image

আজ, রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮ ইং

প্যারা’ টিচারদের ট্যারা চোখে দেখবেন না প্লিজ

   |    ২১:২১, আগস্ট ১৮, ২০১৮

image

খন্ডকালীন বা প্যারা টিচার। সরকারী বেসরকারী প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট কাটাতে স্থানীয়ভাবে যাদের নিয়োগ দেয়া হয় তারা ‘প্যারা’ টিচার নামে পরিচিত। সরকারী ও বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আপদকালীন শিক্ষক হিসেবে প্যারা টিচারদের কার্যক্রম আইনত বৈধ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে যুগের পর যুগ। শিক্ষক সংকট দূর করে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এই ‘প্যারা’ টিচারের অবদান অনস্বীকার্য। অর্থ্যৎ সময়ের প্রয়োজনে তারা একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবিচ্ছেদ্য অংশে রূপ নেয়। দীর্ঘদিন পর বিদ্যালয়ে যখন শিক্ষক সংকট কেটে যায় তখন তাদেরকে খালি হাতে চাকুরীচ্যুত করা অত্যন্ত অমানবিক ও বেদনাদায়ক।

বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো সরকারী হওয়ার আগে চলে এমপিও ভুক্ত শিক্ষক কিংবা ‘প্যারা’ শিক্ষক দিয়ে। যখন বিদ্যালয়টি সরকারী হয়ে যায় তখন ‘এমপিওভুক্ত’ শিক্ষকরা সরকারী চাকুরীতে রূপান্তরিত হলেও বাঁধ সাধে ‘প্যারা’ শিক্ষককের বেলায়। তাদের কোন গতি হয়না। বিফল মনোরথে ফিরে যেতে হয় বেকার জীবনে। এই নির্মম পরিণতি আসলে-ই অমানবিক ও বেআঈনী। কেননা রেজিস্টারভুক্ত শিক্ষকদের চাকরী সরকারী হলে ‘প্যারা’ শিক্ষকদের দোষ কোথায় !

শিক্ষক সংকট দুর করতে প্যারা শিক্ষকদের যখন নিয়োগ দেয়া হয় তখন তাদের যোগ্যতা যাচাই-বাচাই করেই নিয়োগ দেয়া হয়। অথচ তাদের বিদায় বেলায় কোন কিছুকেই আর মূল্যায়ন করা হয়না। বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি, সরকারী শিক্ষকগণ, অভিভাবকগণ এবং সর্বোপরি শিক্ষা অফিস স্বজ্ঞানেই ‘প্যারা’ শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টিকে উৎসাহিত করেন। নতুবা শিক্ষার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশংকা থাকে। তখন সকলের সম্মতিতেই এদের নিয়োগ দেয়া হয়। কিন্তু মূল্যায়নের ক্ষেত্রে তাদেরকে ‘ট্যারা’ চোখে দেখা হয় বলে ভুক্তভোগী শিক্ষকদের অভিমত।

সারাদেশে কর্মরত বেসরকারী কিংবা রেজিস্ট্যাট বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের চাকুরী জাতীয় করণ করা হলেও ‘প্যারা’ শিক্ষকদের বিষয়টি সকলেই এড়িয়ে যাচ্ছেন। সম্প্রতি চট্টগ্রামের বিভিন্ন বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষকদের পক্ষ থেকে তাদের চাকুরী জাতীয় করণের জন্য হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দাখিল করেছেন। হাইকোর্ট সরকারকে ১৫দিন সময় দিয়ে শিক্ষা সচিবের কাছে এ বিষয়ে জানতে চেয়েছেন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয়ের সচিবকে উপরোক্ত বিষয়ে জবাব দিতে বলা হয়েছে। আইনী লড়াইয়ে হয়তো ‘প্যারা’ শিক্ষকদের জাতীয় করণের দাবীটি টিকবে না, কিন্তু মানবিক আদালতে এর দায়ভার কেউ এড়াতে পারেন না।

যুগেরও অধিককাল সময় একটি বিদ্যালয়ে আর ১০জন শিক্ষকের মত দায়িত্ব পালন শেষে শূণ্য হাতে ফিরে যাওয়া আমাদের জাতির জন্য গ্লানিকর। জাতি গঠনের কারিগর খ্যাত শিক্ষকদের যথাযথ মূল্যায়ন করা না গেলে যেমন সমৃদ্ধ জাতি গঠনের পথ সুগম হয়না তেমনি অবমূল্যায়নের অভিশাপ থেকে দায়মুক্তির সুযোগ নেই পুরো জাতির। দেশজেুড়ে কর্মরত ‘প্যারা’ শিক্ষকদের ’খন্ডকালীন’ বা ‘আপদকালীন’হিসেবে নয়, বরং সমকালীন সময়ের বিপরীতে ‘চেতনার অগ্নি মশাল’ বললেও কম বলা হবে।

স্বল্প সম্মানিতে কিংবা বিনা সম্মানিতে বছরের পর বছর যারা জাতি গঠনে ভুমিকা রেখে আসছে তাদেরকে আর যা-ই হোক শূণ্য হাতে ফিরিয়ে দেয়া সমীচিন মনে করছিনা। চাওয়া-পাওয়ার উর্দ্ধে উঠে আমরা কজনে-ই’বা ‘প্যারা’র’ ভুমিকায় অবতীর্ণ হতে পারি ! ?



image
image
image
image