image

আজ, রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮ ইং

চট্টগ্রামে হিজড়াদের চলমান উৎপাত চাঁদাবাজী রুখবার কেউ নেই

   |    ২১:১৯, আগস্ট ১৮, ২০১৮

image

চট্টগ্রামের বাণিজ্যিক পাড়া আগ্রাবাদের একটি ব্যাংকের সামনে লোকজন জটলা পাকিয়ে উৎসুক দৃষ্টিতে কি যেন দেখছে। গাড়ী থেকে নেমে সেদিকে দৃষ্টি স্থাপন করতেই চোখে পড়ে গেল তালি আর বিভিন্ন অঙ্গ ভঙ্গিতে মাতিয়ে রাখা ৫/৬ হিজড়ার সাথে ব্যাংকে দায়িত্বরত সিকিউরিটি গার্ডদের তর্কাতর্কি। অনুসন্ধানী চোখে আমিও দর্শকের ভুমিকায় দাঁড়িয়ে থেকে যা অনুধাবন করলাম তাতে বুঝা গেল উভয় পক্ষের মধ্যে চাঁদার পরিমান নিয়ে দরকষাকষি চলছে। জানার আগ্রহ থেকে আমিও সেখানে উপস্থিত থেকে ঘটনার আদ্যোপান্ত জানার জন্য অবস্থান করে যা জানলাম তা এরকম।

প্রতিমাসে হিজড়া’রা ঐ ব্যাংক থেকে ২হাজার টাকা করে মাসিক চাঁদা নিয়ে থাকেন। এছাড়া পহেলা বৈশাখ,ঈদ,পূজা-পার্বন,কোন হিজড়া মারা গেলে এরকম বিভিন্ন উপলক্ষে থাকে বাড়তি চাহিদা। তাদের দাবী বা চাহিদা মোতাবেক চাঁদা দিতে অপারগ হলেই ঘটে বিপত্তি। ঐদিনের ঘটনাটি হচ্ছে আসছে ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে চাঁদা দাবী নিয়ে। হিজড়াদের দাবী ১৫হাজার টাকা আর ব্যাংক কর্তৃপক্ষ দিতে চায় ৫হাজার টাকা। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে চলছে তর্কাতর্কি যা একপর্যায়ে ঝগড়ায় রূপান্তরিত হতে বাধ্য। হিজড়ারা আরো অনেক সঙ্গীকে মোবাইলে খবর দিয়ে আসতে বলেছে অন্যদিকে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ পুলিশকে খবর দেওয়ার কথা বলেও তাদেরকে নিবৃত করতে ব্যর্থ হয়েছে। হিজড়রা পুলিশকে তোড়াই কেয়ার করে বলেছে, শুধু পুলিশ কেন র্যাব,আর্মি,বিডিআর সবাইকে খবর দে, দেখি তারা তোদের বাঁচাতে পারে কিনা। এমন পরিস্থিতিতে অসহায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ গ্রাহকদেও অসুবিধা ও আরো জনসমাগম ঘটার বিপত্তি এড়াতে শেষমেশ ১০হাজার টাকায় রফাদফা করে।

হিজড়াদের এ ধরনের চাঁদাবাজী সর্ম্পকে জিজ্ঞাসা করলে তখন উপস্থিত রামিসা ও শ্রাবন্তী নামের দুজন জানালো আমাদের সময় কম। তাড়াতাড়ি করেন। কারণ পুরো শহর জুড়ে অনেক জায়গায় যেতে আমাদের সময় লাগে। তাছাড়া এক জায়গায় দু/তিনবারও যেতে হয়। আমরা সাধারণত পায়ে হেঁটে যাই, তাই সময় লাগে। ঈদ করতে তাদের কত টাকা প্রয়োজন আর তারা কত টাকা তুলে তা জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে চলে যায়।

নগরবাসী ব্যাবসায়ী ও সাধারণ জনগনের প্রশ্ন হিজড়াদের এই চাঁদার টাকা ভাগ ভাটোয়ারা হয় কিভাবে? প্রশাসন, রাজনৈতিক দলের নেতা, স্থানীয় সন্ত্রাসী, মাস্তান সকলেই এই টাকার ভাগ পায় বলে সাধারণ জনগনের অভিমত। নতুবা কোন কিছুকেই তোয়াক্কা না করেই তারা এভাবে অসহায় ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগনকে জিম্মি করে কিভাবে? তাদের এই চাঁদাবাজী রুখবার কি কেউ নেই? কোনভাবেই কি এই চাঁদাবাজী বন্ধ করা যায় না?

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে আগ্রাবাদে এমনও ছোটখাট অনেক অফিস আছে যারা ঠিকমত কর্মচারীদের বেতন দিতে পারে না অথচ প্রতিমাসেই হিজড়াদের নির্ধারিত পাঁচ ছয়শ টাকা দিয়ে দিতে হয় যা তাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। অনেক সময় তাঁদের মাসিক চাঁদা অগ্রিম পরিশোধ করতে হয়। তাছাড়া ঈদ,পূজা-পার্বন,নববর্ষ এমনকি কোন হিজড়া মারা গেলেও তাদেরকে মোটা অংকের চাঁদা দিতে হয়। এতে করে সাধারণ ব্যবসায়ী ও অফিসে কর্মরত কর্মকর্তারা খুব বেকায়দায় এবং বিব্রতকর পরিস্থিতে পড়ছেন সবসময়। জনগন মনে করেন হিজড়াদের চাহিদা বা দাবী সাহায্য সহযোগিতার পর্যায়ে নেই, যে যার সাধ্যমত সাহায্য করবেন, তাদের দাবী পুরোটাই স্পষ্ট চাঁদাবাজী। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছেও এ বিষয়ে প্রতিকার চাইলে তারাও কোন ব্যবস্থা নেন না কিংবা এড়িয়ে যান। এ অবস্থায় সাধারনের প্রশ্ন জনগণ যাবে কোথায়? কোথায় গেলে এর সুরাহা মিলবে?

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বর্তমানে স্বাভাবিক লিঙ্গের অনেক নারী পুরুষ হিজড়া সেজে এ ব্যবসায় নেমে পড়েছে। লাভজনক ও ঝুঁকিমুক্ত হওয়ায় এ ব্যবসাকে অনেকে এখন পেশা হিসেবে বেছে নিচ্ছেন। বিনা পরিশ্রমে এমন লাভজনক পেশা সত্যিই চমৎকার। ফলশ্রুতিতে দিন দিন হিজড়ার সংখ্যা বেড়ে চলেছে। এই পেশার উত্থান বন্ধ করা না হলে একসময় তা জাতির জন্য বিষফোঁড়ে পরিণত হবে বলে সাধারণনের অভিমত।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোন ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় হিজড়াদের চাঁদাবাজী নিয়ন্ত্রনহীন হয়ে উঠছে বলে নগরবাসীর ধারণা। তাদের এ ধরনের চাঁদাবাজী থেকে উত্তরণ চায় নগরবাসী। প্রয়োজন যথাযথ সরকারী পদক্ষেপ। অন্যথায় অতিষ্ঠ নগরবাসীর ও হিজড়াদের মধ্যে ঘটে যেতে পারে অনভিপ্রেত বড় ধরনের সংঘর্ষ। যা কাম্য নয় সাধারণ জনগনের।



image
image
image
image