image

আজ, রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮ ইং

স্বাস্থ্যসেবায় ডিজিটাল বিপ্লব

শাহাব উদ্দিন মাহমুদ    |    ১৯:১৫, সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৮

image

শাহাব উদ্দিন মাহমুদ

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে আওয়ামী লীগ জাতির সামনে ‘দিনবদলের সনদ’ উপস্থাপন করে ক্ষমতায় এসেছিল। প্রতিশ্রুত এই সনদ জনমনে নাড়া দিয়েছিল, বিশেষ করে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়ার অঙ্গীকার লুফে নিয়েছিল তরুণ প্রজন্ম। তারই ধারাবাহিকতায় ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিউপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে তার গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপে বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ ব্যবহারের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। প্রযুক্তির আবিষ্কার হয়েছে মানুষের দৈহিক, কায়িক পরিশ্রমকে আরও সহজ থেকে সহজতর করে তোলার জন্য, কাজকে সঠিক এবং নিপূর্ণভাবে করার জন্য। প্রযুক্তির গুণে মানুষ আজ অসম্ভবকে সম্ভব করছে। প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বদলে গেছে স্বাস্থ্য সেবার সনাতন পদ্ধতি। সম্প্রতি রিজিওনাল হেলথ ইনফরমেটিকস কনফারেন্স এর সমাপনী পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে দেশে ‘জাতীয় স্বাস্থ্য তথ্যভান্ডার’ ও ১০ বছর মেয়াদি ‘হেলথ কার্ডকরা চালু করার পরিকল্পনার কথা জানান । ‘স্বাস্থ্য তথ্যভান্ডারে মানুষের প্রাথমিক তথ্যগুলো থাকবে। জাতীয়পরিচয়পত্রের তথ্যভান্ডার এর সহায়তায়স্বাস্থ্য তথ্যভান্ডার করা হবে। বর্তমান বাংলাদেশ যেভাবে ডিজিটাল রুপান্তরের দিকে যাচ্ছে অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশ এর উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করছে। সম্মেলনে স্বাস্থ্য খাতে সরকারের বিভিন্ন সাফল্যের কথা তুলে ধরেন তিনি। বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতেই সবচেয়ে বেশি যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার হচ্ছে বলে জানান তিনি। তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাত দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে । এই সম্মেলনের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল স্বাস্থ্যসেবায়প্রযুক্তির ব্যবহার। প্রযুক্তির অগ্রযাত্রায় তাল মিলিয়ে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনাকে আরও সহজ করে তুলতে গবেষণার অন্ত নেই।আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রান্তিক জনগণের স্বাস্থ্য সেবায় এগিয়ে আসা প্রতিষ্ঠানকে অর্থ বরাদ্দসহ যাবতীয় সহযোগীতা করছে তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। ইতিমধ্যে বাজারে এসেছে নানা অ্যাপ যা স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এর মধ্যে কিছু অ্যাপস কিংবা ডিভাইস জনপ্রিয়ও হয়ে উঠেছে।


