image

আজ, রবিবার, ৭ মার্চ ২০২১ ইং

তৃতীয় সাবমেরিন কেবলের যুগে বাংলাদেশ

মো. আবুল বশার    |    ২৩:২৬, জানুয়ারী ২১, ২০২১

image

ছবি-প্রতীকী

বাংলাদেশ ২০০৫ সালে দেশে প্রথমবারের মতো সাবমেরিন ক্যাবল ‘এসএমডব্লিউ-৪’ এ যুক্ত হয়।  যার মাধ্যমে ২৫০ জিবিপিএস (গিগাবাইট পার সেকেন্ড) ব্যান্ডউইথ পাওয়া যায়। বিএসসিসিএল ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো এ তথ্য জানিয়ে বলছে, দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল এবং অন্যান্য আইটিসি দিয়ে সংযোগ স্থাপন থাকায় এ সময়ে ইন্টারনেট গতিতে তেমন সমস্যা হবে না।প্রথম সাবমেরিন কেবলে ত্রুটি দেখা দিলে আমদানি নির্ভরতা ও বিকল্প না থাকায় ইন্টারনেট সেবা বিঘ্নিত হতো। তবে দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবলে যুক্ত হওয়ায় এই সমস্যা কেটে গেছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ছয়টি বিকল্প সাবমেরিন ক্যাবলের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।

এসএমডব্লিউ-৪ থেকে ২৫০ জিবিপিএস (গিগাবাইট পার সেকেন্ড) ব্যান্ডউইথ সরবরাহ করা হয়। গত বছর পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় চালু হয়েছে দেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশন। এ ল্যান্ডিং স্টেশনের মাধ্যমে সাউথইস্ট এশিয়া-মিডলইস্ট-ওয়েস্টার্ন ইউরোপ (এসইএ-এমই-ডব্লিউই-৫) আন্তর্জাতিক কনসোর্টিয়ামের সাবমেরিন কেবল থেকে সেকেন্ডে ১৫০০ গিগাবাইট (জিবি) গতির ইন্টারনেট পাবে বাংলাদেশ।বিএসসিসিএল সূত্রে জানা যায়, দেশে ইন্টারনেটের চাহিদা ৪০০ জিবিপিএসের বেশি। এর মধ্যে ১২০ জিবিপিএস এতোদিন রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি বিএসসিসিএল সরবরাহ করেছে। বাকি ২৮০ জিবিপিএস আইটিসির ব্যান্ডউইথ ভারত থেকে আমদানি করা হয়। বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে দুটি সাবমেরিন মতো যুক্ত হয়েছে। এগুলো হলো বিএনএস নবযাত্রা ও বিএনএস জয়যাত্রা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রামের বিএনএস ঈসা খাঁ নৌ জেটিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে চীন থেকে পাওয়া সাবমেরিন দুটির কমিশনিং করেন। চীন থেকে কেনা এ দুটি সাবমেরিন চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছায় গত ২০১৭ সালের ২২ ডিসেম্বর। বিএনএস শেখ হাসিনা কার্যত বাংলাদেশের প্রথম সাবমেরিন ঘাঁটি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলো। আর দুই সাবমেরিনের কমিশনিং এর মাধ্যমে গু’টিকয় সাবমেরিন পরিচালনাকারী দেশের তালিকায় যোগ হলো বাংলাদেশের নাম। এর মধ্যদিয়ে বাংলাদেশ শত্রু মোকাবিলার সক্ষমতা আরো বাড়লো। ত্রিমাত্রিক নৌবাহিনীর রূপকার শেখ হাসিনা এ সময় নবযাত্রা সাবমেরিনের অধিনায়ক কমান্ডার কে এম মামুনুর রশিদ ও জয়যাত্রা সাবমেরিনের অধিনায়ক লে.কমান্ডার মাজহারুল ইসলামের হাতে কমিশনিং ফরমান তুলে দেন। নৌবাহিনীর রীতি অনুযায়ী সাবমেরিন দু’টির নামফলকও উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী।

