সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালের পাশে স্বামীবাগ প্রধান সড়কে রুমী গ্লাস হাউজের পাশে একটি ফটো স্টুডিও। দুপুর গড়িয়ে বিকাল। সূর্য পশ্চিমে হেলে পড়েছে। তখন ঢাকায় এতো উচু ভবন তৈরী হয়নি। স্টুডিওটির সামনেই সূর্যের আলো। রুমী গ্লাস হাউজের সারি সারি দাড় করানো বেলজিয়ামের মোটা গ্লাসগুলোতে রিফ্লেক্ট করছে। চারপাশেই সাদা পোশাকের তরুণ ও মধ্য বয়সের কয়েক ব্যক্তি নজরদারি করছে স্টুডিওটির ওপর।এর মধ্যে এক সুন্দরী তরুণী বেশ সাজুগুজু করা, সঙ্গে এক তরুণ। পরনে ব্লু রংএর জিন্সের প্যান্ট, গায়ে থাইল্যান্ডের কলার ওয়ালা ক্রীম রং এর গেন্জি। পায়ে কেডস। তরুণী যুগল বেশ হাস্যোউজ্জলভাবেই কথা বলতে বলতে ফটো স্টুডিওতে ঢুকলো। ওই জামানায় তরুণ-তরুণীর এক ফ্রেমে ছবি তোলার একটা সংস্কৃতি ছিলো। স্টুডিওর রিসিপশনে বসা লোকটি অভ্যর্থনা জানিয়ে তাদের দুজনকে ভেতরের রুমটিতে বসিয়ে দরজাটি বন্ধ করে আবার তার আসনে এসে বসলেন। দূর থেকেই তা পর্যবেক্ষণ করা সিভিল পোশাকের লোকগুলো দ্রুত একত্রিত হয়েই স্টুডিওতে ঢুকে পরলেন। সবাই কোমর থেকে অস্ত্র উঁচিয়ে নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে তরুণীর সঙ্গে থাকা ছেলেটিকে কোন নড়াচড়া করারও সুযোগ না দিয়ে দুই হাত পিচ মোড়া করে চোখে রুমাল বেঁধে স্টুডিও থেকে বের করে নিয়ে আসলেন। দুপুরের পর থেকেই এই স্টুডিওর চারপাশে অবস্থা নেয়া গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যদের চোখেমুখে আনন্দের ঢেউ বইছে। যে শিকারের অপেক্ষায় ফাঁদ পেতে স্টুডিওর চারপাশে ওৎপেতে ছিলেন তার সফল সমাপ্তি ঘটলো তরুণীর সঙ্গে থাকা স্মার্ট ছেলেটিকে আটকের মাধ্যমে। এতোক্ষণ যে তরুণকে আটকের বর্ণনা দিচ্ছিলাম তিনি হলেন, পুরান ঢাকার সন্ত্রাসী বুদ্দু।
ছিনতাই, ডাকাতি, খুনসহ বহু অপরাধের অভিযোগে ১৯৮৫ সালের মার্চ মাসে কোন এক বিকেলে প্রেমিকার সাথে স্টুডিওতে ছবি তুলতে আসা অপ্রস্তুত বুদ্দুকে আটকের মধ্যে এসি আকরাম হোসাইনের আরেকটি সফল অভিযানের সমাপ্তি ঘটে। এসি আকরাম জানালেন, তার কাছে আগেই খবর ছিলো সন্ত্রাসী বুদ্দু তার বান্ধবীকে নিয়ে দুপুরের পর এই স্টুডিওতে ছবি তুলতে আসবে। সোর্সের পাক্কা খবরে নিশ্চিত হয়ে এই অভিযানের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছিলো। ডিবি অফিসে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে বুদ্দু ঢাকায় ছিনতাই, খুনসহ বহু অপরাধের বর্ণনা দেন। সায়েদাবাদ এলাকায় সে ছিলো ছিনতাইয়ের সম্রাট। রাতে বাস যাত্রীদের অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে কেড়ে নিতো সব।
Developed By Muktodhara Technology Limited