image

মাদকমুক্ত ইতিবাচক তারুণ্য নির্ভর সামাজিক পরিবর্তনই লক্ষ্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হারুন’র

image

লোহাগাড়া উপজেলার ৩নং পদুয়া ইউনিয়ন পরিষদের আসন্ন নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রার্থী হতে চান সাবেক সেনা কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ। নির্বাচিত হলে তিনি পদুয়াকে মডেল ইউনিয়ন ও মাদকমুক্ত তরুণ সমাজ গঠণ করতে চান। তাই “পরিবর্তনের অঙ্গীকার, পদুয়া হবে জনতার” শ্লোগান নিয়ে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন তিনি।

তিনি জানান, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার ঐতিহ্যবাহী পদুয়া ইউনিয়নে মৌলানা মোস্তাফিজুর রহমান, কালী শংকর বাবু, এস আই চৌধুরী, এডভোকেট হুমায়ুন কবির রাসেল, আলহাজ্ব ওমর ফারুক, লিয়াকত আলী চৌধুরী প্রমুখ চেয়ারম্যানের পদ অলংকৃত করেছেন। তাঁরা পদুয়ার মানুষের জন্য অনেক অবদান রেখে গেছেন। কিন্তু আজ আমরা কি দেখছি? উন্নয়নে অসামঞ্জস্যতা, বিচারের নামে অবৈধ অর্থ লেনদেন, মাদকাসক্ত এবং মাদককারবারীদের আশ্রয়-প্রশ্রয়, সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, কিশোর গ্যাং’র উত্থান, সমাজের বয়োজ্যেষ্ঠ ও সম্মানিত ব্যক্তিদের নাজেহাল ও হেনস্তা, পারিবারিক ও সামাজিক অবক্ষয়, প্রতিপক্ষকে যেনতেনভাবে দমন ইত্যাদি পদুয়ার নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। সমাজের নানা অনিয়ম দূরীকরণে এবং পদুয়াকে একটি সুন্দর ও মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলার জন্য পরিবর্তনের শ্লোগান নিয়ে আমি মানুষের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছি এবং পদুয়ার সচেতন নাগরিক সমাজ আমাকে সাদরে গ্রহণ করছে। সাধারন মানুষ আন্তরিকভাবে সাড়া দিচ্ছে। আশা করি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আমি বিপুল ভোটে জয়ী হবো ইনশাআলাহ। 

তিনি আরো জানান, নির্বাচিত হলে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মাধ্যমে মাদকসহ সামাজিক ব্যাধি প্রতিরোধে কাজ করা হবে। মাদক হলো অধিকাংশ অপরাধের উৎস। সুতরাং মাদক ও সামাজিক ব্যাধি প্রতিরোধে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে ওয়ার্ড পর্যায়ে শক্তিশালী কমিটি গঠন করা হবে। উক্ত কমিটি দ্বারা মাদকের কুফল এবং সমাজে এর নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ব্যাপক প্রচার প্রচারণা চালানো হবে। 

তিনি মনে করেন এলাকার কথিত বড় ভাইদের আশ্রয়-প্রশ্রয় ছাড়া মাদক ব্যবসা পরিচালনা করা অসম্ভব। মাদক ব্যবসা এবং মাদকাসক্তদের আশ্রয় প্রশ্রয় দাতাদের সমাজের মূলধারায় ফিরে আসার জন্য অনুরোধ করবো। অনুরোধ, প্রেরণা এবং বুঝানোর পরেও কাজ না হলে প্রশাসনের সহায়তায় কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমি জানি, মাদকের ব্যবহার শুণ্যের কোটায় নামিয়ে নিয়ে আসা কারো পক্ষে সম্ভব নয়। তবে মাদকের বহুল ব্যবহার রোধে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির স্বদিচ্ছা থাকলে প্রশাসনের সহায়তায় মাদক ও সামাজিক ব্যাধি অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব। 

