image

আজ, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২০ ইং

আনোয়ারায় গ্রীষ্মকালীন ব্ল্যাক বেবি তরমুজ চাষে সাফল্য (ভিডিও)

জাহাঙ্গীর আলম, আনোয়ারা সংবাদদাতা    |    ১৯:৪৫, জুন ১৭, ২০২০

image

আনোয়ারায় পরীক্ষামূলক গ্রীষ্মকালীন ব্ল্যাক বেবি জাতের তরমুজ চাষ শুরু করা হয়েছে। আনোয়ারা উপজেলা কৃষি অফিসের সহায়তায় বৈরাগ ইউনিয়নের গুয়াপঞ্চক এলাকার কৃষক মুসলেম উদ্দিন তার ৩ শতক জমিতে পরীক্ষামূলক গ্রীষ্মকালীন এই তরমুজ চাষ শুরু করেন। নতুন  ব্ল্যাক বেবি জাতের এই তরমুজের আবাদ করে সাফল্য লাভ করেন মুসলেম উদ্দিন। সুস্বাদু ও মিষ্টি এই তরমুজ মাত্র ৬০ দিনেই উৎপাদন সম্পন্ন হয়। সারা বছরই নতুন জাতের এই তরমুজের চাষ করা যায়। তবে গ্রীষ্মকালে এর ফলন ভাল হয়। এ জাতের তরমুজ’র দামও বেশি।

আনোয়ারা উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, দেশীয় জাতের থেকে নতুন ব্ল্যাক বেবি জাতের এই তরমুজের চাষের পদ্ধতি ভিন্ন। এই জাতের তরমুজ চাষ করতে কৃষকদের প্রতি বিঘা জমিতে ৫০ গ্রাম ওজনের বীজে ১২শ চারা লাগে । প্রথমে ছোট্ট, ছোট্ট পলি ব্যাগে মাটি ভর্তি করে বীজতলা তৈরি করতে হয়। এরপর প্রতিটি মাটি ভর্তি পলি ব্যাগে একটি করে বীজ বপন করে চারা তৈরি করতে হয়। চারা তৈরি হতে সময় লাগে সাত দিন। এই চারা পলিসহ মূল বেডে রোপণ করতে হয়। রোপণের আগে জমিতে নির্ধারিত পদ্ধতিতে বেড তৈরি করতে হয়। জমিতে ভালোভাবে চাষ দিয়ে মাটি সহজ করে নিতে হয় এবং নির্ধারিত সার, কীটনাশক ব্যবহার করতে হয়। তরমুজ চাষে বিশেষ কৌশল নিতে হয়। বৃষ্টির সময় সেচ না দিলেও হয়, তবে মাটির গুণাগুণ ও রস আছে কিনা তা লক্ষ্য রাখতে হবে।

প্রতি বিঘা জমিতে সবোর্চ্চ সাত থেকে আটটি বেড তৈরি করা যাবে। চারা রোপণের মাত্র ৩০ দিনেই পুরো মাচায় গাছ উঠে ফুল ও ফল ধরা শুরু হবে। বাকি ৩০ দিনের মধ্যে তরমুজ তোলার উপযুক্ত হয়ে যাবে। তবে লক্ষ্যণীয় হলো, দেশি তরমুজ মাটিতে থাকে আর এই তরমুজ মাচায় ঝুলে থাকে। এতে করে তরমুজের ওজন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লতা খেকে তরমুজ ছিঁড়ে পড়ে যাবে। এজন্য যখন তরমুজের সাইজ আড়াইশ’ গ্রাম ওজনের হবে তখন প্রতিটি তরমুজ নেটের ব্যাগ দিয়ে মাচার সঙ্গে বেঁধে দিতে হবে। কৃষক তরমুজ রোপণের পর থেকে ৬০ থেকে সর্বোচ্চ ৭০ দিনের মধ্যে বিক্রি করা যায়। নতুন জাতের তরমুজ প্রতিটি এক থেকে তিন কেজি পর্যন্ত ওজন হয়। দেশীয় তরমুজ পাঁচ থেকে ১০ কেজি হলেও দেশীয় জাতের তুলনায় নতুন জাতের এই তরমুজ খেতে সুস্বাদু ও মিষ্টি। 

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, গুয়াপঞ্চক এলাকার কৃষক মুসলেম উদ্দিন ৩শতক জমিতে ২টি বেডে মাচা তৈরী করে তরমুজ গাছ লাগায়। প্রতি বেডে ১৫০ থেকে ১৬০টি করে প্রায় ৩০০টি তরমুজ ধরেছে। বেডের নিচে বৃষ্টির পানি জমলেও তরমুজ মাচার উপরে থাকায় বর্ষাকালে বৃষ্টির পানিতে কোন ধরণের সমস্যার সম্ভাবনা নেই।

কৃষক মুসলেম উদ্দিন জানায়, উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে তিনি নতুন গ্রীষ্মকালীন এই তরমুজের চাষ করেন। ৩ শতক জমিতে বেড বা মাচা তৈরী, সার ও অন্যান্য সব মিলে তার খরচ পড়েছে সাড়ে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা। বর্তমানে তরমুজের ফলন অনুযায়ী তিনি ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকার তরমুজ বিক্রির আশাবাদী।

আনোয়ারা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাসানুজ্জামান জানান, আনোয়ারায় কৃষকরা বরাবরের মতো নতুন নতুন ফসল ও ফলমূলের আবাদ করে থাকে। নতুন ব্ল্যাক বেবি জাতের গ্রীষ্মকালীন এই তরমুজ বেশ সুস্বাদু ও মিষ্টি হওয়ায় এর চাষ করলে কৃষকরা ভালো মুনাফা করতে পারবেন। চাষের ব্যাপারে কৃষকদের আমরা সার্বক্ষণিক সহযোগিতা ও পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। আগামীতে এই পদ্ধতিতে উপজেলায় ব্যাপক আকারে তরমুজ চাষ করার চিন্তা রয়েছে।



image
image

রিলেটেড নিউজ

Los Angeles

১৬:০৬, অক্টোবর ২১, ২০২০

একজন শিক্ষক ও উদ্যোক্তা সালমার সফলতার গল্প


Los Angeles

০০:৪০, আগস্ট ১৩, ২০২০

চন্দনাইশের স্বাস্থ্যসম্মত পেয়ারা যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়ঃ ভালো দাম পেয়ে খুশি বাগানিরা  


Los Angeles

২৩:৫২, জুলাই ৪, ২০২০

কোভিড পরীক্ষার ফি ‘মরার ওপর খাড়ার ঘা’ : ক্যাব


Los Angeles

১৯:৪৫, জুন ১৭, ২০২০

আনোয়ারায় গ্রীষ্মকালীন ব্ল্যাক বেবি তরমুজ চাষে সাফল্য (ভিডিও)


Los Angeles

১৮:২২, জুন ৪, ২০২০

দোহাজারীর বাজার কচি তালে সয়লাব : শাঁস বিক্রি বেড়েছে বহুগুন


Los Angeles

২২:১৩, এপ্রিল ১৩, ২০২০

দোহাজারী পাইকারী সবজি বাজারে বিক্রেতাদের মাথায় হাত !


Los Angeles

০০:০৮, এপ্রিল ১১, ২০২০

মিরসরাইয়ে করোনায় ক্ষতির মুখে পোল্ট্রি দুগ্ধ খামারি ও মৎস্য চাষী


image
image