নতুন সাবমেরিনের কমিশনিং ও ঘাঁটির আত্মপ্রকাশের মাধ্যমে সুদীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ত্রিমাত্রিক শক্তিতে রূপ নেয় বাংলাদেশ নৌবাহিনী। এর ফলে বিশাল জলসীমার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়লো। পাশাপাশি তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের ব্লকগুলোতে নিরাপত্তাসহ সার্বিকভাবে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন ঘাঁটিতে থেকে সাবমেরিন দু’টির সহায়ক ভূমিকা পালনের সুযোগ তৈরি হলো। নৌবাহিনীর জন্য এক হাজার ৫৬৯ কোটি টাকায় দুটি সাবমেরিন কেনার জন্য চীনের সঙ্গে ২০১৪ সালে চুক্তি করে বাংলাদেশ। ২০১৬ সালের ১৪ নভেম্বর সাবমেরিন দুটি চীনের দালিয়ান প্রদেশের লিয়াওয়ান শিপইয়ার্ডে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল নিজাম উদ্দিন আহমেদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

সী ট্রায়ালের পর চীন ও বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ও নাবিকদের তত্ত্বাবধানে ২২ ডিসেম্বর সাবমেরিন দুটি বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়। সাবমেরিন দুটির প্রতিটির দৈর্ঘ্য ৭৬ মিটার ও প্রস্থ সাড়ে ৭ মিটার।   টর্পেডো ও মাইনে সুসজ্জিত সাবমেরিনগুলো শত্রুপক্ষের যুদ্ধজাহাজ ও ডুবো জাহাজে আক্রমণ চালাতে সক্ষম। পূর্ণ ধারণক্ষমতা নিয়ে এগুলোর গতিবেগ ঘণ্টায় ১৭ নটিক্যাল মাইল। এরই ধারাবাহিকতায় তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবলে যুক্ত হতে চলছে বাংলাদেশ। চাহিদা অনুযায়ী উচ্চ গতির ইন্টারনেট নিশ্চিত করার জন্য প্রায় সাতশ কোটি টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশকে তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবলের সঙ্গে যুক্ত করার প্রস্তাবে সায় দিয়েছে সরকার। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ প্রস্তাবে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নেওয়া ‘বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা সমপ্রসারণের লক্ষ্যে তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপন এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল)।

এদিকে বাংলাদেশ থেকে ব্যান্ডউইথ কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে সৌদি আরব, ভারত, নেপাল ও ভুটান। আনুষ্ঠানিকভাবে ভুটান ও ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য প্রস্তাব দিয়েছে, অনানুষ্ঠানিকভাবে আগ্রহ প্রকাশ করেছে সৌদি আরব ও নেপাল। বিষয়টি একনেক সভায় জানান ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। এতে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এদিকে ইন্টারনেট সেবা রিমোট এলাকায় নিয়ে যেতে বিটিসিএলকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। শুধু নগরে নয়, হাওর-বাওড় ও পাহাড়ি এলাকায় ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দিতে বিটিসিএলকে নির্দেশ দেন তিনি। এ প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৯৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় ৩০১ কোটি টাকা সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে যোগান দেওয়া হবে। বাকি ৩৯২ কোটি টাকার যোগান দেবে প্রকল্প বাস্তবায়কারী কোম্পানি বিএসসিসিএল। চলতি বছরের অক্টোবরে বাস্তবায়নের কাজ শুরু করে ২০২৪ সালের জুনের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। বর্তমানে কক্সবাজার ও কুয়াকাটার ল্যান্ডিং স্টেশনের মাধ্যমে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া, মধ্য পূর্ব পশ্চিম ইউরোপ-৪ বা (এসএমডব্লিউ-৪) ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া ও পূর্ব এশিয়া, মধ্য পূর্ব পশ্চিম ইউরোপ-৫ (এসএমডাব্লিউ-৫) সাবমেরিন ক্যাবলে যুক্ত হয়ে বিএসসিসিএল ব্যান্ডউইথ সেবা দিচ্ছে। নতুন প্রকল্পের আওতায় এসএমডাব্লিউ-৬ সাবমেরিন ক্যাবলে যুক্ত হতে ১৩ হাজার ২৭৫ কিলোমিটার কোর সাবমেরিন ক্যাবল এবং এক হাজার ৮৫০ কিলোমিটার ব্রাঞ্চ সাবমেরিন ক্যাবল বসাতে হবে।