চিকিৎসা সেবায় তথ্য প্রযুক্তি : ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের অংশ হিসেবে চিকিৎসাসেবায় প্রযুক্তির সাহায্যে টেলিমেডিসিন ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। এ পদ্ধতিতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের লোকজন ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ঢাকার বড় বড় হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ নিতে পারছে। এ ছাড়া ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা মোবাইল ফোন ও ই-মেইলের মাধ্যমেও এসব রোগীকে চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। টেলিমেডিসিন সেন্টারের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা নিতে অতিরিক্ত কোনো ফি রোগীকে দিতে হয় না। টেলিমেডিসিন সেন্টারে রোগী দেখানোর আউটডোর চার্জ ১০টাকা। বাকি সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা চিকিৎসকরা বিনামূল্যে করে দেন। তারা ঢাকার চিকিসৎকদের সঙ্গেও অ্যাপয়েন্টমেন্টের ব্যবস্থা করে দেন। আর যদি ওই সব পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্রপাতি সরকারি হাসপাতালে না থাকে, তবে তারা প্রাইভেট ক্লিনিক বা ল্যাবরেটরি থেকে করে নিয়ে আসেন। এ সেবার আওতায় মেডিসিন, সার্জারি, অবস অ্যান্ড গাইনি, কার্ডিওলজি, চক্ষু ও নাক-কান-গলার রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হয়। হাসপাতালের নিয়মিত চিকিসকরা কর্তৃপক্ষের দেওয়া রোস্টার অনুযায়ী প্রতিদিন এ টেলিমেডিসিন পরামর্শ ও চিকিৎসাসেবা দিয়ে থাকেন। এ ছাড়া সাপ্লাই চেইন ওয়েবপোর্টালের মতো নানা ধরনের ওয়েবপোর্টাল তৈরি করে গোটা স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও সেবাদানের পদ্ধতিকে ডিজিটালাইজেশন করা হচ্ছে। প্রসূতি ও নবজাতকের স্বাস্থ্য নিয়ে গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু বিলম্বের কারণে জীবনের ঝুঁকি বাড়ে। এর মধ্যে রয়েছে হাসপাতালে বা চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ, যাতায়াত ও স্বাস্থ্যকর্মীর প্রস্তুত হওয়ার বিলম্ব। তথ্যপ্রযুক্তি এসব বিলম্ব ও সমস্যা অনায়াসেই দূর করতে পারছে।  ২০০৯ সালে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা প্রদান কার্যক্রম শুরু করা হয়। বর্তমানে দেশের সবকটি ইউনিয়ন ও তথ্যসেবা কেন্দ্রে এ সেবা দেওয়া হচ্ছে। জেলা-উপজেলার হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে এ সেবা। কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও ইউনিয়ন তথ্যসেবা কেন্দ্র ব্যবহার করে স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছে। স্বাস্থ্য খাতে ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু শিশু ও মাতৃ মৃত্যু হ্রাসে জাতিসংঘের পুরস্কারও লাভ করেছে বাংলাদেশ।

স্বাস্থ্য বাতায়ন : প্রত্যন্ত গ্রামের হাসপাতাল থেকে ভিডিও কনফারেন্স করে বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ‘স্বাস্থ্য বাতায়ন’ প্রকল্পে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তির সুবিধা তৈরি করা হয়েছে। এর ফলে গ্রামের রোগীরাও বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকের মতামত পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। গুরুতর অসুস্থ রোগী পরিবহনে ফোনে ১৬২৬৩ নম্বরে একটি কল দিলেই অ্যাম্বুলেন্স সেবা পাওয়া যাচ্ছে। মানুষ চব্বিশ ঘণ্টা যাতে অ্যাম্বুলেন্স সেবা পায়, সে লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। অ্যাম্বুলেন্সের পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবার জন্য ‘স্বাস্থ্য বাতায়ন’ নামে কল সেন্টার চালু করা হয়েছে। 

