image

আজ, মঙ্গলবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০১৯ ইং

সীতাকুন্ড উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গনে অবৈধ গ্যারেজ ও ইট-বালির ব্যবসা : জনদূর্ভোগ চরমে

সীতাকুন্ড সংবাদদাতা    |    ১৭:৫৬, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৮

image

সীতাকুন্ড উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গনে অবৈধভাবে গ্যারেজ ও ইট,বালির ব্যবসা করার অভিযোগ উঠেছে। ক্ষমতার অপব্যবহার এর মাধ্যমে অফিস চলাকালে কাজ ফাঁকি দিয়ে প্রতিদিন এ অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন ইউএনওর গাড়ি চালক অলিউর রহমান এবং উপজেলা চেয়ারম্যান অফিসের পিয়ন আজিম উদ্দিন। অসাধু এ দুই ব্যক্তি পরিচয়কে পুঁজি করে দীর্ঘদিন ধরে বেপোরোয়া দূর্ণীতি করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট অফিসের কর্তা ব্যক্তিদের পরিচয় বিক্রি করে চলা এ দু’জনের কাছে জিম্মি হয়ে আছেন উপজেলার অধিকাংশ দপ্তরের কর্মকর্তারা।

জানা যায়,২০০৫ সালে ইউএনওর গাড়ি চালক হিসাবে সীতাকু-ে যোগ দেন অলিউর রহমান। যোগদানের পর তিনি সরকারী নিয়ম অনুযায়ী নিজের জন্য বরাদ্ধকৃত কোয়াটারে  না উঠে উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় মাষ্টার রোলে কর্মরত মোহাম্মদ দিদারুল আলম মামুনের নামে বাসা বরাদ্ধ দেখিয়ে সেখানে বসবাস শুরু করেন। এতে সরকারী নিয়ম অনুযায়ী মূল বেতনের ৪৫ শতাংশ ঘড়ভাড়া বাবদ পরিশোধ করার কথা থাকলেও তিনি প্রতিমাসে ঘড়ভাড়ার ৯৪৬৬ টাকা তুলে নিচ্ছেন। তবে স্বপরিবারে গ্রামের বাড়িতে বসবাস করা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার অফিস সহায়ক মামুনের নামে বরাদ্ধ নেওয়া রুমের ভাড়া দুই হাজার টাকা পরিশোধ করছেন অলি। এতে একযুগেরও অধিক সময় ধরে চলা অনিয়মে কারনে লক্ষ লক্ষ টাকা রাজস্ব বঞ্চিত হয়েছে সরকার। এছাড়াও উপজেলা কম্পাউন্ডের ভেতরের সরকারী গ্যারেজকে নিজের গাড়ির গ্যারেজ বানিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গাড়ির ব্যবসা পরিচালনারও অভিযোগ রয়েছে অলির বিরুদ্ধে। 

জানা গেছে,উপজেলায় যোগদানের পর সরকারী রাজস্ব ফাঁকির পাশাপাশি ঘুষ বাণিজ্য ও নানা ধরনের অপকর্মে জড়িয়ে পড়েন অলিউর রহমান। তার একক আধিপত্যের কারনে জিম্মি হয়ে পড়েন উপজেলার অধিকাংশ কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। তবে ২০১৬ সালের মে মাসে উপজেলা চেয়ারম্যান কার্যালয়ে অফিস সহায়ক হিসাবে যোগদান করা যুবদল ক্যাডার আজিম উদ্দিনের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেন অলিউর রহমান। তারা নানা অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যর পাশাপাশি ঠিকাদার বখতিয়ারের যোগশাযোগে উপজেলার ভেতরে অবৈধ ইট,বালির ব্যবসা শুরু করেন। সম্প্রতি ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত উপজেলার প্রশাসনিক ভবনে নিম্মমানের ইট,বালি বিক্রির মাধ্যমে দু’জনে হাতিয়ে নেয় মোটা অংকের টাকা।

সূত্রে জানা যায়,ফেনী সোনাগাজি ছাড়াইতকান্দি এলাকার আজিম উদ্দিন ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতা থাকাকালীন  স্থানীয় যুবদলের ক্যাডার হিসাবে বিভিন্ন ধরনের নাশকতামূলক কর্মকান্ড চালায়। কিন্তু  ২০০৯ সালে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পর নিজ এলাকা থেকে সীতাকু-ে পালিয়ে আসেন আজিম। সীতাকু-ে একটি এনজিও সংস্থায় চাকুরীর সুবাধে ভাটেরখীল এলাকার সিএনজি চালক কাশেমকে ঋন বিতরণের মাধ্যমে তার সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেন। পরবর্তীতে তার সহযোগিতায় মুরাদপুরের স্থানীয় বাসিন্দা পরিচয়ে আইড কার্ড বানানো এবং সর্বশেষ আ’লীগ পরিচয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান কার্যালয়ে চাকুরির ব্যবস্থা করেন। চাকুরীতে যোগদানের পর ইউএনও গাড়ি চালক অলির সাথে সখ্যতার মাধ্যমে ঘুষ বাণিজ্য,অবৈধ ইট বালির ব্যবসার পাশপাশি নানা ধরনের অনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়েন। এছাড়া ২০১৪ সালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নাশকতা চলাকালে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করারও অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

