image

আজ, সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯ ইং

মানুষ কেন এমন অমানুষ হয়ে যাচ্ছে!!!

মাহবুবা সুলতানা শিউলি    |    ০১:৩৯, জুন ২৮, ২০১৯

image

বুধবার ২৬/০৬/২০১৯, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে শত শত লোকের উপস্থিতিতে স্ত্রীর সামনে শাহ নেয়াজ রিফাত শরীফকে (২৫) কুপিয়ে হত্যা করা হয়। নিহত রিফাত শরীফের বাড়ি বরগুনা সদর উপজেলার ৬নং বুড়িরচর ইউনিয়নের বড় লবণগোলা গ্রামে। তার বাবার নাম আ. হালিম দুলাল শরীফ। মা-বাবার একমাত্র সন্তান ছিলেন রিফাত।

ওই দিন সকাল ১০টার দিকে নয়নের নেতৃত্বে ৪-৫ জন সন্ত্রাসী রিফাতকে দা দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় ফেলে যায়। এ সময় বারবার সন্ত্রাসীদের হাত থেকে স্বামীকে বাঁচাতে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি।

একপর্যায়ে গুরুতর অবস্থায় রিফাতকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার রক্তক্ষরণ বন্ধ না হওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল ৪টার দিকে রিফাত মারা যান। বর্তমানে রিফাতের মরদেহ বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে।

এ ঘটনায় বুধবার রাতে নিহত রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেছেন। এ মামলার ৪ নম্বর আসামি চন্দন।

বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে শত শত লোকের উপস্থিতিতে স্ত্রীর সামনে শাহ নেয়াজ রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় বুধবার রাতে চন্দনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরগুনার পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন। তিনি বলেন, নেয়াজ রিফাত শরীফকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় চন্দন নামের এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। তবে চন্দনকে কখন কোথায় থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে তদন্তের স্বার্থে সে বিষয়ে কোনো তথ্য জানাতে রাজি হয়নি পুলিশ।

আপাতত এতটুকুই আপডেট পেয়েছি আমরা কিন্তু প্রশ্ন হলো আর কত দেখবো এই নৃশংসতা। মানুষ নামক এ অমানুষগুলোর জয়জয়কার আর কতদিন চলবে। দুপায়া বিশিষ্ট অমানুষগুলো  যাকে তাকে কুপাবে আর মানুষ নামক আরও কিছু অমানুষ তা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখবে। ছিঃ ধৃক্কার বা ঘৃণা জানাবার ভাষাটুকু হারিয়ে ফেলছি। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তামাশা দেখা দুপায়া গুলো কি আদৌ মানুষ!
নাকি জানোয়ারের দল....!

কোপাকুপি! রামদার সরাসরি কাটাকাটি!! নীরব দর্শক সাধারণ মানুষ। তারা কেবল দর্শকের ভুমিকা পালন করেছে। আহারে মানুষ! হায়রে দু-পায়া হায়েনার দল। কারো মন এতটুকু গললো না নির্মম এই হত্যাকান্ড থামানোর জন্য। নিজেদের প্রাণের এতই মায়া! নিজে বাঁচলে বাপের নাম। এভাবেই তোরা বাপের নাম কামাবি!

শত শত লোকজনের মধ্যে একজনও কি ছিলনা 'কোন সাহসী মায়ের সন্তান', এই নৃশংস হত্যাযজ্ঞ থামানোর জন্য....! 
একটি জীবন্ত প্রাণ কেটে ফেলা হচ্ছে! অথচ সবাই নীরব দর্শক!!!

বরগুনার এই ঘটনা আমাদেরকে কি বার্তা দিয়ে গেল! আমরা কি মানুষ নাকি জানোয়ার। নাকি মানুষ নামের কলংক!!  
এই মেয়ের স্বামীর খুনিকে কি এখন ক্রস ফায়ার দেয়া হবে!! না আরেকজন বিশ্বজিতের কাহিনি হবে।

বিশ্বজিতকে সেদিন প্রকাশ্যে কোপানো হয়েছিল রামদা দিয়ে। নৃশংসভাবে প্রকাশ্যে বিশ্বজিতকে হত্যা করেছিল নরপশুরা।  কিন্তু বিশ্বজিতের খুনিরা পার পেয়ে গেছে। বিশ্বজিতের খুনীদের প্রাণ দন্ড কিংবা আমৃত্যু সাজা কোনটাই ভোগ করতে হয়নি।
তাইতো আজ এদেশে বিশ্বজিত ঘটনার আবারো পুনরাবৃত্তি হলো। নারী তুমি আজ বিধবা হয়েছ প্রাণের স্বামীকে হারিয়ে। খুব অল্প সময়ে। তোমার হাতের মেহেদীর রঙ মুছে যাওয়ার আগেই তুমি আজ বিধবা হয়ে গেলে।