প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে, সিঙ্গাপুর থেকে ফ্রান্স পর্যন্ত সংযুক্ত এসএমডাব্লিউ-৬ সাবমেরিন ক্যাবল ভারত মহাসাগর, আরব সাগর, লোহিত সাগর হয়ে ভূমধ্যসাগর অবধি বিস্তৃত হবে। এর কোর ল্যান্ডিং স্টেশন হবে সিঙ্গাপুর, ভারত, জিবুতি, মিশর ও ফ্রান্সে। বাংলাদেশের ব্রাঞ্চটি বঙ্গোপসাগর হয়ে কক্সবাজারে ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশন পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ইন্টারন্যাশনাল লংডিস্টেন্স টেলিকমিউনিকেশনস সার্ভিস (আইএলডিটিএস) পলিসি ও আইসিটি নীতিমালার আলোকে দেশে উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট নিশ্চিত করতে বিএসসিসিএল অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে। বিটিআরসি থেকে লাইসেন্স পাওয়া তিনটি ইন্টারন্যাশনাল টেরেস্ট্রিয়াল ক্যাবল (আইটিসি) সার্ভিসেস অপারেটর কোম্পানিও একই কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে দেশের চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ ব্যান্ডউইথ বিএসসিসিএল এককভাবে সরবরাহ করছে। ২০২১ সাল নাগাদ দেশে ৫জি সেবা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। সেক্ষেত্রে ব্যান্ডউইথের চাহিদা আরও বৃদ্ধি পাবে। ২০০৫ সালে বাংলাদেশ প্রথম সাবমেরিন ক্যাবল এসএমডাব্লিউ-৪ এবং ২০১৭ সালে দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল এসএমডাব্লিউ-৫ এ যুক্ত হয়। আলাদা দুটি কনস্টোমিয়ামের মাধ্যমে এই সাবমেরিন ক্যাবল দুটি পরিচালিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বাংলাদেশের জন্য নির্ভরযোগ্য ও কার্যকর আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো হিসেবে তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবল সিস্টেম স্থাপন প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ৬৯৩ কোটি ১৬ লাখ ৭১ হাজার টাকা। সাবমেরিন প্রকল্প ছাড়াও আরো তিনটি প্রকল্পের সংশোধন আনা হয়েছে। অনুমোদিত ৪ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ১১৫ কোটি ২০ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ১ হাজার ৪৪০ কোটি ৮৭ লাখ টাকা, সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৩০০ কোটি ৮৩ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক উৎস থেকে পাওয়া ঋণ ৩৭৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা। বাংলাদেশ থেকে ব্যান্ডউইথ কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে সৌদি আরব, ভারত, নেপাল ও ভুটান। আনুষ্ঠানিকভাবে ভুটান ও ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য প্রস্তাব দিয়েছে, অনানুষ্ঠানিকভাবে আগ্রহ প্রকাশ করেছে সৌদি আরব ও নেপাল। প্রতিদিন দেশেও ব্যান্ডউইথের চাহিদা বাড়ছে। এছাড়া ২০২৫ সালে একটি সাবমেরিন ক্যাবল অকেজো হয়ে যাবে। এজন্য সময়োপযোগী একটি প্রকল্প হাতে নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী খুশি হয়েছেন। এ প্রকল্পের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হবে।

তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপন বিষয়ে জানানো হয়, বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। সিঙ্গাপুর থেকে ফ্রান্স পর্যন্ত সংযুক্ত SEA-ME-WE-6 সাবমেরিন ক্যাবলটি ভারত মহাসাগর, আরব সাগর, লোহিত সাগর হয়ে ভূ-মধ্য সাগর অবধি বিস্তৃত হবে। ক্যাবলটির কোর ল্যান্ডিং স্টেশন হবে সিঙ্গাপুর, ভারত, জিবুতি, মিশর ও ফ্রান্সে। বাংলাদেশের ব্রাঞ্চটি বঙ্গোপসাগর হয়ে কক্সবাজারস্থ ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশন পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। অক্টোবর ২০২০ থেকে জুন ২০২৪ পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। অনুমোদিত অন্যান্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘নরসিংদী জেলার অন্তর্ভুক্ত আড়িয়াল খাঁ নদী, হাড়িদোয়া নদী, ব্রহ্মপুত্র নদ, পাহাড়িয়া নদী, মেঘনা শাখা নদী ও পুরাতন ব্রহ্মপুত্র শাখা নদ পুনঃখনন’ প্রকল্পের প্রথম সংশোধন আনা হয়েছে। এর মূল খরচ ছিল ৫০০ কোটি ২৮ লাখ টাকা। প্রথম সংশোধনীতে ৪০৩ কোটি ১৪ লাখ টাকা খরচ বাড়িয়ে করা হয়েছে ৯০৩ কোটি ৪২ লাখ টাকা। প্রকল্পটি ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে শুরু হয়েছে। ২০২১ সালের জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সংশোধনীতে এর মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। তার মধ্যে ‘ডিজিটাল সংযোগের জন্য টেলিকমিউনিকেশন নেটওয়ার্ক আধুনিকীকরণ’ প্রকল্পের প্রথম সংশোধন আনা হয়েছে। প্রকল্পটির মূল খরচ ছিল ২ হাজার ৫৭৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা। সংশোধনীতে ৭৪১ কোটি ৫৪ লাখ বাড়িয়ে করা হয়েছে ৩ হাজার ৩১৪ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। প্রকল্পটি ২০১৭ সালের জুলাইয়ে শুরু হয়েছে। ২০২০ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা ছিল। সংশোধনীতে মেয়াদ বাড়িয়ে করা হয়েছে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত। প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে ইন্টারনেট সেবার উন্নয়নে তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবলে যুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশ। সরকার আশা করছে, ফাইভ জি বা পঞ্চম প্রজন্মের প্রযুক্তির যুগে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধিতে মাইলফলক হবে এই ক্যাবল। আসছে  এপ্রিলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের এই সম্মিলিত উদ্যোগে (কনসোর্টিয়াম) যুক্ত হতে চুক্তি করবে সরকার। ফলে আগামী ২০২৩ সালের জুন থেকে সাবমেরিনের মূল ক্যাবলের সুবিধা পাবে বাংলাদেশ। এতে আগামী ২০৩০ সাল পর্যন্ত ইন্টারনেটের চাহিদা মিটবে। বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেড-বিএসসিসিএল সূত্র জানায়, নতুন সাবমেরিন ক্যাবলের জন্য গঠিত সি-মি-উই ৬ কনসোর্টিয়ামের সদস্য হয়েছে বাংলাদেশ। সিঙ্গাপুর ও শ্রীলঙ্কার মধ্যবর্তী স্থানে সি-মি-উই ৬ কনসোর্টিয়ামে যুক্ত হবে এই ক্যাবল। কনসোর্টিয়ামের মাধ্যমে কক্সবাজার থেকে সিঙ্গাপুরের দিকে ও কক্সবাজার হতে ফ্রান্সের দিকে ৫ টেরাবাইট করে মোট ১০ টেরাবাইট ব্যান্ডউইথ ইন্টারনেট পাবে বাংলাদেশ। এতে যুক্ত হতে কক্সবাজার ল্যান্ডিং স্টেশন হতে গভীর সমুদ্রের মূল লাইনের দূরত্ব হবে ১ হাজার ৮৫০ কিলোমিটার। এ সংযোগের জন্য খরচ হবে ৬৯০ কোটি টাকা। যার ৮৯ শতাংশ খরচ হবে শুধু ক্যাবল বাবদ। আগামী ১৭ জানুয়ারি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে এ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এপ্রিলে কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে মূল চুক্তি করবে বাংলাদেশ। এজন্য গত সেপ্টেম্বরে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হয়।