স্মার্ট ডিভাইস : প্রযুক্তির অগ্রযাত্রায় স্বাস্থ্য সেবায় স্মার্ট প্রযুক্তিবড় একটা জায়গা দখল করে নেবে। ঘুমের মধ্যে শ্বাস বন্ধ বা অ্যাপনিয়া রোধে কাজ করছে নিওজিয়া। এর তৈরি 'মসিও এইচডবিল্গউ' নামের বিশেষ পরিধানযোগ্য স্মার্ট ডিভাইস যা সমস্যা চিহ্নিত করে ঘুমকে স্বাভাবিক করবে। শিশু সুস্থ্য কিনা তা জানার অন্যতম উপায় হচ্ছে তার শরীরের তাপমাত্রা। শিশুর শরীরের তাপমাত্রা কেমন এটি জানার জন্য বাজারে চলে এসেছে স্মার্ট সমাধান। 'টেম্পট্রাক' এক ধরনের স্মার্ট সমাধান নিয়ে এসেছে যা শিশুর অভ্যন্তরীণ অবস্থা ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ করবে এবং সব ডাটা মোবাইলে প্রেরণ করবে। এটি করবে শিশুটিকে কোনো ধরনের বিরক্ত করা ছাড়াই কাজ করতে পারে। এতে মা সহজেই শিশুর সুবিধা-অসুবিধার কথা জানতে পারবেন। কার্ডিওকোর' এফডিএর অনুমোদন নিয়ে তার ও কোনো ধরনের প্যাঁচ ছাড়া পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বিশেষ ধরনের বুকের বেল্ট বাজারে নামানোর ঘোষণা দিয়েছে। এটির কাজ হবে ইসিজি, হার্টরেট, হার্টরেটের কমবেশি, শ্বাস-প্রশ্বাসের হার, ত্বকের তাপমাত্রা নিরীক্ষা এবং ডাটা সংরক্ষণ, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অ্যাপের মাধ্যমে পাওয়া যাবে ও মেডিকেল স্পেশালিস্টদের কাছে পাঠানো যাবে।ব্যক্তিগত ফিটনেস ট্র্যাকার ব্যক্তি বিশেষে ঘুম, হাঁটা, ক্যালরি একেক ধরনের প্রয়োজন। প্রতিদিন ঘুম, ক্যালরি কমানো, হাঁটার পরিমাণ, হার্টরেট ইত্যাদি সংরক্ষণ করে এসব ঠিক কতটুক দরকার তা জানিয়ে দেবে 'মিওস্লাইস'। হাতে পরিধান যোগ্য এই ডিভাইসটি হতে পারে ব্যক্তিগত ফিটনেস ট্র্যাকার। ট্রুব্রেথ' ঘুমের জন্য ডিভাইস ও অ্যাপসের সমন্বয়ে স্বয়ংক্রিয় সমাধান নিয়ে এসেছে। হাতে পরিধানযোগ্য ডিভাইসটি ব্লুটুথের মাধ্যমে অ্যাপসের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। ব্যবহারকারীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ধারা পর্যবেক্ষণ কওে ডিভাইসটি অ্যাপসে ডাটা প্রেরণ করবে। এর পরে সেই ডাটা অনুযায়ী উপযোগী মেলোডি পরিবেশ তৈরি করবে, যা মস্তিষ্ককে নিয়ন্ত্রণ করে সহজেই ঘুম এনে দেবে। ঘুম নিয়ে দুশ্চিন্তা করতে হবে না ভুক্তভোগীদের এমনকি ভিন্ন কোনো কসরতও করতে হবে না আর।

সিমেড স্মার্ট হেলথ ডিভাইস : উদ্ভাবনের জন্য স্টার্টআপ প্রতিযোগিতা ঢাকা পর্বে চ্যাম্পিয়ন হওয়া সিমেড হেলথ মূলত আইওটি ভিত্তিক ক্লাউড নির্ভর স্বাস্থ্যসেবা প্লাটফর্ম। সিমেড ডিভাইস স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যবহারকারীর স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্যের রেকর্ড রাখে এবং ব্যবহারকারীদের পরামর্শ প্রদান করে। সিমেড স্মার্ট হেলথ ডিভাইস ব্যবহার করে ঘরে বসেই প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা যাচ্ছে। হাসপাতালে দীর্ঘ লাইন ও টেস্ট প্রতি অতিরিক্ত খরচ বাঁচাতে জনপ্রিয় হচ্ছে হেলথ টুলস। এর মাধ্যমে আক্রান্ত হওয়ায় আগেই স্বাস্থ্যঝুঁকি পরিমাপ করে অনেকক্ষেত্রে মৃত্যুঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। স্মার্ট টুলস ও মোবাইল অ্যাপসের সমন্বয়ে ব্লাড পেসার, পালস, ব্লাড অক্সিজেন স্যাচুরেশন, শরীরের তাপমাত্রা, ওজন ও উচ্চতা অনুযায়ী ওবিসিটি পরীক্ষাসহ নানা ধরণের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করছে অনেকেই। পরীক্ষা পরবর্তী ফলাফলে ধরা পড়ছে রোগ। প্রয়োজন অনুযায়ী স্বল্পমূল্যেস্মার্টহেলথ টুলস কিনে এক একটিতে ১০ হাজার বার পর্যন্ত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো সম্ভব। এছাড়া পর্যায়ক্রমে এলাকাভিত্তিক সেবা কেন্দ্রের মাধ্যমে ১০০ টাকায় ১০টি স্বাস্থ্য পরীক্ষার সুযোগ তৈরি করে দেয়ার পরিকল্পনা সিমেডের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হওয়ায় ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মত রিপোর্ট প্রিন্ট করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া যায়। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যেই এ সেবা চালু করা হয়েছে। প্রতিটি ইউজারের অ্যাকাউন্টে হেলথ ডাটা রেকর্ডের সুযোগ থাকায় পৃথিবীর যে কোন প্রান্ত থেকে তা দেখার সুযোগ রয়েছে পরিবার প্রিয়জনদের। দেশে প্রতিবছর বিভিন্ন রোগে মৃত্যুর শতকরা ৬২ ভাগ মারা যায় অসংক্রামক ব্যাধিতে। আক্রান্ত হওয়ার আগেই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমে এসব স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।