জানি এই রাষ্ট্র তোমার এই বিশাল শূন্যতাকে পুষিয়ে দিতে পারবেনা। এটি তুমি এই রাষ্ট্রের কাছে আশাও করতে পারবেনা। হয়তো আইনি মারপ্যাচে পড়ে তুমি একদিন ক্লান্ত হয়ে যাবে। নিঃস্ব থেকে নিঃস্ব হয়ে যাবে, তবু ফিরে আসবেনা তোমার প্রিয় স্বামী।

তুমি যুদ্ধ করেছ স্বামীকে রক্ষা করতে। স্বামীকে বাঁচাতে হাজারো বার আকুতি মিনতি করেছো। স্বামীকে বাঁচাতে আপ্রাণ চেষ্টা করে গেছো। কিন্তু তোমার সাহায্যার্থে কেউ এগিয়ে আসেনি। 

এখন নিজেকে প্রশ্ন করো, আর ভাবো!! হাত পা বিশিষ্ট যে জীবগুলোকে দর্শকের ভুমিকায় দেখেছে, তারা কি মানুষ! নাকি দু' পা বিশিষ্ট জন্তু-জানোয়ার !! তুমি আসলে মানুষ দেখোনি, দেখেছো জন্তুর দল। কারণ তারা যদি মানুষ হতো, নৃশংস এই হত্যাযজ্ঞ বন্ধের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়তেন। বাঁধা দিতেন কিংবা চিৎকার দিতেন....! দলবেঁধে দৌড়ে এসে এ নৃশংসতা থামানোর চেষ্টা করতেন। 

তারা মানুষ রূপী জানোয়ার বলেই আজ দর্শকের ভুমিকা পালন করেছে। মানুষ হিসেবে এর চেয়ে লজ্জার আর কিছু নেই....। তাহলে কি আমরা দিন দিন মানুষের রুপে অমানুষে পরিণত হচ্ছি। কোনো বিচার হচ্ছেনা সেজন্য আজ যে যা চায় তাই করছে? 

একমাত্র সন্তান রিফাতের বাবা-মায়ের খবর কে নেবে? একমাত্র যক্ষের ধন সন্তান হারানো এ পিতামাতা কি আশায় আর বুক বাঁধবে? যদি সম্ভব হয় ওনাদেরও কুপিয়ে হত্যা করে একমাত্র সন্তান হারানোর দায় থেকে মুক্তি দিন।

বছরের প্রথমদিনে চার সন্তানের জননী গনধর্ষণের শিকার হলো আজও তার সঠিক কোনো বিচার হলো না। কিছুদিন আগে ধর্ষনে বাঁধা দেয়া ও সবাইকে এ জঘন্যতার কাহিনী বলে দিবে বলে যে নুসরাত প্রতিবাদ করেছিলো সে প্রতিবাদী নুসরাতকে আগুণে পুড়ে জীবন্ত দগ্ধ করে মেরে ফেলেছিলো তারও কোন সঠিক বিচার আজও পাই নি। তাহলে এভাবেই ঘটনাগুলো ঘটতে থাকবে। হায়েনারা ঘটনা ঘটিয়ে বীরদর্পে প্রকাশ্যে ঘুরেবেড়াবে আর বিচারের বানী নিরবে নিঃভৃতে কাঁদবে? মানুষ আজ বড় অসহায় তাইতো অমানুষেরা এভাবে পার পেয়ে যায়। জানি এ হত্যাকান্ডের ফাইলও একদিন বন্ধ হয়ে যাবে আরেকটি রমরমা আকর্ষণীয় তরতাজা নতুন হত্যাকান্ডের আগমনে। আমরা আবারো অপেক্ষায় থাকবো আরেকটি রমরমা খবরের। কারণ এটাই এখন আমাদের নিয়তি।

লেখক : মেম্বার, বোর্ড অব ট্রাস্টিজ, কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি



image
image

রিলেটেড নিউজ

Los Angeles

০২:৪১, জুন ২৮, ২০১৯

বাহ !


Los Angeles

০১:৩৯, জুন ২৮, ২০১৯

মানুষ কেন এমন অমানুষ হয়ে যাচ্ছে!!!


Los Angeles

২৩:৩৬, জুন ১৬, ২০১৯

ছেলেটিও বাবা হবে একদিন


Los Angeles

০০:১৮, মে ১৬, ২০১৯

ও সাংবাদিক তুই অপরাধী, তোর ক্ষমা নাই রে!’


Los Angeles

০১:৫১, মে ১০, ২০১৯

এলবাম


Los Angeles

০১:১৫, মে ৭, ২০১৯

উখিয়া উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনে আদালতের নিষেধাজ্ঞা


Los Angeles

১৪:১২, এপ্রিল ২৫, ২০১৯

বয়সে নয়, মানুষ তার কর্মেই চিরকাল বেঁচে রয়


image
image
image

আরও পড়ুন

Los Angeles

০০:৪৭, জুলাই ২২, ২০১৯

লোহাগাড়া উপজেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক কমিটি