এ প্রসঙ্গে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, আমরা এখন ফাইভ জি প্রযুক্তির যুগে আছি। কিন্তু এখনো নিম্নমানের ব্রডব্যান্ড ব্যবহার করছি। এই বাস্তবতায় প্রযুক্তির উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে মাইল ফলক হয়ে আসবে তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবল। আসছে এপ্রিলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের এই কনসোর্টিয়ামে যুক্ত হওয়ার চূড়ান্ত চুক্তি হবে। ফলে ২০২৩ সালে তৃতীয় সাবমেরিনের মূল ক্যাবলে যুক্ত হবে বাংলাদেশ। এই সংযুক্তির ফলে আগামী ২০৩০ সাল পর্যন্ত আমাদের ব্যান্ডউইথ চাহিদা মিটবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ প্রযুক্তিগত উন্নয়ন করেছে। তার সঙ্গে নতুন সাবমেরিন ক্যাবল দীর্ঘমেয়াদি চাহিদা মেটাবে।সি-মি-উই ৬ কনসোর্টিয়ামে সিঙ্গাপুর-ফ্রান্স সংযোগের ক্যাবল দূরত্ব ২০ হাজার কিলোমিটার। এই ক্যাবলটিতে বাংলাদেশ ছাড়াও ১৬টি দেশ সংযুক্ত হবে। এরমধ্যে চীন থেকেই যুক্ত হবে ৩টি কোম্পানি। ল্যান্ডিং স্টেশন থাকবে ২০টি। গত বছর ১৪ সেপ্টেম্বর এই কনসোর্টিয়ামে যোগ দিয়েছে বাংলাদেশ। সিঙ্গাপুর-ফ্রান্স পর্যন্ত সি-মি-উই ৬ এর যে মূল রুট হবে সেটি বাংলাদেশ হতে ১৮৫০ কিলোমিটার দূর দিয়ে যাবে। এই দূরত্বই হচ্ছে বাংলাদেশের নিজেদের রুট। আর নিজেদের রুটের ক্যাবল বসানোর পুরো খরচ বহন করবে বাংলাদেশ। এটি এক্সটেনশন করে সি-মি-উই ৬’র জন্য ব্যবহার করা হবে। সি-মি-উই হচ্ছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য এবং পশ্চিম ইউরোপের সংক্ষিপ্ত নাম। এই এলাকার মধ্য দিয়ে ক্যাবলটি স্থাপিত বলে প্রতিটি ক্যাবলের নামে এমনটা যুক্ত থাকে। সর্বশেষ সি-মি-উই ৫ কনসোর্টিয়ামে এই এলাকার দেশগুলোর মধ্যে ছিল বাংলাদেশ, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, ভারত, পাকিস্তান, সৌদি আরব, কাতার, ওমান, ইউএই, জিবুতি, মিসর, তুরস্ক, ইতালি, ফ্রান্স, মিয়ানমার, ইয়েমেন। এই ১৯ দেশ ১৯টি ল্যান্ডিং পয়েন্টের মাধ্যমে যুক্ত হয়েছে। ২০২১ সাল নাগাদ নতুন সাবমেরিনে যুক্ত হতে পারে বাংলাদেশ। নিজেদের তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবলের জন্য নতুন সি-মি-উই ৬ কনসোর্টিয়ামে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ। ইতিমধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়ে এ কনসোর্টিয়ামের উদ্যোক্তাদের জানিয়ে দেয়া হয়েছে, বাংলাদেশ এই ক্যাবলে থাকছে।

