image

আজ, সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯ ইং

দর্শনার্থীদের কাছে আহসান মন্জিল আর্কষণীয় করতে নানা পদক্ষেপ 

ইকবাল কবির, ব্যুরো চীফ (ঢাকা)    |    ০০:৪৭, জুন ২০, ২০১৯

image

পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী নবাববাড়ি খ্যাত আহসান মন্জিলকে দর্শনার্থীদের কাছে আরো আকর্ষণীয় করে তুলতে ব্যাপক উন্নয়ন পরিকল্পনা নেয়ার চিন্তাভাবনা করছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো।আর এ উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরীর লক্ষ্যে চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে নবাববাড়ি আহসান মন্জিলে কেন্দ্রীয় যাদুঘরের উদ্যোগে শিক্ষা ক্ষেত্রে নবাব স্যার সলিমুল্লাহর অবদান শীর্ষক একটি সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। এই সেমিনার হতেই আহসান মন্জিলে লাইট এন্ড সাউন্ড সিষ্টেম,অফিসের জন্য মন্জিলের পাশে নতুন ভবন নির্মাণ, আহসান মন্জিলের নদীতীরের সামনের অংশের সৌন্দর্য বর্ধনসহ নানা উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রস্তাবনা করা হতে পারে।

নবাববাড়ি আহসান মন্জিলের দায়িত্বে থাকা উপ-কিপার মোঃইলিয়াস খান জানালেন পুরান ঢাকার নবাববাড়ি খ্যাত এই আহসান মন্জিল যাদুঘর টিতে দিন দিন দর্শনার্থীদের আগ্রহ বাড়ছে।

তিনি বলেন,গত ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের দিন প্রায় ২৪ হাজার দর্শনার্থী আহসান মন্জিল যাদুঘরে এসেছেন। এছাড়া ঈদুল ফিতরের দিন হতে এবংপরবর্তি তিন দিন অন্তত ৩০ হাজার দর্শনার্থী আহসান মন্জিলে এসেছেন।আহসান মন্জিলের আশেপাশে বানিজ্যিক এলাকা এবং যানজটের কারনে সাধারন দিনগুলোতে দর্শনার্থী কম থাকে বলে তিনি জানান।

বুড়িগঙ্গা তীরের প্রধান গেট এবং নদীপাড়ের রাস্তাটি অবৈধ দখল মুক্ত করে বিআইডব্লিউটিএ এরই মধ্যে নানা উম্নয়ন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে একই সঙ্গে ঢাকা দঃ সিটি কর্পোরেশন বুড়িগঙ্গার তীর দখল মুক্ত করার  পর সৌন্দর্য বর্ধনের মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে এ বিষয়টির প্রতি দৃষ্টিআকর্ষণ করা হলে আহসান মন্জিল যাদুঘরের উপ-কিপার মোঃ ইলিয়াস খান জানান, ঢাকার ঐতিহ্যবাহী বুড়িগঙ্গা নদীর তীরের এই নবাববাড়ি আহসান মন্জিল মুলতঃ শহরে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের অংশে হলেও এর সৌন্দর্য বর্ধন জড়িত বুড়িগঙ্গা নদীকে ঘিরেই। তাই আহসান মন্জিল যাদুঘরটির সামনের অংশটি আরো আকর্ষণীয় করে তুলতে সিটি কর্পোরেশনের পাশাপাশি নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সম্বনয় প্রয়োজন।

তিনি বলেন শুধু সিটি কর্পোরেশন বা সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের একার পক্ষে সম্ভব নয়।সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয়ের সম্বয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে।তিনি যাদুঘর টির বাহিরে পৃথক ভবন না থাকায় অফিস আহসান মন্জিলের যাদুঘর ভবনের কয়েকটি রুুম অফিস হিসেবে ব্যবহারের কথা তিনি জানান।এটা প্রত্নতত্ত্ব আইনের লংঘন বলে তিনি স্বীকার করেন।

তিনি বলেন,যাদুঘর ভবনের দক্ষিণ পাশের টিনসেড ঘরগুলোর জাগায় অফিসের জন্য পৃথক ভবন হলে আহসান মন্জিলের যাদুঘরটি আরো গ্যালারি বৃদ্ধি করা এবং আকর্ষণীয় করা যাবে।তিনি বলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কণ্যা শেখ হাসিনা দেশের সঠিক ইতিহাস ও আমাদের বাঙ্গালী ঐতিহ্য, এদেশের ঐতিহাসিক স্হানগুলো রক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন।তিনি বলেন,হাজার বছরের পুরনো এই ঢাকা শহরের সৌন্দর্য বর্ধন এবং ঢাকার চারপাশের নদী গুলো অবৈধ দখল মুক্ত করার কাজ এগিয়ে চলছে পুরোদমে।