আপনজন’ কর্মসূচি : প্রযুক্তির সহযোগিতায় স্বাস্থ্যসেবার অংশ হিসেবে প্রসূতিদের জন্যও একটি সৃজনশীল কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এ সেবার মাধ্যমে প্রসূতিরা ঘরে বসেই স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করতে পারবেন। গর্ভবতীদের গর্ভকালীন প্রতিটি মুহূর্তের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে। প্রয়োজন মতো তারা পাবেন সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য। ‘আপনজন’ নামের এ কর্মসূচির মাধ্যমে গর্ভবতী ও শিশু মৃত্যু হার অনেকাংশে হ্রাস করা সম্ভব হয়েছে। মায়েরা ঘরে বসে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে এ তথ্য পাচ্ছেন। এ জন্য ১৬২২৭ নম্বরে ফোন করে ১ চেপে নিবন্ধন করতে হবে। নানা কুসংস্কার, সাধারণভাবে প্রচলিত ভুলভ্রান্তিও এ সেবার মাধ্যমে জানানো হয়। গর্ভবতী ও নতুন মায়েদের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিপদ ও বিপদ চিহ্নগুলো সম্পর্কে অবগত করা হয়। প্রতিটি গর্ভবতীকে ৮৬সপ্তাহ ধরে এ তথ্যসেবা দেওয়া হচ্ছে। 

Bangladesh Electronic Medical Record : Bangladesh Electronic Medical Record (BDEMR)  সফটওয়্যার ব্যবহারের মধ্য দিয়ে রোগীর ব্যবস্থাপত্র দিতে সর্বোচ্চ সহায়ক ভূমিকা রাখবে। এই সফটওয়্যার ব্যবহার করার ফলে ডাক্তার এবং রোগী উভয়ের সময় ও টাকা সাশ্রয় হবে। খুব জরুরী রোগী ছাড়া কাওকেই আর দূর -দূরান্ত থেকে ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্র নিতে মেডিকেলে আসতে হবেনা। শুধু একবার নিবন্ধনের মধ্য দিয়ে রোগী বাড়িতে বসেই নোটিফিকেশন পেয়ে যাবেন তার ব্যবহারকৃত মোবাইল ফোনে। যে সকল ডাক্তার এই সফটওয়্যার ব্যবহার করবেন তারা পুনঃপুন আপডেট পাবেন সেই সাথে রেজিস্ট্রেশনকৃত রোগীর সার্বিক ব্যবস্থাপত্র দিতে পারবেন খুব নিমিষেই। এই সফটওয়্যার ব্যবহারের মধ্য দিয়ে চিকিৎসা সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে।

