেছে। অর্থ্যাৎ কোন মামলা বা অভিযোগ না থাকার পরও কেবল ইসলামী বই রাখার দায়ে কাউকে গ্রেপ্তার করা কতটা যুক্তিসঙ্গত তা বিবেচনার এখনই উপযুক্ত সময়। অস্ত্র কিংবা অবৈধ কোন কিছু পাওয়া না গেলেও যখন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন কেবল ইসলামী বই পাওয়ার অজুহাতে কাউকে চালান করে দেয় তখন মনে হয় ওরা পারলে পুরো ইসলামকেই চালান করে দিত।

প্রশ্ন হচ্ছে ইসলামী বই নিষিদ্ধ কিনা ? ইসলামী যেকোন বইয়ের সাথে জিহাদী বইয়ের পার্থক্য কোথায় সেটা বোঝা না গেলে গণহারে ইসলামী বই রাখার অপরাধে অপরাধী বানানো কখনোই আইনসিদ্ধ হতে পারেনা। এতে করে আমাদের নতুন প্রজন্মকে ইসলাম বিদ্বেষী হিসেবে গড়ে তোলার একটা অপপ্রয়াস হিসেবে এটা পরিগণিত হচ্ছে।

পশ্চিমা বিশ্ব কিংবা ইসলামী বিদ্বেষীদের চলমান ষড়যন্ত্রের এটা একটা নগ্ন বহিঃপ্রকাশ। তারা ইসলামকে একটা জঙ্গী ধর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। প্রচার প্রচারণায় সকল সন্ত্রাসী কর্মকান্ডকেই ইসলামী জঙ্গীদের হিসেবে চালিয়ে দেয়া যায় খুব সহজেই। কোন ধর্মই জঙ্গী কর্মকান্ডকে সমর্থন করেনা। ইসলামতো আরো বেশী কড়াকড়ি আরোপ করেছে এ ক্ষেত্রে। তাহলে যারা সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সাথে জড়িত তারা কিভাবে ইসলামের অনুসারী হতে পারে ? এটা একান্তই তাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার। ইসলাম এসব অপকর্ম সমর্থন করেনা।

আমাদের দেশেও বর্তমান আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সকল অপকর্মের সাথে ইসলামকে জুড়ে দেয়ার একটা প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে, যেটা সমর্থন যোগ্য নয়। জিহাদী বই পাওয়া গেলেও কাউকে গ্রেপ্তার করা ইসলামী শরিয়তের পরিপন্থী। তবে যেহেতু বর্তমানে জিহাদের নামে ভুল বুঝিয়ে লোকজনকে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড’র সাথে জড়িয়ে ফেলছে সেহেতু তা রোধে কার্যকর সচেতনতামুলক কর্মসূচী হাতে নেয়া যেতে পারে। তবে ইসলামী শরিয়ত, হুকুম, আচার-আচরণ, মুল্যবোধ ও জ্ঞান অর্জনের তাগিদে যখন কেউ ইসলামী বই পড়তে চাইবে তাতে কোন ভাবেই বাঁধা প্রদান সমর্থন যোগ্য নয়।



image
image
image
image
image

আরও পড়ুন

Los Angeles

০২:০৪, সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৮

সড়কজুড়ে হাট, নগরজুড়ে জট


Los Angeles

০১:২০, সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৮

বনপা সেক্রেটারী রনি’র মেয়ে রুকাইয়ার জন্মদিন উদযাপন


Los Angeles

২২:২৭, সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৮

উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দুই খুন