সি-মি-উই (SEA-ME-WE) হচ্ছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য এবং পশ্চিম ইউরোপের সংক্ষিপ্ত নাম। এই এলাকার মধ্য দিয়ে ক্যাবলটি স্থাপিত বলে প্রতিটি ক্যাবলের নামে এমনটা যুক্ত থাকে। যেমন সি-মি-উই ৪, সি-মি-উই ৫। সর্বশেষ সি-মি-উই ৫ কনসোর্টিয়ামে এই এলাকার দেশগুলোর মধ্যে ছিল বাংলাদেশ, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, ভারত, পাকিস্তান, সৌদি আরব, কাতার, ওমান, ইউএই, জিবুতি, মিসর, তুরস্ক, ইতালি, ফ্রান্স, মিয়ানমার, ইয়েমেন। এই ১৯ দেশ ১৯টি ল্যান্ডিং পয়েন্টের মাধ্যমে এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। নতুন সি-মি-উই ৬ কনসোর্টিয়ামেও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য এবং পশ্চিম ইউরোপ থেকেই দেশগুলো যুক্ত হবে।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার জানান, সি-মি-উই ৬ এ যোগ দেয়ার বিষয়টি ইতিমধ্যে অফিসিয়ালভাবে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। অতীতের ৫টি কনসোর্টিয়ামই খুব সাকসেসফুলি রান করা হয়েছে। ক্যাবল লাইন কেবলমাত্র হওয়া না, ক্যাবল লাইন সিগনেফিকেন্টটি-টেকনোলজিক্যালি সাউন্ড হয় সেটাই ফ্যাক্টর। এই সি-মি-উই রুটে এখন যে কোনো কনসোর্টিয়াম সাকসেসফুল হবে। ‘ইন্ডিভিজ্যুয়াল লাইন করতে গেলে বা দু-একজনকে নিয়ে একটা কানেক্টিভিটি করতে গেলে সেটি ব্যয়বহুল হয়ে যায়।

লেখক : মো. আবুল বশার, পিআইডি চট্টগ্রাম।



image
image

রিলেটেড নিউজ

Los Angeles

১৭:১৩, মার্চ ২, ২০২১

২ মার্চ বঙ্গবন্ধুর সাংবাদিক সম্মেলন


Los Angeles

২০:০০, মার্চ ১, ২০২১

আসুন, পরিষদেই সমাধান খোঁজা হইবে : বঙ্গবন্ধু


Los Angeles

০১:১৮, ফেব্রুয়ারী ১৭, ২০২১

অনেক বিজয়ও পরাজয়ের গ্লানি বহন করে


Los Angeles

০০:৫৭, ফেব্রুয়ারী ১৭, ২০২১

প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও মর্যাদা : প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ


Los Angeles

০০:৫৩, ফেব্রুয়ারী ১৪, ২০২১

মানবিক ও বাসযোগ্য হোক পটিয়া পৌরসভা


Los Angeles

০০:৪২, ফেব্রুয়ারী ১৪, ২০২১

ভালোবাসা  প্রতিক্ষণ; কেন ভ্যালেনটাইনস ডে উদযাপন !!!


image
image
image

আরও পড়ুন

Los Angeles

১৫:৩৮, মার্চ ৬, ২০২১

বাইশারী ইউপি : আওয়ামীলীগের মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে আলম-বাহাদুর


Los Angeles

০৯:১০, মার্চ ৬, ২০২১

দোহাজারী চৌকিদার দোকান-দুর্গাবাড়ি মন্দির-বৈল্লাপুকুর সড়কের নড়ক যন্ত্রণা শোনার কেউ নেই!!!