মেডিকেল রোবট : দেশের হাসপাতালে চিকিৎসক ও নার্সের সংকট মেটাতে মেডিকেল রোবটকে ডাক্তার বা নার্সের পরিপূরক হিসেবে কাজে লাগাতে স্বয়ংক্রিয় মেডিকেল রোবট তৈরি করেছেন একদল গবেষক। রোবটটির নাম দেওয়া হয়েছে 'ডক্টোবোট'। নতুন রোবট 'ডক্টোবোট' রোগীর হার্টবিট মেপে আউটপুট ডিসপ্লেতে শো করবে, যা রোগীকে দেখাবে। শুধুরোগীকেই নয়, বিশ্বের যে কোনো প্রান্তথেকে রোগীর চিকিৎসক ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে দেখতে পারবেন। রোগীর ব্লাড প্রেশার মেপে সঙ্গে সঙ্গে জানানোর পাশাপাশি চিকিৎসকের কাছেও তথ্য পাঠাতে পারবে। এটি শরীরের তাপমাত্রা জানাতে পারবে। রোগীকে এলার্ম দিয়ে জানিয়ে দেবে 'ঔষুধ খাওয়ার সময় হয়েছে'। ভয়েজের মাধ্যমে বলবে, ঔষুধ নেওয়ার সময় হয়েছে। এ রোবটটিতে একটি মেডি ড্রয়ার রয়েছে। যেখানে রোগীর নির্ধারিত ঔষুধ  থাকবে এবং প্রেসক্রিপশন যুক্ত থাকবে। এমনকি স্মার্ট ফোনের মাধ্যমে ওই ডক্টোবোট রোগীর আত্মীয়-স্বজনকে রোগীর আপডেট জানাতে পারবে এবং রোগীকে দেখাতেও পারবে।

মায়া অ্যাপ : বাংলাদেশের নারীদের বিভিন্ন তথ্যসেবা দিতে প্রথমবারের মতো চালুহল এক অভিনব মোবাইল অ্যাপ। গুগল প্লে-স্টোর থেকে যে কেউ এই অ্যাপটি বিনামূল্যে ডাউনলোড করতে পারবেন। ব্র্যাকের অংশীদারত্ব এবং সহযোগিতায় মায়া ডট কম ডট বিডি (www.maya.com.bd) নারীদের পরামর্শ সহায়তা দিতে নিয়ে এল এই অ্যাপটি। অ্যাপটি অ্যান্ড্রয়েডভিত্তিক মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন। স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য দিয়ে সাহায্য করার পাশাপাশি নারীদের বিভিন্ন সামাজিক এবং আইনি সমস্যা সমাধানের পরামর্শদেবে। বাংলাদেশের উদ্যমী একদল নারী উদ্যোক্তা, কম্পিউটার প্রকৌশলী, ডাক্তার এবং আইনজীবী মিলে দেশের সব বয়সী নারীর জন্য তৈরি করেছেন এই মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন । ডাক্তার, আইনজীবী ও মনোসামাজিক পরামর্শকদের সমন্বয়ে গড়া একটি দল এই মোবাইল অ্যাপটির মাধ্যমে প্রতিদিন নানা ধরনের প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকেন। এই অ্যাপ্লিকেশনটি শুধুযে তথ্য ও সেবার জগতে সারাদেশের নারীদের প্রবেশ নিশ্চিত করবে তা নয়, সহযোগিতামূলক একটি সমাজ গড়তে জাতীয় ঐকমত্য তৈরিতেও সাহায্য করবে।

মেডিটর হেলথ অ্যাপ : মেডিটর হেলথ হচ্ছে একটি প্রিভেন্টিভ হেলথ কেয়ারপ্ল্যাটফর্ম, যার সহায়তায় একজন ব্যাক্তি ও তার পরিবারের সদস্যরা রোগপ্রতিরোধ এবং স্বাস্থ্য উন্নয়নের মাধ্যমে সুস্থ ও সুন্দর জীবন যাপন করতে সক্ষম হবে।মেডিটর হেলথের অন্যতম লক্ষ্য হল বাংলাদেশে বিদ্যমান স্থূলতা এবং অসংক্রামক রোগপ্রতিরোধ এবং নিয়ন্ত্রণ করা। পাশাপাশি সবার জন্য প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করণ ও স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ‘স্বাস্থ্যকর বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্য পূরণেও কাজ করে চলেছে মেডিটর হেলথ। বর্তমান পৃথিবীতে ৬৩ শতাংশেরও অধিক মানুষের মৃত্যুর প্রধান কারণ অসংক্রামক রোগসমূহ যার মধ্যে রয়েছে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, ক্যান্সার, হাপানি, রক্ত শূন্যতা ইত্যাদি। বিশেষজ্ঞদের মতে এই সকল সমস্যার সমাধানের জন্য প্রয়োজন নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ, নিয়মিত পর্যাপ্ত শারীরিক পরিশ্রম এবং দ্রুত প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ ও স্বাস্থ্য সচেতনতা।এসব সমস্যা সমাধানে বিশ্বমানের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে এলো মেডিটর হেলথ। মেডিটর হেলথের সেবা সমূহের মধ্যে রয়েছে স্মার্ট হেলথ চেকআপ, ডায়েট অ্যান্ড ফিটনেস প্ল্যান, হেলথ মনিটরিং, হেলথ গাইডলাইন এবং টেলিমেডিসিন সার্ভিস।