যে কোন ভাল করার জন্য জনপ্রতিনিধিকে অবশ্যই সৎ, যোগ্য, সুশিক্ষিত, ন্যায়পরায়ণ, আদর্শ চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধে বিশ্বাসী এবং দায়িত্ব পালনে নিরপেক্ষ হতে হবে। একটি মডেল ইউনিয়ন গড়তে হলে আমাদেরকে ইস্পাত কঠিন ঐক্যের মাধ্যমে এগিয়ে যেতে হবে। প্রথমেই উন্নয়নে সুসামঞ্জস্যতা, ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা, দলীয় সংকীর্ণতার উর্ধ্বে উঠে সামাজিক দুরাচার বন্ধ করতে হবে। আজকের যুব সমাজ আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। সুতরাং আগামী দিনের ভবিষ্যতকে সঠিক পথে পরিচালিত করার জন্য প্রয়োজনীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। সামাজিক ব্যাধি ও মাদক নির্মুলে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া, কর্মবিমুখ যুব সমাজকে কর্মমুখী করে গড়ে তোলা, কিশোর গ্যাং’র তৎপরতা বন্ধ করা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা, ইভটিজিং ও বাল্যবিবাহ রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া, সমাজের প্রবীণ ও সম্মানিত ব্যক্তিবর্গের যথাযথ সম্মান প্রদান তথা মূল্যায়ন করা ইত্যাদি। 

দেশে করোনাকালে ঘোষিত লকডাউনে কর্মহীন হয়ে পড়া শ্রমজীবী মানুষের কষ্ট লাঘবের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহবানে সাড়া দিয়ে অসহায় মানুষকে ত্রাণ সহায়তা প্রদানের জন্য আমরা পারিবারিকভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। পারিবারিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আমি পদুয়া ইউনিয়নের ৯৬টি গ্রামের প্রায় ১৬০ এর অধিক পাড়া-মহল্লাকে বিভিন্ন এলাকায় ভাগ করে ত্রাণ বিতরণের জন্য একটি ছক তৈরী করি। আমার ছোট ভাই মোঃ নাছির উদ্দিনের আর্থিক সহযোগিতায় সম্পুর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে তৈরীকৃত ছকানুযায়ী ২৯ মার্চ হতে ১২ মে ২০২০ ইং তারিখ পর্যন্ত আমি পদুয়ার প্রায় প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় স্ব-শরীরে উপস্থিত থেকে পদুয়াতে এককভাবে প্রায় ৩ হাজারের অধিক পরিবারকে খাদ্য সহায়তা প্রদান করেছি। ত্রাণ কার্যক্রম গ্রহণের পূর্বে ২৫ ও ২৬ মার্চ ২০২০ ইং তারিখে সাধারণ মানুষের মাঝে আমি প্রায় ১২০০ মাস্কও বিতরণ করেছি। আপনারা খোঁজ নিলে দেখবেন পদুয়াতে একক উদ্যোগে সম্ভবতঃ আমাদের পরিবারের গৃহীত মানবিক কার্যক্রম এখনো অবধি সবচেয়ে বড় এবং চলমান।

পরিশেষে তিনি পদুয়াবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, চলতি বছরের ১১ নভেম্বর আমাদের ৩নং পদুয়া ইউনিয়নের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আমাদের ইউনিয়নের হারানো গৌরব পুনঃউদ্ধার এবং একটি আদর্শ ইউনিয়ন গড়তে হলে আমাদের পরিবর্তন দরকার। "পরিবর্তনের অঙ্গীকার, পদুয়া হবে জনতার" এই শোগানকে সামনে রেখে একটি আদর্শ ইউনিয়ন গড়ার লক্ষ্যে আমাদেরকে ইস্পাত কঠিন ঐক্যে নিয়ে একসাথে কাজ করে যেতে হবে। ইনশাআলাহ জনতার বিজয় অবশ্যম্ভাবী।