দক্ষিণ চট্টগ্রামের অন্যতম দৃষ্টিনন্দন পর্যটন স্পট বাঁশখালী ইকোপার্ক। অবসওে এখানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের লোকজন বিনোদনের জন্য ছুটে আসেন প্রিয়জনদের নিয়ে। বাংলা ছায়াছবির নায়ক-নায়িকা, গানের শিল্পী, অভিনেতাদের অন্যতম চোখজুড়ানো সুটিং স্পটে রুপ নিয়েছে এটি। দেশের দীর্ঘতম ঝুলন্ত সেতুটিই এখানে অবস্থিত। বিগত ২০০৩ সালে প্রায় ১ হাজার হেক্টর এলাকাজুড়ে এই ইকোপার্কটিকে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের মাধ্যমে পর্যটন স্পট হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল হতে এই ইকোপার্কে পর্যটকদের আনাগোনা বৃদ্ধি পায়। সাপ্তাহিক ছুটির দিন, ইদ উৎসবে, বিশেষ করে শীত মৌসুমকে ঘিরে পর্যটকদের আগমন ঘটে চোখে পড়ার মত। বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা এবং প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ এই ইকোপার্কটির রক্ষণাবেক্ষন করেন থাকেন। দীর্ঘদিন করোনা মহামারির কারণে সারা দেশের অন্যন্য পর্যটন স্পটের ন্যায় বাঁশখালী ইকোপার্কটিও বন্ধ ছিল। বর্তমানে পার্কে পর্যটকদের আনাঘোনা হলেও প্রায় ২৫-৩০ ফুট দ‚রত্বের সড়কপথ পাহাড়ি ঢলে ভেঙ্গে গিয়ে মাটি হচ্ছে পর্যটকদের বিনোদন।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাঁশখালী প্রধানসড়ক থেকে ইকোপার্কের একমাত্র বিকল্প প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার সড়কের হাজী ছবুরের মিশ্র খামার ও মৎস্য প্রজেক্ট সংলগ্ন সড়কের ওপর স্থিত একটি মিনি কালর্ভাট পাহাড়ি ঢলের পানিতে সম্প‚র্ণরূপে ধ্বসে পড়ে। যার ফলে ইকোপার্কেও সাথে পর্যটকদেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এতে দ‚রদ‚রান্ত থেকে আগত পর্যটকদের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। পার্কের ইজারাদার কতৃক নড়বড়ে গাছের সাঁকো বসিয়ে দিলে দু'একজন কওে ভাঙ্গাঅংশ পাড়ি দিয়ে প্রায় ১ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে ইকোপার্কে যেতে হচ্ছে পর্যটকদের। আবার অনেকে পায়ে হেঁটে যেতে না পেরে পুনরায় ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছে আপন গন্তব্যে। ইকোপার্ক কর্তৃপক্ষ সড়কটির ধ্বসে পড়া কালভার্টটি পুনরায় সংস্কারের উদ্যোগ হাতে নিয়েছে বলে জানান ইকোপার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান শেখ।
পার্কে রাউজান থেকে বেড়াতে আসা দর্শনার্থীদের একজন আলিফা হোসেন বাবু বলেন, ‘বাঁশখালীতে আমার এক আত্মীয়ের বাড়ীতে বেড়াতে এসেছি। দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিনোদন স্পট ইকোপার্কে আগে কখনো আসা হয়নি। এবার একটু বিনোদনের জন্য এই পার্কে ঘুরতে এসেছি। কিন্তু পার্কের একামাত্র সড়কটির একটি অংশে কালভার্ট ধ্বসে পড়ে যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে আমাদের। ধ্বসে পড়া এ কালভার্টটি দ্রæত সংস্কার করা না হলে দর্শনার্থীদের দ‚র্ভোগের সীমা থাকবেনা। একসময় পার্কটি পর্যটক হারাতে বসবে বলে ধারণা করেন তিনি।'
এ বিষয়ে বাঁশখালী ইকোপার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান শেখ প্রতিবেদককে বলেন, ‘একমাস প‚র্বে প্রবল বর্ষনের ফলে ইকোপার্কের একমাত্র সড়কটির বিভিন্ন অংশে ধ্বসের সৃষ্টি হয়েছে। এরই মধ্যে পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে এ সড়কের ওপর স্থিত একটি কালভার্ট ধ্বসে পড়ে। যার ফলে পর্যটকদের আসা যাওয়া করতে কস্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। তাছাড়া দীর্ঘ সাড়ে তিন কিলোমিটার সড়কটির বেহাল অবস্থা। সড়কটি এতো সরু যে, যার কারণে বিভিন্ন অঞ্চলের যানবাহনগুলো পার্কে পৌছাতে পারেনা। ধ্বসে পড়া কালভার্ট ও সড়কটি সংস্কারের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট পত্র প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম ভুঁইয়া বলেন, ‘ধ্বসে পড়া কালভার্টটি জরুরী ভিত্তিতে নির্মাণের জন্য স্টিমিট রেডি করে উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের নিকট এ সপ্তাহে প্রস্তাব পাঠিয়ে দিব। আশা করছি ডিসেম্বরের মধ্যেই পুরো সড়কটি সংস্কার ও মেরামতের জন্য টেন্ডার হয়ে যাবে।
Developed By Muktodhara Technology Limited