image

লোহাগাড়ায় অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনে হুমকিতে খালপাড়ের জনবসতি

image

লোহাগাড়ার গুটিকয়েক বালু ব্যবসায়ী সারা বছর ধরে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু ও খাল পাড়ের মাটি তুলেছে খালগুলো থেকে। বর্ষায় তার খেসারত দিচ্ছে খালপাড়ের লাখো গ্রামবাসী। অপরিকল্পতিভাবে ইচ্ছেমত বালু উত্তোলনের কারণে বন্যার পানির স্রোতের গতি পরিবর্তন হয়ে খালগুলোর দুইপাড় ভেঙ্গে পড়েছে। ফলে খালের গতি পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে। খালের গতি পরিবর্তনের কারণে খাল পাড়ের রাস্তা-ঘাট, ঘরবাড়ী, ফসলি  জমি বিলীন হচ্ছে নদী গর্ভে। চরম আতংকে দিনযাপন করছে খালপাড়ের বাসিন্দারা। পার্বত্য এলাকা হতে সৃষ্ট ডলু, টংকাবতী, হাঙ্গর, হাতিয়া, সরই, জামছড়ি খালগুলো লোহাগাড়া ্উপজেলার বুক চিরে বয়ে গেছে।

খালগুলোতে নাম  মাত্র ১/২ টি বালু মহাল ইজারা দিলেও প্রতিটি খালেই শতাধিক স্পটে বালু উত্তোলন করে থাকে। ডলু খালের পুটিবিলা এলাকায় ৭ টি বালু মহাল বিগত কয়েক বছর আগে সরকারিভাবে ইজারা দিলেও গত বছর ইজারা দেওয়া হয়নি। 

জানা গেছে, পুটিবিলা এলাকা থেকে ইজারা নিয়ে বালু উত্তোলনের কারণে এলাকার ব্যাপক্ষ ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছিল। যার কারণে এলাকাবাসীর দাবীর মুখে ঐ সব বালুমহাল আর ইজারা দেওয়া হয়নি। কিন্তু ইজারা না দিলেও ডলু খালে পুটিবিলা থেকে আধুনগর, বড়হাতিয়া পর্যন্ত প্রায় শতাধিক স্পট থেকে বালু ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমত ড্রেজার মেশিন দিয়ে সারা বছর বালু উত্তোলন করে থাকে। যার কারণে বর্তমানে এই খালপাড়ের প্রায় প্রতিটি গ্রামই ভাঙ্গনের হুমকিতে রয়েছে। বিগত একটানা বৃষ্টিতে আধুনগরের বেশ কয়েকটি সড়ক খালের গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। পাশাপাশি মানুষের বাড়ী ঘর, ফসলি জমিও নদী গর্ভে চলে গেছে। এই খালের আধুনগর হাই স্কুল ও প্রাইমারি স্কুলের পাশে খাল পাড়ের মাটি ও বালু কেটে নিয়ে যাবার কারনে বর্তমানে স্কুল দুটির পাশের সড়ক ভেঙ্গে স্কুলও ভাঙ্গনের হুমকিতে পড়েছে। টংকাবতী খালের অবস্থা আরো শোচনীয়। এই খালেও চরম্বা থেকে আমিরাবাদ পর্যন্ত প্রায় শতাধিক স্পটে বালু উত্তোলন করা হয়ে থাকে। আমিরাবাদের হাজারবিঘা গ্রামটি সম্পূর্ণ ভাঙ্গনের মুখে। শুধু তাই নয় হাজারিবঘা গ্রামের নুরুল আলম চৌধুরী প্রাইমারী স্কুল, হাজারবিঘা হিন্দু পাড়া, মসজিদ ও পুরো গ্রামটি যেকোন সময় খালের গর্ভে চলে যেতে পারে। ইতিমধ্যে ওই এলাকার হিন্দু পাড়ার একমাত্র শশ্মানটি খালের গর্ভে চলে গেছে । পাশাপাশি খাল পাড়ের রাস্তাও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। সরেজমিন গিয়ে জানা গেছে, হাজার বিঘা গ্রামের পাশে বয়ে যাওয়া টংকাবতী খাল থেকে বালু উত্তোলনের পাশাপাশি খাল পাড়ের নরম মাটিগুলোও সারাবছর ধরে কেটে নিয়ে যাচ্ছে বালু ব্যবসায়ীরা। জমিগুলো স্থানীয় কৃষকদের মালিকানাধীন হলেও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জমির নরম মাটিগুলো কেটে নিয়ে গেছে। এই মাটিতে কৃষকরা চীনা বাদাম, আখ, ডাল,  বেগুন ও মুলাসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করতেন। জমির মালিক কৃষকগণ এসব বন্ধের জন্য বিভিন্ন মহলে লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোন বিচার পায়নি। বরং সরকারদলীয় ক্যাডারদের রোষানলে পড়ে বিভিন্ন হয়রানির শিকার হয়েছে। 

ব্রীজের গোড়া থেকে বালু উত্তোলনের কারণে সরই খালের প্রায় অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ে উপর নির্মিত হাছনাভিটা ব্রীজ ও সরইয়া ব্রীজ দুটি ভেঙ্গেছে কয়েক বছর আগে। এখনও তা নির্মিত হয়নি। ঐ এলাকার লক্ষ লক্ষ মানুষ চরম ভোগান্তিতে রয়েছে। তবে বালু উত্তোলন বন্ধ হয়নি এই খালে। এছাড়াও হাঙ্গর, জামছড়িসহ লোহাগাড়ার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া সবকটি খালেই বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলে সারা বছর। বালু উত্তোলনকারীরা বরাবরই সরকারদলীয় নেতাদের আশ্রয় প্রশ্রয়ে থাকাতে এলাকাবাসীরা কোন প্রতিবাদ করার সাহস পায়না। প্রতিবাদ করতে গেলেও বিভিন্ন মামলা হামলা শিকার হতে হয়। পুটিবিলা এলাকার বাসিন্দারা কয়েক বছর আগে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ করায় প্রতিজনের নামে ৪/৫ টি করে মামলার আসামী  হয়েছে। এলাকাবাসী জানান, কোন ইজারা ছাড়া সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে  গায়ের জোরে বালু উত্তোলন করলেও স্থানীয় প্রশাসনের তেমন কোন ভূমিকা চোখে পড়ে না।  মাঝে মধ্যে অভিযানের নামে ড্রেজার মেশিন জব্দ করে  নিয়ে যাওয়া হয়।  ২/৩ দিন পর আবার একই ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করতে দেখা যায় একই বালু ব্যবসায়ীকে।