টনিক হেলথ অ্যাাপ : বেসরকারি মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন এবং টেলিনর হেলথ বাংলাদেশের গ্রাহকদের জন্য ‘টনিক’ নামে নতুন ডিজিটাল স্বাস্থ্য সেবা চালু করেছে। ‘টনিক’ এর মাধ্যমে দেশের মোবাইল গ্রাহকরা সহজেই ডিজিটাল স্বাস্থ্য সেবা নিতে পারবে। প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও স্বাস্থ্য খাতে গভীর দক্ষতার মিশেলে তৈরি এই সেবা নিয়ে গ্রামীণফোন সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানো এবং জাতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় আরও ইতিবাচক আবদান রাখার ব্যাপারে দারুণ রোমাঞ্চিত। টনিক এ চার ধরনের সুবিধা পাওয়া যাবে। ‘টনিক জীবন’ এর মাধ্যমে টনিক সদস্যরা এসএমএস, ওয়েব ও ফেইসবুকের মাধ্যমে প্রতিদিনকার সুস্থ জীবন-যাপনে ভালো খাওয়া, সক্রিয় থাকা এবং মানসিকভাবে সজীব থাকা নিয়ে বিভিন্ন পরামর্শ ও তথ্য পাবেন। ‘টনিক ডাক্তার’ সদস্যদের সুযোগ করে দেবে সপ্তাহের সাত দিন ২৪ ঘণ্টা ফোনের মাধ্যমে অভিজ্ঞ ডাক্তারের তথ্যবহ ও বন্ধুত্বপূর্ণ পরামর্শ পাওয়ার। 

ডাক্তারভাই অ্যাপ : স্বাস্থ্য সেবায় সবসময়’ এই অঙ্গীকার নিয়ে তথ্যপ্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবাকে সাধারণ মানুষের জন্য আরও সহজলভ্য ও সহজতর করবে ‘ডাক্তারভাই’। হেলথকেয়ার ইনফরমেশন সিস্টেম লিমিটেড নিয়ে এসেছে তাদের নতুন সেবা ‘ডাক্তারভাই’। সম্প্রতি ঢাকার ডেভোটেক টেকনোলজি পার্কে বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সদস্যদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে ‘ডাক্তারভাই’সেবা সর্ম্পকে জানানো হয়।ডিজিটাল উপায়ে স্বাস্থ্য রেকর্ড সংরক্ষণ সুবিধাটি হলো ‘ডাক্তারভাই’এর প্রধানতম আকর্ষণ। মোবাইল অ্যাপ ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ‘ডাক্তারভাই’প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে কাগজের বদলে সম্পূর্ণ ডিজিটাল উপায়ে স্বাস্থ্যরেকর্ড সংরক্ষণ করা যাবে। ‘ডাক্তারভাই’-এর মাধ্যমে সংরক্ষিত এই স্বাস্থ্য রেকর্ডসমূহ ডাক্তারএবং অন্যান্য স্বাস্থ্য সেবা প্রদানকারীদের সঙ্গেও শেয়ারও করা যাবে। স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা ‘ডাক্তারভাই’অ্যাপের মাধ্যমে অথবা ১৬৫৪৪ হটলাইনে কল করে সহজেই বুক করতে পারবেন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট। দেশব্যাপী ৫০০ থেকে অধিক পার্টনার হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ফার্মেসি ও লাইফস্টাইল আউটলেট থেকে ‘ডাক্তারভাই’স্বাস্থ্যসেবা কার্ড প্রদর্শন করে গ্রাহকেরা উপভোগ করতে পারবেন ডিসকাউন্ট।‘ডাক্তারভাই’অ্যাপ ব্যবহার করে অভিজ্ঞ ডাক্তারের কাছে সাধারণ স্বাস্থ্য সংক্রান্ত প্রশ্ন করা যাবে। অ্যাপটির মেডিসিন রিমাইন্ডার, স্লিপ রিমাইন্ডার এবং স্টেপস কাউন্ট ফিচারসমূহ ব্যবহার করার মাধ্যমে ‘ডাক্তারভাই’গ্রাহকেরা অধিকতর স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করতে পারবেন। 

