আজ, রবিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২০ ইং

চুয়েটে বর্ণাঢ্য আয়োজনে ১৭তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন

প্রেস বিজ্ঞপ্তি    |    ১৭:০৪, সেপ্টেম্বর ১, ২০১৯

image

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, এম.পি. মহোদয় বলেছেন, টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরিসীম অবদান রয়েছে। আমাদের দেশ এখন কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে উৎপাদনশীল অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সনাতনী চিন্তাধারা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় শুধু পুঁথিগত শিক্ষাদানের মাধ্যম নয়। তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি গবেষণা ও ইন্ডাস্ট্রির সাথে সম্পর্ক বাড়াতে হবে। নতুন-নতুন আইডিয়া জেনারেট করতে হবে। সেজন্য অবকাঠামোগত উন্নয়নের চেয়ে জনকল্যাণকর গবেষণা ও প্রায়োগিক শিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্ব দিতে হবে। দেশের টেকসই উন্নয়নে এটাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষা উপমন্ত্রী বলেন, রাজধানী কেন্দ্রীক নির্ভরতা কমিয়ে এনে সুষম ব্যবস্থার দিকে যেতে হবে। প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ নিয়ে ভাবতে হবে। রাজধানীকে বাঁচাতে হলে দেশের অন্যান্য স্থানেও প্রশাসনিক সক্ষমতা বাড়াতে হবে। কারিগরি ও প্রাযুক্তিক পরামর্শ সেবার ক্ষেত্রে বৈষম্য তৈরি হচ্ছে। গুটিকয়েক প্রতিষ্ঠানভিত্তিক নির্ভরতা বেড়ে গেছে। সেটা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। অবস্থানগত কারণে বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামে চুয়েটের কাজ করার দারুণ সুযোগ রয়েছে। এখানকার শিল্পকারখানা ও উপকূলীয় অঞ্চলের সুবিধা কাজে লাগাতে হবে। সারাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অঞ্চলভিত্তিক অবদান রাখতে হবে। 

শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, বিশ্ব এখন তথ্যপ্রযুক্তির উৎকর্ষতায় ৪র্থ শিল্প বিপ্লবের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা এখন ডিজিটাল বাংলাদেশের পথেই হাঁটছি। ৪র্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবদান সবচেয়ে বেশি। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সেসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কাজ করে যেতে হবে। তিনি আরো বলেন, আমাদের প্রফেশনালিজম নিয়ে ভাবতে হবে। চুয়েটের ছাত্ররা দেশে-বিদেশে অবদান রাখছে। চুয়েটকে এগিয়ে নিতে সরকারের পক্ষ থেকে সবধরণের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। তবে কিছুতেই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না। কারণ এতে শিক্ষার্থীরাই সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হবে। বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে চুয়েটের সফলতা কামনা করছি। 

তিনি ১ সেপ্টেম্বর (রবিবার) চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)-এর ১৭তম ‘বিশ্ববিদ্যালয় দিবস’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সম্মানিত সদস্য প্রফেসর ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন এবং চুয়েটের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলম।

বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন কমিটির সভাপতি ও স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো বক্তব্য রাখেন প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. রনজিৎ কুমার সূত্রধর, পুরকৌশল অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. মো রবিউল আলম, তড়িৎ ও কম্পিউটার কৌশল অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ কামরুজ্জামান, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. ফারুক-উজ-জামান চৌধুরী এবং ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মশিউল হক। 

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন চুয়েট শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সামসুল আরেফিন, কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি প্রকৌশলী সৈয়দ মোহাম্মদ ইকরাম, কর্মচারী সমিতির সভাপতি জনাব মোঃ জামাল উদ্দীন, ছাত্র-ছাত্রীদের পক্ষে মেকাট্রনিক্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের হুমায়রা জান্নাত মীম এবং পুরকৌশল বিভাগের একেএম সাজিদ উদ্দিন আহমেদ জয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. আয়শা আক্তার, ইটিই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোঃ আজাদ হোসাইন, মানবিক বিভাগের শিক্ষক জনাবা নাহিদা সুলতানা। 

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে বর্ণাঢ্য আনন্দ র্যা লি বের করা হয়। পরে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন এবং শান্তির প্রতীক পায়রা অবমুক্ত করার মাধ্যমে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, এম.পি.।

অনুষ্ঠানের শুরুতে চুয়েটের শিক্ষা-গবেষণার বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকা- তুলে ধরে একটি প্রামাণ্যচিত্র উপস্থাপন করেন সহকারী রেজিস্ট্রার (সমন্বয়) মোহাম্মদ ফজলুর রহমান।

দিনব্যাপী আয়োজনের অন্যান্য অনুষ্ঠানমালার মধ্যে ছিলো- রক্তদান কর্মসূচী, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচী, ছাত্র বনাম শিক্ষক ও কর্মকর্তা বনাম কর্মচারী প্রীতি ফুটবল ম্যাচ, পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠান প্রভৃতি।

প্রসঙ্গত, ২০০৩ সালের ১ সেপ্টেম্বর আজকের দিনে চট্টগ্রাম প্রকৌশল মহাবিদ্যালয় থেকে বিআইটি, চট্টগ্রাম এবং পরবর্তীতে সায়ত্ত্বশাসিত একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)-এর যাত্রা শুরু হয়।



image
image

রিলেটেড নিউজ

Los Angeles

১০:৫৯, জানুয়ারী ১৫, ২০২০

যাত্রী হয়রানি বন্ধের দাবীতে বাঁশখালীবাসীর স্মারকলিপি


Los Angeles

১৬:০২, জানুয়ারী ৫, ২০২০

চুয়েটের ১১৫তম সিন্ডিকেট সভা


Los Angeles

২৩:৪৯, জানুয়ারী ২, ২০২০

ডাঃ শেখ শফিউল আজম আবারও বিডিআরসিএস বোর্ড সদস্য নির্বাচিত


Los Angeles

১৯:৩৩, জানুয়ারী ১, ২০২০

ভিসির ৬২তম জন্মদিন উদযাপন করলো চুয়েট পরিবার


Los Angeles

০০:৩৭, জানুয়ারী ১, ২০২০

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ আহবায়ক কমিটির সভা


Los Angeles

০০:১৬, ডিসেম্বর ৩১, ২০১৯

চুয়েটে মুজিব বর্ষ উদযাপন কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত


image
image
image

আরও পড়ুন

Los Angeles

২৩:১১, ফেব্রুয়ারী ১৩, ২০২০

বাঁচার আকুতি রাউজানের কিশোর ইমন’র


Los Angeles

২২:৪৫, ফেব্রুয়ারী ১৩, ২০২০

সম্ভাবনাময় পর্যটনের হাতছানি বাঁশখালীর বৈলগাঁও চা-বাগান