image

রাউজানে ৮দিন ধরে নিখোঁজ দুই বোন

image

চট্টগ্রামের রাউজানে নিখোঁজ হওয়া মাতৃহীন দুই বোনের ৮দিনেও হদিস মেলেনি। কোথায় গেছে বা কোন জায়গায় আছে কেউ বলতে পারছে না। পুলিশ বলছে- তারা চেষ্টা করছেন, কিন্তু তাদের অবস্থান জানতে পারছে না। ৮দিন পার হলেও তাদের খুঁজে না পাওয়ায় রহস্য দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে নিখোঁজের স্বজনরা রয়েছেন আতঙ্কিত।

নিখোঁজ হওয়া দুইবোন হলো, রাউজান উপজেলার ডাবুয়া ইউনিয়নের এক সৌদি প্রবাসীর ১৬ বছয় বয়সী মেয়ে ও তার ছোট বোন ৮ বছর বয়সী আরেক মেয়ে।

জানা যায়, গত ২৮ সেপ্টেম্বর বই-খাতাসহ নিঝুম শীল তার প্রতিবন্ধী ছোটবোনকে নিয়ে ডাবুয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে যাওয়ার কথা বলে ঘর থেকে বের হয়। কিন্তু বিদ্যালয় ছুটি হওয়ার পরও তারা ফিরে আসেনি। এরপর থেকে দুই বোন নিখোঁজ রয়েছেন। স্বজনরা চারিদিকে খোজাখুঁজি করেও তাদের সন্ধান পাননি। পরে নিখোঁজের পরদিন (২৯ সেপ্টেম্বর) তাদের কাকা রাউজান থানায় নিখোঁজ ডায়েরী করেন। 

এদিকে গত বৃহস্পতিবার সকালে নিখোঁজ দুইবোন কুমিল্লায় পুলিশ হেফাজতে আছে বলে খবর দেওয়া হয় রাউজান থানায়।

রাউজান থানার ডিউটি অফিসার উপ-পরিদর্শক মো. হানিফ স্থানীয় ইউপি সদস্য মিঠু শীলকে ফোন করে কুমিল্লা থেকে পুলিশ পরিচয়ে ফোন করা নম্বর দেন। সে নম্বরে যোগাযোগ করলে কুমিল্লায় যেতে বলা হয়। এরমধ্যে সেই ব্যক্তি ১০ হাজার টাকা পাঠাতে বলেন। পরে ৭ হাজার টাকা বিকাশে পাঠানোর পর কুমিল্লার উদ্দেশ্যে রওনা দেন স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ স্বজনরা। বিকাশে টাকা প্রেরণের পর থেকে কুমিল্লার পুলিশ পরিচয়দাতা ব্যক্তির নম্বরটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। রাউজান থানা পুলিশকে বোকা বানিয়ে টাকা হাতিয়ে নিলেও পুলিশ ব্যবস্থা নেয়নি। কুমিল্লায় গিয়ে থানা, পুলিশ ফাঁড়িতে খবর নিয়ে ৯৯৯ ফোন করে কোন তথ্য না পেয়ে তারা ফিরে আসেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মিঠুশীল বলেন, পুলিশ রাউজান থানার এসআই হানিফ আমাকে নম্বরটা দিয়ে ফোন করতে বলেছে, সন্ধান পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ওই লোক টাকা চাইলে বিকাশে ৭ হাজার টাকা প্রেরণ করি। এছাড়া কুমিল্লায় গিয়ে বুঝতে পারি প্রতারকের ফাঁদে পড়েছি। ৭ হাজার টাকাসহ প্রায় ২২ হাজার টাকা খরচ হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

এই প্রসঙ্গে রাউজান থানার উপপরিদর্শক মো. হানিফকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, ‘ডিউটি অফিসারের নম্বরে ফোন দিয়েছিল, আমি ইউপি সদস্যকে ফোন দিয়ে দেখি নিখোঁজের বিষয়টি সত্য। তাই আমি পুলিশ পরিচয়ে ফোন করা ব্যক্তির নম্বরটা ইউপি সদস্যকে দিয়েছি। টাকা পয়সা-লেনদেনের বিষয়টি আমাকে জানানো হয়নি। নম্বারটা দিয়ে আমি অপরাধি হয়ে গেলাম আরকি।’

নিখোঁজ দুই বোনের কাকী বলেন, গত ৭মাস আগে কান্সারে আক্রান্ত হয়ে তাদের মা মারা যায়। বাবা প্রবাস জীবনে আছেন। মা মারা যাবার পর থেকে আমাদের সাথে থাকে। কারও সাথে কোন ঝামেলা ছিল না। হঠাৎ করে তারা নিখোঁজ হয়ে গেলো। এখনও পর্যন্ত তাদের খোঁজ পাচ্ছি না।

রাউজান থানার সেকেন্ড অফিসার উপ পরিদর্শক (এসআই) অজয় দেব শীল বলেন, তাদের অবস্থান জানার অনেক চেষ্টা করছি, এখন পাওয়া যায়নি। তাদের কল রেকর্ড নেই। কল রেকর্ড থাকলে কোথায় আছে জানা যেতো। তবুও আমাদের খুঁজে পেতে তৎপরতা রয়েছে।