image

পেকুয়া সদরে নৌকা পেতে তৎপর দু’শীর্ষ নেতা 

image

কক্সবাজারের পেকুয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে অংশ নিতে নৌকা প্রতীকে দলীয় মনোনয়ন পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে উপজেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ দুই নেতা।

সারাদেশের ন্যায় পেকুয়া উপজেলার ৬ ইউনিয়নে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা হবে ৩য় ধাপে। ইতোমধ্যে ২য় ধাপের নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।

আসন্ন ওই ভোটে সদর ইউপিতে নৌকার মনোনয়ন পেতে দৌঁড়ে রয়েছেন পেকুয়া উপজেলা আ’লীগের সাধারন সম্পাদক ও গতবারের ইউপি নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী  আবুল কাশেম ও উপজেলা আ’লীগের সহসভাপতি সাংবাদিক জহিরুল ইসলাম। এছাড়াও 

নৌকা পেতে লবিং শুরু করছেন প্রবাসী আ’লীগ নেতা ওমর রিয়াজ চৌধুরী, ব্যবসায়ী মহিউদ্দিন বাবর মুকুল ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা নাসির উদ্দিন বাদশা।  

ইতোমধ্যে যার যার মত করে তারা নৌকার মনোনয়নের জন্য কেন্দ্রীয় আ’লীগ ও জেলা আ’লীগ বরাবর জোর লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন।

সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম বিগত সময়ে পেকুয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদে নৌকা প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করে সামান্য ভোটের ব্যবধানে বিএনপি প্রার্থীর কাছে হারিয়ে যান। ইতি পূর্বে তিনি হরিণ প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করেও হারিয়ে যান।  সর্বশেষ

 পেকুয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে  ভোট করে বিপুল ভোটের ব্যবধানে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলমের কাছে হারিয়ে যান। তিনি 

হেরে গেলেও সুষ্ঠুভোটে সহায়তা করায় সুনাম অর্জন করেন। 

বিগত নির্বাচন গুলোতে হেরে গেলেও দলীয় নেতাকর্মীদের বিভিন্ন সমস্যায় এগিয়ে আসার পাশাপাশি সাধারণ জনগণের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন। ইতোমধ্যে নিজ আর্থিক সহায়তায় ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে সাধারণ জনগণের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। 

তৃণমূল নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আ’লীগের এ নেতা বিএনপির সরকার আমলে অহরহ মামলার আসামী হয়ে বহুবার কারাভোগ করেছেন। নির্যাতিত হয়ে দিনের পর দিন কষ্ট ভোগ করেছেন। এরপর বর্তমান সরকার আমলে এসে উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের আস্থাভাজন হয়ে উঠেন। পেকুয়া উপজেলা আ’লীগকে সুসংগঠিত করে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করেন। 

আগামী ইউপি নির্বাচনে পেকুয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতিকের প্রার্থী হিসাবে আবুল কাশেমকে চাই তৃণমূল নেতাকর্মীরা।

তৃণমূলের নেতাকর্মীরা আরো বলেন, ২০০১ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ৪ দলীয় জোট সরকারের আমলে একাধারে তিন বছর ও ১৬ মাস এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে প্রায় ১৮ মাস মিথ্যা মামলায় কারাভােগ করেন। এমনকি ২বার ডিটেনশান সহ ১৯টি রাজনৈতিক হয়রানীমূলক মামলায় তিনিসহ ছয় ভাই কারাভােগ করেন।

এছাড়াও আবুল কাশেমের রাজনৈতিক জীবনও সম্মৃদ্ধ। পেকুয়া সদর ইউনিয়নের মৌলভী পাড়ার মরহুম নুরুল আলমের সন্তান। 