বেবিটিকা অ্যাপ : মোাবাইল ফোন থেকে ৭৮৯ এ ফোন করে জরুরি মুহূর্তে সহজেই স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য জেনে নেওয়া যায়। শিশুদের টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে চালু হয়েছে ‘বেবিটিকা’ নামক অ্যাপ। এতে টিকার তারিখ নির্ধারণ, সেবা গ্রহণ ও সেবা প্রদানকারীদের আগে থেকেই তথ্য জানানো যাচ্ছে। িি.িনধনুঃরশধ.ড়ৎম ওয়েব সাইট থেকেও ঘরে বসে টিকাসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য জানা যাচ্ছে।

স্মার্টওয়াচ হেলথ অ্যাপ : স্বাস্থ্যসেবা জগতে ডিজিটাল পরিষেবার জন্য বিদ্যমান ব্যবস্থার বাইরে নিজেদের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে সম্পূর্ণ নতুন ব্যবস্থা তৈরির দিকে এগোচ্ছে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো। এ রকম অভিনব ব্যবস্থার একটি হচ্ছে অ্যাপলের স্মার্টওয়াচ, যার পর্দায় ভেসে উঠছে ব্যবহারকারীর স্বাস্থ্যের হাল হাকিকত। এই স্মার্টওয়াচ রক্তে অক্সিজেন ও গ্লুকোজের পরিমাণ সেন্সরের মাধ্যমে নির্ণয় করতে সক্ষম হচ্ছে। এই ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহারে ডায়াবেটিসের মতো সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে এমন রোগীদের নিরবচ্ছিন্ন সেবা দেওয়া সম্ভব। 

আইফোন হেলথ অ্যাপ : তিন বছর গবেষণার পর স্বাস্থ্য তথ্য প্রক্রিয়াকরণের উপযোগী করে নিজের ডিভাইস ও সফটওয়্যার গুলোকে প্রস্তুত করেছে অ্যাপল। চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারি আইফোনের সফটওয়্যারে বড় ধরনের একটি সংযোজন ঘটেছে। নতুন যুক্ত হওয়া এই সুবিধায় ব্যবহারকারীরা নিজের স্বাস্থ্য তথ্য ডিজিটালভাবে নির্ণয় করতে পারছেন। পাশাপাশি প্যাথলজিক্যাল স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমে পাওয়া বিভিন্ন তথ্যও এতে যুক্ত করা যাবে। শুধু তাই নয়, নতুন এই প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি করা যাবে ডিজিটাল স্বাস্থ্য প্রতিবেদন, যা নিজে ব্যবহারের পাশাপাশি অন্যের কাছেও পাঠাতে পারবেন ব্যবহারকারীরা। ‘হেলথ অ্যাপ’ নামের এই ডিজিটাল ব্যবস্থায় এই প্রথম একজন রোগী চিকিৎসকের কাছে না গিয়েও শরীরের রোগবালাই জানতে পারবেন। সার্বিকভাবে অ্যাপলের প্রযুক্তি পণ্যগুলো ব্যবহার করে রোগনির্ণয়ে দ্রুততা নিশ্চিত করতে পারবেন গবেষক ও চিকিৎসকেরা। 

