image

আনোয়ারায় বরফকলে আটকে গেল বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ

image

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপকূলের প্রায় ২শত ৮০ কোটি টাকায় নির্মিত বেড়ি বাঁধের নির্মাণ কাজ রায়পুর ইউনিয়নের ফকির হাট এলাকায় দুইটি বরফকলের কারণে আটকে আছে এক বছর ধরে। স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মালিকানাধীন এ বরফকল দুইটি পানি উন্নয়ন বোর্ড কিংবা সরকারি কোন নিয়ম কানুন মানছেনা। ফলে উপকূলের ৩০ হাজার মানুষ এখনো বিপদ ঝুকিঁতে বসবাস করছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানাযায়, আনোয়ারার-কর্ণফুলী উপকূলীয় এলাকার লোকজনকে রক্ষায় ভূমিমন্ত্রী আলহাজ্ব সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের প্রচেষ্ঠায় ২৮০ কোটি ৩০ লক্ষ টাকার  প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে পাউবো। এ প্রকল্প শেষ হলে প্রায় ২ লাখেরও বেশি মানুষ প্রাকৃতিক দূর্যোগ থেকে রক্ষা পাবে বলে জানান পাউবোর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এ প্রকল্পের আওতায় উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নে পারকী সৌকত এলাকা থেকে দক্ষিণ সরেঙ্গা পর্যন্ত প্রায় ২০ কিঃমিঃ এলাকায় পাথরের বøক দিয়ে বেডিবাঁধ নির্মানের কাজ করছে পাউবো। কিন্তু  পারকী এলাকা থেকে ফকির হাট পর্যন্ত এবং সাঙ্গু কোর্সগার্ড এলাকা থেকে সরেঙ্গা পর্যন্ত প্রায় ২০ কিঃমিঃ এলাকার বেডিবাঁধের কাজ শেষ পর্যায়ে হলেও বরফকলের কারণে ফকির হাট এলাকায় এখনো কাজই ধরতে পারেনি পানি উন্নয়ন বোর্ড। 

জানাযায়, স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. সেলিম প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে ফকির হাট এলাকায় ”শাহ্ মোহছেন আউলিয়া বরফকল” স্থাপন করে। বরফকলের কিছু অংশ বেডিবাঁধের উপর এবং বাকী অংশ সাঙ্গু নদের ভেতর ইটের ওয়ালে নির্মাণ করা হয়। এর পাশেই উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোশাররফ হোসেনের মালিকানাধীন আরেকটি বরফকল। দুইটি বরফকলের কারণে এ এলাকায় বেডিবাঁেধর কাজ এখানেই আটকে যায়।

স্থানীয়রা জানায়, আশপাশের অনেক বাড়ি ঘর বেডি বাঁধের কারণে উচ্ছেদ হলেও দুই প্রভাবশালী ব্যক্তির বরফকল হওয়ায় এখানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা টাকার বিনিময়ে কাজই শুরু করছেনা। এতে করে এলাকায় জোয়ারের পানি উঠামানা করছে।

জানতে চাইলে শাহ্ মোহছেন আউলিয়া বরফকলের মালিক মো. সেলিম বলেন, আমি দুই বছর আগে বরফকলটি কিনে নিয়েছি। নদীর ভাঙন ঠেকাতে অর্ধ কোটি টাকা খরচও করেছি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা দেখে গেলেও কিছু বলেনি।

রায়পুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জানে আলম বলেন, দুইটি বরফকলই বেডিবাঁধ নির্মাণে বাঁধা হয়ে দাড়িয়েছে। জোয়ারের পানি এবং বিপদ সংকেতে এলাকার ৩০ হাজার মানুষ ঝুঁকিতে। এর পরও বরফকল উচ্ছেদে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেনা পানি উন্নয়ন বোর্ড। বিষয়টি  উর্ধ্বতন কর্তৃ পক্ষকে জানানো হবে।