তিনি বলেন, এই আহসান মন্জিলটির সৌন্দর্য অনেকটা নদীর দখল মুক্ত নদীপাড়ের সৌন্দর্যের উপর নির্ভরশীল।

তিনি বলেন, নবাবেরা নদীর সামনে ভবনটি বানিয়েছিলেন।সেই সামনের অংশের  রাস্তা-ঘাটে অবৈধ দোকানপাট আহসান মন্জিলের সৌন্দর্য  নষ্ট এবং আকর্ষণ হারাচ্ছে।

নবাববাড়ি নির্মাণের ইতিহাস : হাজার বছরের পুরনো শহর ঢাকা মহানগরীর বুড়িগঙ্গা নদীর উত্তর তীরে নবাববাড়ি খ্যাত আহসান মঞ্জিলের অবস্থান। সেই সময়  স্থানটি ইসলামপুরের কুমারটুলী মহল্লা নামে পরিচিত ছিলো।প্রাক মোগল সুলতানি আমলে বসবাসরতদের পেশা অনুযায়ী এলাকার নামকরণ করা হয়েছিলো।তখন কুম্ভকারদের বসতির কারণে এই স্থানের এমন নামকরণ হয়েছিল বলে ইতিহাসবিদরা এমনটাই তাদের বই- পুস্তকে লিখেছেন।

যতদুর জানা যায়, মোগল সুবেদার ইসলাম খান ঢাকায় এসে বুড়িগঙ্গার তীরে এখানেই প্রথম পদার্পণ করেছিলেন বলে তার নামানুসারে এলাকার নামকরণ হয়েছিলো  ইসলামপুর। এটি ব্রিটিশ ভারতের উপাধিপ্রাপ্ত ঢাকার নবাব পরিবারের বাসভবন ও সদর কাছারি ঘর হিসেবেই ব্যবহার করতেন নবাব পরিবারের সদস্যরা।

শিক্ষা, সংস্কৃতি, পঞ্চায়েত ভিত্তিক সমাজ ব্যবস্হাসহ ঢাকাইয়া ঐতিহ্যের শতশত বছরের স্বাক্ষী আহসান মন্জিল। এই মন্জিলের প্রতিটি গ্যালারিতেই রয়েছে ইতিহাসের সংক্ষিপ্ত বর্ননা। 

একনজরে নবাববাড়ি আহসান মন্জিল : আহসান মঞ্জিলটি মুলতঃদুটি অংশে বিভক্ত। পূর্ব পাশের গম্বুজযুক্ত অংশটিকে প্রাসাদ ভবন বা রঙমহল। পশ্চিমাংশের আবাসিক প্রকোষ্ঠাদি নিয়ে গঠিত ভবনকে বলা হয় অন্দরমহল। দোতলা এই প্রাসাদের মেঝে ও বারান্দার মেঝে তৈরি হয়েছে মার্বেল পাথর দিয়ে। প্রাসাদের ভেতরে রয়েছে খাবার ঘর, জলসাঘর, দরবার হল, লাইব্রেরি, বিলিয়ার্ড খেলার ঘর। প্রাসাদের দ্বিতীয় তলায় আছে অতিথিদের থাকার ঘর, বৈঠকখানা, নাচঘরসহ আরও কিছু থাকার ঘর। প্রাসাদের ঠিক সামনে রয়েছে বিশাল বাগানসহ সবুজ মাঠ। বলা হয়ে থাকে আহসান মঞ্জিল ঢাকা শহরের প্রথম ইট-পাথরের ভবন। ১৮৫৯ খ্রিস্টাব্দে আহসান মঞ্জিলের নির্মাণকাজ শুরু হয়ে শেষ হয় ১৮৭২ খ্রিস্টাব্দে। ২৩টি গ্যালারিসহ এই ভবনে প্রায় সাড়ে চার হাজার প্রদর্শনীর
 জিনিসপত্র রয়েছে।

