image

আসন্ন রমজানকে ঘিরে চিনি নিয়ে চলছে ছিনিমিনি খেলা

image

রমজানকে সামনে রেখে সরকারের চিনি নিয়ে একটি মহল ছিনিমিনি খেলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।ভারত থেকে দুই বছরের বেশী সময় আগে আমদানি করা প্রায় সোয়া লাখ টন চিনি দুই বছরেরও বেশী সময় চট্টগ্রামের গুদামে পরে আছে। চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের তৎকালীন চেয়ারম্যান একেএম দেলোয়ার হোসেনকে বার বার ডিলার সমিতি তাগিদ দেয়া সত্বেও ডিলারদের চিনি দেয়া হয়নি এমনটাই জানালেন বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের ডিলার সমিতির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল।

ডিলার সমিতির সভাপতি জানান, ফ্রি সেলের নামে চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের গোডাউনের সকল চিনি একটি সংঘবদ্ধ বাজার নিয়ন্ত্রণ সিন্ডিকেটের হাতে তুলে দিয়ে রমজানে চিনির বাজারে অস্হিরতা সৃষ্টির চক্রান্ত করছে।

তিনি বলেন, আমরা এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

মঙ্গলবার দুপুরে শিল্প ভবনে এই প্রতিনিধির সঙ্গে আলাপ কালে তিনি আরো বলেন, বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এমদাদুল দস্তগীরকে বিষয়টি অবহিত করা হলে তিনি ফ্রি সেল বন্ধের বিষয়টি দেখবেন বলে জানান।

এদিকে চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে, দুই বছরেরও বেশী সময় আগে ভারত থেকে এক লাখ আট হাজার টন চিনি আমদানি করা হয়।কিন্তু রহস্যজনক কারণে দুই বছরেরও বেশী সময় ধরে এই চিনি চট্টগ্রামের গোডাউনেই ফেলে রাখা হয়। ডিলাররা বার বার তাগিদ দেয়ার পরও তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত  চেয়ারম্যান একেএম দেলোয়ার হোসেন রহস্যজনক কারণে চিনির মওজুদ করে রাখেন। পরবর্তীতে দেলোয়ার হোসেনকে তার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে এমদাদুল দস্তগীরকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেয়া হয়।এরপর একটি চক্র ডিলারদের মাধ্যমে চিনি না বিক্রি করে ফ্রী সেলের নামে একটি মহলের হাতে সরকরের সব চিনি তুলে দেয়ার পাঁয়তারা করছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,বাংলাদেশের চিনির বাজার নিয়ন্ত্রণ করে এমন একটি চক্র সরকারের এই সব চিনি তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে রমজানে চিনির বাজারের মূল্য নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি তাদের হাতে নিতে চাচ্ছেন।কারণ সরকারের হাতে চিনির বাজার না থাকলে ওই চক্র তাদের ইচ্ছা মতো দাম নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাবে। গত মার্চ মাসে নতুন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এমদাদুল দস্তগীর দায়িত্ব নিলেও দুষ্ট চক্রই ঘিরে আছে তাকে।এখনো ওই চক্র ফ্রী সেলের নামে চিনি একটি বিশেষ মহলের কাছে বিক্রির পাঁয়তারা করছে।

এদিকে ডিলার সমিতির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল চিনি নিয়ে দুষ্ট চক্রের ষড়যন্ত্রের কথা স্বীকার করে জানান, ইতোমধ্যে বিষয়টি ডিলার সমিতির মাধ্যমে আমরা প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিবকে জানিয়েছি। দেশে ফিরলেই তিনি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করবেন বলে জানিয়েছেন। চলতি মাসে ডিলারদের জন্য বিশ হাজার টন চিনি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, সারাদেশে চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের প্রায় চার হাজার ডিলার রয়েছেন।ডিলারদের মাধ্যমে চিনি বিক্রি করলে চিনির বাজার স্থিতিশীল থাকবে।