image

দোহাজারী পৌর এলাকা ময়লার ভাগাড়ঃ দূষিত হচ্ছে শঙ্খ নদী ও পরিবেশ

image

চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী পৌরসভায় ডাস্টবিন না থাকায় হাটবাজারের প্রতিদিনকার বর্জ্য ফেলা হচ্ছে চন্দনাইশ-সাতকানিয়া উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত খরস্রোতা শঙ্খ নদীর পাড়ে। সাঙ্গু সেতুর উত্তর প্রান্তে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক সংলগ্ন এলাকাটি পরিণত হয়েছে স্থায়ী ডাস্টবিনে। এস্থানে ময়লার স্তুপ থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। এমনকি পৌর সদর এলাকায় শঙ্খনদীর পাড়ে গড়ে তোলা হয়েছে অসংখ্য খোলা পায়খানা। এতে শঙ্খনদীর পানি দুষণের পাশাপাশি নদীর পাড় পরিণত হয়েছে স্থায়ী ডাস্টবিনে।

দোহাজারী পৌর সদরে প্রতিষ্ঠিত হাজারী বাজারে প্রতিদিন দেড় থেকে দুই'শ সবজি, মাছ, মাংশ, শুটকিসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিক্রয়ের ভাসমান দোকান রয়েছে। এছাড়া ১০টি মার্কেট এবং আরো ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সহস্রাধিক দোকানপাট এবং ব্যাংক, বীমা, ডাকঘর, রেস্তোরাসহ অর্ধ শতাধিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলেও এখানে পয়ঃ নিষ্কাশনের কোন ব্যবস্থা গড়ে উঠেনি। শঙ্খনদীর তীর ঘেষে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের দু’পাশে গড়ে উঠা দোহাজারী সদর এলাকাটি স্বাধিনতাপূর্ব সময় থেকেই দক্ষিণ চট্টগ্রামের প্রাচীন বাণিজ্যিক উপ-শহর হিসাবে পরিচিত। কিন্তু দীর্ঘ এ সময়ে অর্ধলক্ষাধিক লোকের বসবাস করা গুরুত্বপূর্ণ এ উপ-শহরটিতে কোন ডাস্টবিন নির্মাণ বা বর্জ্য অপসারণে কোন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি। ফলে পুরো দোহাজারী সদরের যত্রতত্র মলমুত্র ত্যাগসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য আবর্জনা সড়কের উপরই ফেলে আসছে লোকজন। পৌর কর্তৃপক্ষের দু'টি গার্বেজ ভ্যান দিয়ে পৌর সদর থেকে যে ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করা হয়, সেগুলোও শঙ্খনদীর পাড়ে এনে ফেলা হয়। ফলে শঙ্খনদী এখন পরিণত হয়েছে ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে।

দোহাজারী পৌর সদরের একজন পান দোকানদার তার দোকানের নানা বর্জ্য শঙ্খনদীর পাড়ে ফেলার সময় তার কাছে জানতে চাইলে সে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায় ময়লা-আবর্জনা ফেলার নির্দিষ্ট কোন স্থান চিহ্নিত না থাকার কারনেই বাধ্য হয়ে সবাই নিজেদের প্রতিষ্ঠানের বর্জ্যগুলো শঙ্খনদীর পাড়ে ফেলছেন।

দোহাজারী হাজারী টাওয়ার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি কাজী মোহাম্মদ হাছান বলেন, "দীর্ঘ সময়েও দোহাজারী সদর এলাকায় কোনো ডাস্টবিন স্থাপণ না করায় সবাই যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলছে। ফলে পুরো এলাকার পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি বাইরে থেকে বাজার করতে বা অন্য কাজে এখানে আসা লোকজনগুলোকে অস্বস্তিতে পড়তে হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে কাদা, ময়লা ও আবর্জনার কারণে ব্যবসাসমৃদ্ধ দোহাজারী এখন পিছিয়ে পড়ছে। ইউনিয়ন থেকে পৌরসভায় উন্নীত হওয়ার পরেও ডাস্টবিন স্থাপণ না হওয়া সত্যিই দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন এই ব্যবসায়ী নেতা।

এব্যাপারে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে চন্দনাইশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও দোহাজারী পৌরসভার প্রশাসক আ.ন.ম বদরুদ্দোজা বলেন, "ময়লা-আবর্জনা ডাম্পিং করার জন্য আমরা স্থান খুঁজছি। এটি নবগঠিত পৌরসভা হওয়ার কারনে এখানে লোকবল সংকট রয়েছে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপুর্ণ স্থান চিহ্নিত করে কিছু ডাস্টবিন নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে জানিয়ে পৌর প্রশাসক বলেন শংখনদীকে দূষণমুক্ত রাখতে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা নেয়া হবে।