আহসান মঞ্জিল জাদুঘরে প্রদর্শনের জন্য আছে নবাব আমলের ডাইনিং রুম, নবাবদের ব্যবহৃত বড় বড় আয়না, আলমারি, সিন্দুক, কাচ ও চীনামাটির থালাবাসন, নবাবদের অতি বিশ্বস্ত হাতির মাথার কঙ্কাল গজদন্তসহ নবাব আমলের বিভিন্ন ধরনের অলঙ্কৃত রুপা ও ক্রিস্টালের তৈরি চেয়ার-টেবিল, বিভিন্ন ধরনের তৈলচিত্র, ফুলদানি, আতরদানি, পানদান, নবাবদের ড্রয়িংরুম, নাচঘর, সোনা ও রুপার তারজালি কাজ আহসান মঞ্জিলের মডেল।

আহসান মঞ্জিলের ২৩টি গ্যালারির সংক্ষিপ্ত বিবরণ :
গ্যালারি ১: আহসান মঞ্জিল পরিচিতি (১)।
গ্যালারি ২: আহসান মঞ্জিল পরিচিতি (২) ও প্রাসাদ ভবনের সঙ্গে যুক্ত উল্লেখযোগ্য ঐতিহাসিক তথ্যাদি তুলে ধরা হয়েছে এতে।
গ্যালারি ৩: প্রাসাদ ডাইনিং রুম। এটি হলো নবাবদের আনুষ্ঠানিক ভোজন কক্ষ।
গ্যালারি ৪: গোলঘর (নিচতলা)। আহসান মঞ্জিল প্রাসাদের শীর্ষে দৃশ্যমান সুউচ্চ গম্বুজটি এই গোলাকার কক্ষের ওপরেই নির্মিত।
গ্যালারি ৫: প্রধান সিঁড়িঘর (নিচতলা)। বাংলার স্থাপত্যে এরূপ বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত কাঠের সিঁড়ি সাধারণত দেখা যায় না।
গ্যালারি ৬: স্যার আহসানুল্লাহ মেমোরিয়াল হসপিটাল। নবাব আহসানুল্লাহর কন্যা নওয়াবজাদি আখতার বানু বেগম ঢাকার টিকাটুলিতে এটি প্রতিষ্ঠা করেন।
গ্যালারি ৭: মুসলিম লীগ কক্ষ। এই বৃহৎ কক্ষ নবাবদের সময় দরবার হল হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
গ্যালারি ৮: বিলিয়ার্ড কক্ষ, বিলিয়ার্ড টেবিল, লাইট ফিটিংস, সোফা ইত্যাদি তৈরি করে কক্ষটি সাজানো হয়েছে।
গ্যালারি ৯: সিন্দুক কক্ষ। ঢাকার নবাবদের কোষাগার হিসেবে ব্যবহৃত কক্ষটিকে তাঁদের প্রাচুর্যের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে সাজানো হয়েছে।
গ্যালারি ১০: নবাব পরিচিতি। ঢাকার নবাব পরিবারের স্বনামধন্য ব্যক্তিদের পরিচিতি স্থান পেয়েছে এই গ্যালারিতে।
 গ্যালারি ১০ (ক): কোনার সিঁড়িঘর। এখানে থাকা বড় বড় আলমারি ও প্রদর্শিত তৈজসপত্রগুলো নবাব শাসনামলের নিদর্শন।
গ্যালারি ১১: প্রতিকৃতি (১)। ঢাকার খাজা পরিবারের লোকেরা বিভিন্ন কাজে তাদের সমসাময়িক যেসব খ্যাতনামা ব্যক্তির সংস্পর্শে এসেছিলেন তাদের দেখা যাবে এখানে।
গ্যালারি ১২: নওয়াব সলিমুল্লাহ স্মরণে। নবাব স্যার খাজা সলিমুল্লাহ বাহাদুরের প্রতি বিশেষ সম্মান দেখাতে কক্ষটিকে ‘সলিমুল্লাহ স্মরণে’ গ্যালারি হিসেবে সাজানো হয়েছে।
গ্যালারি ১৩: প্রতিকৃতি (২)। এই কক্ষ দিয়ে নবাব পরিবারের সদস্যরা আহসান মঞ্জিলের পূর্বাংশের রঙমহল থেকে গ্যাংওয়ের মাধ্যমে পশ্চিমাংশে যাতায়াত করতেন।
গ্যালারি ১৪: হিন্দুস্তানি কক্ষ। ১৯০৪ সালে ফ্রিৎজকাপের তোলা আলোকচিত্রে কক্ষটিকে হিন্দুস্তানি রুম বলা হয়েছে।
গ্যালারি ১৫: প্রধান সিঁড়িঘর (দোতলা)। প্রাসাদের নিচতলা থেকে ওপর তলায় ওঠানামার জন্য তৈরি কাঠের সিঁড়ির ওপরাংশের দৃশ্য।গ্যালারি ১৬: লাইব্রেরি কক্ষ। এটি ছিল নবাবদের ব্যক্তিগত প্রাসাদ লাইব্রেরি।
গ্যালারি ১৭: কার্ড রুম। ঢাকার নবাবদের তাস খেলার কক্ষ।
গ্যালারি ১৮: নবাবদের অবদান। ঢাকায় পানীয় জলের ব্যবস্থা, নবাব কর্তৃক ঢাকায় পানীয় জল সরবরাহ বিষয়ক নিদর্শন ও তথ্যাদি দিয়ে গ্যালারিটি সাজানো হয়েছে।
গ্যালারি ১৯: স্টেট বেডরুম। বিশিষ্ট ও রাজকীয় অতিথিদের বিশ্রামের জন্য এ প্রাসাদে স্টেট বেডরুম নির্দিষ্ট থাকতো।
গ্যালারি ২০: নবাবদের অবদান ঢাকায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা। এই কক্ষে নবাবদের মাধ্যমে ঢাকায় প্রথম বিদ্যুৎ ব্যবস্থা প্রবর্তন বিষয়ক নিদর্শন, তথ্যচিত্র দিয়ে সাজানো হয়েছে।

