স্বাস্থ্যবিধি মেনে চট্টগ্রামে আজ পালিত হয়েছে ৮ সেপ্টেম্বর-আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ ছিল- “লিটারেসি ফর হিউম্যান-সেন্টারড রিকভারি ঃ ন্যারোইং দ্যা ডিজিটাল ডিভাইড”।
দিবসটি পালন উপলক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো আলোচনা সভা ও রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করে।
জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিম) সুমনী আক্তার। স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর সহকারী পরিচালক জুলফিকার আমিন।
ঢাকা আহছানিয়া মিশনের থানা প্রোগ্রাম ম্যানেজার চন্দন কুমার বড়ুয়া ও ঘাসফুলে প্রোগ্রাম অফিসার ফরিদা ইয়াসমিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ শহীদুল ইসলাম, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক মোঃ সেলিম উদ্দিন, সরকারি কলেজিয়েট উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মোঃ সাহেদ মাহমুদ, ব্রাইট বাংলাদেশ ফোরামের প্রধান নির্বাহী উৎপল বড়–য়া, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্পের সহকারী প্রকল্প পরিচালক রিংকু কুমার শর্মা, ঘাসফুলের উপপরিচালক মফিজুর রহমান, ব্র্যাকের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মাহবুব হোসেন খান, অপরাজেয় বাংলাদেশের ইনচার্জ জিনাত আরা বেগম।
এডিএম তার বক্তৃতায় বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর থেকে ঝরে পড়া রোধ, সাক্ষরতার হার বৃদ্ধি ও মানসম্মত শিক্ষা বাস্তবায়নে যথেষ্ট আন্তরিক। বৈশ্বিক মহামারি করোনার কারণে দীর্ঘ দেড় বছর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা অনলাইনে পড়ালেখা সমন্বয় করে নিয়েছে। এর পরেও শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পড়ালেখার গতি কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দিলে শিক্ষার্থীরা আবারও পড়ালেখায় মনোযোগী হয়ে উঠবে। আমরা সকলে নিজ নিজ অবস্থান থেকে আন্তরিকভাবে কাজ করলে আগামী ২০২৫ সালের মধ্যে সাক্ষরতার হার শতভাগে উন্নীত হবে।
এডিএম বলেন, বিগত ২০০৯ সাল থেকে বর্তমান সরকার নিরক্ষর জনগোষ্ঠীকে সাক্ষর দানের জন্য নানাবিধ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ফলে ২০২০ সালে বাংলাদেশে পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাব অনুযায়ী সাক্ষরতার হার বৃদ্ধি পেয়ে ৭৫.৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। সকলে এ সাফল্যের অংশীদার। প্রতিটি শিশু ও নিরক্ষর জনগোষ্ঠীর কাছে মানসম্মত শিক্ষা পৌঁছে দেয়ার ক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকা অপরিসীম। বাংলাদেশকে উন্নয়নের প্রত্যাশিত লক্ষ্যে পৌঁছতে হলে নিরক্ষর জনগোষ্ঠীকে সাক্ষর করে প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে দক্ষ জনসম্পদে পরিণত করা প্রয়োজন। এজন্য সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মসূচি এসডিজি - ৪ ‘ সকলের জন্য অন্তর্ভূক্তিমূলক ও সমতাভিত্তিক গুণগত শিক্ষা নিশ্চিতকরণ ও জীবনব্যাপী শিক্ষা লাভের সুযোগ সৃষ্টি’ বাস্তবায়নে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও এনজিও সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদেও পুরস্কৃত করা হয়।
Developed By Muktodhara Technology Limited