স্বাস্থ্যসেবা অ্যাপ 'জলপাই' : অনলাইন ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন এবং ওয়েবসাইট জলপাই ডটকম। এটা মূলত স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার একটি প্লাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে ডাক্তার ও রোগীদের মধ্যে সংযোগ স্থাপনে।ব্যবহারকারীরা এর মাধ্যমে ডাক্তারের অ্যাপয়েনমেন্ট, বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের খোঁজ করা, তার রোগী দেখার স্থান, সময়, ফি সবকিছু দেখতে ও জানতে পারবেন।তিনি জানান, ডাক্তারও দেখতে পারবেন কে কে তার রোগী হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন এবং তাদের কখন সময় দেওয়া হবে তা জানাতে পারবেন। অ্যাপটির সাহায্যে ব্যবহারকারীরা জানতে পারবেন হাসপাতালের ঠিকানা, ল্যাবরেটরি, তাদের সেবা, প্যাকেজসহ অন্যান্য সার্ভিস।

স্বাস্থ্যসেবায় অগমেডিক্স : বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্বাস্থ্যসেবায় প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা উদ্যোগ অগমেডিক্স বাংলাদেশেও তাদের উদ্যোগকে বাড়াতে কাজ শুরু করেছে । অগমেডিক্সের চিকিৎসকরা গুগল গ্লাস প্রযুক্তিব্যবহার করে রোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে থাকে। এখানে ভিডিও ও অডিওর সাহায্যে খুব সহজেই ব্যবস্থাপত্র ও অন্যান্য পরামর্শ দিয়ে থাকে।দেশে চিকিৎসা ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করার ফলে আগামী তিন বছরের মধ্যে সাত থেকে আট হাজার তরুণের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব হবে। স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে এই মিশনকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়েছে অগমেডিক্স। খুব সহজেই রোগী ও ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনে এই পদ্ধতি এখন বাংলাদেশেও বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করে নারী ও শিশুস্বাস্থ্যের উন্নয়নে অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ জাতিসংঘ সাউথ-সাউথ অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছে একাধিকবার। তথ্যপ্রযুক্তি জগতের বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব বিল গেটস পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটালাইজেশন কর্মসূচির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার সুপরিকল্পিত, আধুনিক ও দূরদর্শী নেতৃত্ব বাংলাদেশকে ক্রমেই উন্নয়নের নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে তিনি মত দিয়েছেন। ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের অভিযাত্রায় দেশ একটি রূপান্তর প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। এ প্রক্রিয়ায় সনাতন পদ্ধতি আধুনিক পদ্ধতিতে রূপান্তরিত হচ্ছে। প্রায় দুই শতাব্দী ধরে চলে আসা সরকারি সেবা প্রদানের জটিল পদ্ধতি বদলে যাচ্ছে। অঙ্গীকার অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করে স্বাস্থ্যসহ পর্যায়ক্রমে প্রতিটি খাতকেই দুর্নীতিমুক্ত করার পদক্ষেপ নিয়েছেন। বর্তমান বিশ্বে অনুপম দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বের বদৌলতে জ্ঞানভিত্তিক আদর্শ ও স্বাস্থ্যসম্মত বাংলাদেশ এখন সময়ের ব্যাপার।

লেখক :  শিক্ষক ও গবেষক।

Email: sumahmud78@gmail.com


 



image
image

রিলেটেড নিউজ

Los Angeles

১০:০৫, অক্টোবর ১৯, ২০১৮

প্রকৃতির স্বর্গরাজ্য চট্টগ্রাম 


Los Angeles

২১:০০, অক্টোবর ৫, ২০১৮

শিক্ষক দিবস ও আমার প্রিয় শিক্ষক


Los Angeles

১২:০১, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৮

সিনহার বাড়ি এবং অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা


Los Angeles

২৩:০৮, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৮

অপার সম্ভাবনার পদ্মা সেতু


Los Angeles

২৩:২৬, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৮

আবারও ভোট বর্জনের পথেই হাঁটছে বিএনপি


Los Angeles

১৩:১৪, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৮

নির্বাচনমুখী রাজনীতি : আওয়ামী লীগ বনাম আওয়ামী লীগ


Los Angeles

১৯:১৫, সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৮

স্বাস্থ্যসেবায় ডিজিটাল বিপ্লব


Los Angeles

১৫:৩৬, সেপ্টেম্বর ৪, ২০১৮

সাদা শুভ্র স্কুল ড্রেস


image
image