১৯৯০ সালে বিএসসি পাশ করা আবুল কাশেম ১৯৮৭-১৯৯৫ ইং পর্যন্ত অবিভক্ত চকরিয়া থানা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি এবং সিনিয়র সহ-সভাপতি, ১৯৯৬-১৯৯৯ ইং পর্যন্ত পেকুয়া সাংগঠনিক থানা ছাত্রলীগের আহবায়ক, ১৯৯৯-২০০২ ইং পর্যন্ত থানা ছাত্রলীগ সভাপতি এবং কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের সহ- সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৩-ইং সালে কারাগারে থাকাবস্থায় পেকুয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, ২০০৭-২০১২ইং সালের নভেম্বর মাস পর্যন্ত উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক ও ২০১২ ইং সালের ১৩ ডিসেম্বর কাউন্সিলে সর্বোচ্চ ভােট পেয়ে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে অদ্যবধি দায়িত্ব পালন করছেন। সদ্য বিলুপ্ত হওয়া পেকুয়া উপজেলা আ’লীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য সচিব হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।

এছাড়াও তিনি পেকুয়া শহীদ জিয়াউর রহমান উপকূলীয় কলেজ পরিচালনা কমিটি ও পেকুয়া আনােয়ারুল উলুম ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিচালনা কমিটির সদস্য হিসাবেও দায়িত্বে রয়েছেন।

আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা এবং অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দরা বলেন, আবু্ল কাশেম পেকুয়ার আ’লীগকে সংগঠিত করতে সর্বাত্মক চেষ্টার কারণে তৃণমূলে আস্থা অর্জন করেছেন। 

এছাড়াও বিএনপি সরকার আমলে দিনের পর দিন নির্যাতন আর জেল জুলুমের শিকার হলেও দল থেকে বিচ্ছুতি হননি।

 যার কারণে আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে পেকুয়া সদর ইউনিয়ন থেকে নৌকা প্রতিকের প্রার্থী হিসাবে আবুল কাশেমকে মনোনয়ন দিলে দীর্ঘদিন বিএনপির প্রার্থীর দখলে থাকা সদর ইউপি উদ্ধার করা সম্ভব হবে।

অপর জন ও নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশি উপজেলা আ’লীগের সহসভাপতি সাংবাদিক জহিরুল ইসলাম এর আগেও স্বতন্ত্রভাবে সদর ইউপিতে বেশ কয়েকবার নির্বাচন করেছেন। প্রথমবার নির্বাচন করে তিনি সামান্য ভোটে হেরে গিয়েছিলেন। এরপরও তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে জেতার মত কাংঙ্খিত ভোট না পেলেও সৎ ব্যক্তি হিসেবে অধিক পরিচিত।

সম্প্রতি তিনি করোনা মহামারির সময় একটি এনজিও সংস্থার এস আর পিভির মাধ্যমে ত্রাণ সহায়তা দেওয়ার সময় নিজেই উপস্থিত থেকে গ্রামবাসীকে সহায়তা পেতে সাহায্য করেছেন। তিনি বিভিন্ন ভাঙ্গা রাস্তায় ভাঙ্গা ইট ও বালি দিয়ে রাস্তার সংস্কার কাজ করছেন। সুখেদুখে পেকুয়াবাসীর পাশেছিলেন এখনো আছেন। তিনি দুর দিনও দলের হাল ছাড়েননি। 

তবে তৃণমূল নেতাকর্মীদের সাথে তেমন যোগাযোগ না থাকায় নৌকার মনোনয়ন পিছিয়ে রয়েছে এমন মন্তব্য দলীয় নেতাকর্মীদের। 

উপজেলা আ’লীগের সহসভাপতি সাংবাদিক জহিরুল ইসলাম জানান আমি নৌকা প্রত্যাশী। নেত্রী এলাকা জরিপের মধ্যে দিয়ে দলীয় মনোনয়ন দিবেন এমন আশা করছি। আমি মনোনয়ন পেলে  বিজয় হবো ইনশাআল্লাহ।  তবে নেত্রী যাকে মনোনয়ন দিবে তারপক্ষে কাজ করবো। 

পেকুয়া উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক সদর ইউপির নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশি আবুল কাশেম সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করে বলেন, তৃণমূল নেতাকর্মী ও দলীয় সিনিয়র নেতারা চাচ্ছেন তিনি যেন সদর ইউনিয়নে নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশি হয়। তারপরও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যাকেই নৌকার মনোনয়ন দিবেন তার প্রতি পুরো সমর্থন ও তাকে জিতিয়ে আনতে কাজ করে যাবো।