গ্যালারি ২১: প্রাসাদ ড্রয়িং রুম। ১৯০৪ সালে তোলা আলোকচিত্র অনুযায়ী সাজানো হয়েছে এটি।
গ্যালারি ২২: গোলঘর (দোতলা)। প্রাসাদের শীর্ষে দৃশ্যমান সুউচ্চ গম্বুজটি এই কক্ষের ওপরেই নির্মিত।
গ্যালারি ২৩: বলরুম (নাচঘর)। নবাবদের পছন্দের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কক্ষটি সাজানো হয়েছে।

আহসান মঞ্জিলে ঢুকতে হলে জনপ্রতি ২০ টাকা করে টিকিট কেটে নিতে হয়। অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য জনপ্রতি ৫টাকা। সার্কভুক্ত নাগরিকদের জন্য প্রতিটি টিকিটের মূল্য ৭৫ টাকা। আহসান মঞ্জিল বন্ধের আধঘণ্টা আগ পর্যন্ত টিকিট পাওয়া যায়।



image
image

রিলেটেড নিউজ

Los Angeles

১৩:৪৩, জুলাই ২১, ২০১৯

চন্দনাইশে সবজির বাজারে আগুনঃ দিশেহারা নিন্ম আয়ের ক্রেতারা


Los Angeles

০০:৪৩, জুলাই ২০, ২০১৯

মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা মানছেন না আনোয়ারার জেলেরা


Los Angeles

০০:২৭, জুলাই ২০, ২০১৯

রোহিঙ্গাদের দখলে ৬হাজার বনভূমি, অবৈধ করাতকলে নির্বিচারে চলছে কাঠ চিরাই


Los Angeles

০০:০৩, জুলাই ২০, ২০১৯

বন্যার তান্ডবে লন্ডভন্ড শঙ্খচর


Los Angeles

১৮:৪৫, জুলাই ১৮, ২০১৯

ফ্রি পাওয়া গ্যাস ব্যবহার না করে উড়িয়ে দিচ্ছে রোহিঙ্গারা


Los Angeles

২০:০০, জুলাই ১৭, ২০১৯

উখিয়ায় রহস্যময় দেয়াল লিখনের ভাষা উদঘাটন


Los Angeles

১৯:৩২, জুলাই ১৭, ২০১৯

উখিয়ায় শূন্য থেকে কোটিপতি উখিয়ার জয়নাল মেম্বার


Los Angeles

১৮:৩৯, জুলাই ১৭, ২০১৯

হরিশপুর-রহমতপুর সেতু চলাচল অযোগ্য : দুর্ভোগে সন্দ্বীপবাসী


Los Angeles

১৯:২৪, জুলাই ১৪, ২০১৯

উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাজারগুলোতে বার্মিজ পণ্যের সমাহার


image
image
image

আরও পড়ুন

Los Angeles

০০:৪৭, জুলাই ২২, ২০১৯

লোহাগাড়া উপজেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক কমিটি