মাস্টার রোল কর্মচারী মামুন বলেন, আমার নামে বরাদ্দকৃত বাসাতেই ইউএনও চালক অলিউর রহমান পরিবার নিয়ে থাকেন। ঘরভাড়া বাবত আমার সরকারি যে রাজস্ব আসে তা তিনি ব্যাংকে দিয়ে তাকেন। সরকারি নিয়মে এটা করা যায় কিনা জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান

উপজেলা পরিষদের সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীরা বলেন,অলি ও আজিম উদ্দিন ইউএনও’র ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে নানাভাবে অপমান করেন তাদের। অনেকে প্রতিকার চেয়েও কোন প্রতিকার পান না। সেই লজ্জায় কাউকে বলেনও না তারা।

ইউএনও গাড়ি চালক অলিউর রহমান বলেন, আমি সরকারি নিয়মে কোয়াটারে থাকি। কোয়াটারটি উপজেলা দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা মাস্টার রোলের কর্মরত অফিস সহায়ক মোহাম্মদ দিদারুল আলম মামুনের বরাদ্দ। তাকে আমি প্রতিমাসে চার হাজার টাকা করে প্রদান করে থাকি। এছাড়া কোয়াটারের সামনে গাড়ির গ্যারেজটি ইউএনওর অনুমতি নিয়ে করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। অলি আরও বলেন এরকম আরো অনেকে এই উপজেলায় থাকে। সে হিসাবে আমি থাকলে তো দোষের কিছু নেই।

অপরদিকে উপজেলা চেয়ারম্যান সহকারী আজিম উদ্দিনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলৌ তিনি মুঠোফোন রিসিভ না করায় মন্তব্য জানা যায়নি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তারিকুল আলম বলেন,সরকারি কোয়াটারে থাকলে বেসিকের ৪৫% বাসা ভাড়া পেয়ে থাকে কর্মকর্তা কর্মচারীরা। যারা কোয়াটার ব্যববহার করবে তাদের বাসাভাড়ার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে। গাড়ি চালক অলি যদি সরকারি কোন নিয়মের ব্যতায় ঘটায় তাহলে তাকে যতদিন ওই বাসা ব্যবহার করেছে তার সমপরিমান রাজস্ব সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে। এছাড়া উপজেলা কম্পাউন্টে কোন কর্মকর্তা কর্মচারী ব্যক্তিগত গাড়ি রাখার জন্য অনুমতি নিয়ে গ্যারেজ করতে পারেন। উপজেলা প্রাঙ্গনে অলি ও আজিমের ইট,বালির ব্যবসা সম্পর্কে আমি অবগত ছিলাম না। বিষয়টি খতিয়ে দেখে সহসাই ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।



image
image

রিলেটেড নিউজ

Los Angeles

২২:৩৭, ফেব্রুয়ারী ১৮, ২০১৯

১০২ ইয়াবা আত্মসমর্পণকারীদের বিরুদ্ধে যে মামলা দেখানো হয়েছে


Los Angeles

০০:১৮, ফেব্রুয়ারী ১৬, ২০১৯

উখিয়ায় স্কেভেটর দিয়ে চলছে প্রকাশ্যে পাহাড় কর্তন


Los Angeles

০০:০৭, ফেব্রুয়ারী ১৫, ২০১৯

স্থানীয়দের মধ্যে মিশে যাচ্ছে রোহিঙ্গারা : সনাক্তে হিমশিম খাচ্ছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী


Los Angeles

১৪:৪৮, ফেব্রুয়ারী ১১, ২০১৯

সাংবাদিক দম্পতী সাগর- রুনী হত্যা : ৭ বছরেও ৪৮ ঘন্টা শেষ হয়নি


Los Angeles

২৩:১৩, ফেব্রুয়ারী ৯, ২০১৯

উখিয়ার ইনানীর হোটেল মোটেল গুলোতে বাঁশ দিয়ে তৈরি ঝুপড়ি ঘর পর্যটকদের দৃষ্টি কেড়েছে


Los Angeles

২৩:২৮, ফেব্রুয়ারী ৪, ২০১৯

কুতুবদিয়ায় কোনভাবেই বন্ধ হচ্ছে না কোচিং বাণিজ্য


Los Angeles

১৯:৩৮, ফেব্রুয়ারী ২, ২০১৯

ক্যাম্প থেকে পালাচ্ছে রোহিঙ্গারা


image
image