image

নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিচালনায় ইসি সম্পূর্ণ ব্যর্থ: ফখরুল

image

মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে রাজধানীতে বর্ণাঢ্য বিজয় শোভাযাত্রা করেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। রোববার দুপুর ১২টার দিকে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। শোভাযাত্রা শুরুতে বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আজকের এই বিজয় দিবস হওয়া উচিত ছিলো সবার জন্য আনন্দের উৎসবের। কিন্তু বিরোধী দল ও মতের বিরুদ্ধে যেভাবে দমনপীড়ন চলছে, গণতন্ত্রকে ধ্বংস করা হচ্ছে তাতে দেশের মানুষ অত্যন্ত ভারাক্রান্ত, আতঙ্কিত, উৎকন্ঠিত। জাতীয় নির্বাচনের জন্য আজকে যে সুষ্ঠু পরিবেশ প্রয়োজন ছিলো তা সব জায়গায় অনুপস্থিত। নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন পরিচালনা করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে এই শোভাযাত্রার আয়োজন করা হলেও এটি নির্বাচনী প্রচারে রূপ নেয়। রাজধানীর বিভিন্ন আসনের প্রার্থীদের পোস্টার ও ব্যানারের পাশাপাশি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের প্রতিকৃতি, কারাবন্দি খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে অবস্থানরত দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মামলা প্রত্যাহার সম্বলিত প্ল্যাকার্ড ছিলো নেতাকর্মীদের হাতে। জাতীয় পতাকা, দলের প্রতীক ধানের শীষ হাতে নিয়ে শোভাযাত্রায় অংশ নেয় হাজার হাজার নেতা-কর্মী।

দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সামনে একটি ট্রাকে নির্মিত মঞ্চ থেকে শোভাযাত্রার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শরিক গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি ঢাকা-৬ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী সুব্রত চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, ঢাকা-১৪ আসনের প্রার্থী আবদুস সালাম, ঢাকা -১ আসনের প্রার্থী খন্দকার আবু আশরাফ, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেনসহ বিএনপির কেন্দ্রীয় ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। শোভযাত্রার প্রথম ভাগে ছিলো জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের মিছিল।

মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচনে সব রকমের পক্ষপাতিত্ব শুরু করেছে সরকার। কখনো এই ধরনের নির্বাচন দেখিনি। নজিরবিহীনভাবে তারা (সরকার) বিরোধী দলের নেতা-কর্মী এবং এমনকি প্রার্থীদেরকেও গ্রেপ্তার এবং মিথ্যা মামলা দিচ্ছে এবং প্রার্থীদেরকে নির্বাচন থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, এই নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই নির্বাচনে সিদ্ধান্ত হবে বাংলাদেশে গণতন্ত্রে থাকবে কি না, স্বাধীনতার ফল ভোগ করবে কি করবে না। এই নির্বাচনে সিদ্ধান্ত হবে গণতন্ত্রের নেত্রী খালেদা জিয়াকে এই অন্যায়-অবিচার থেকে মুক্ত করতে পারবো কি না।

নির্বাচনের প্রচারনায় ঢাকা-৮ আসনে ধানের শীষ প্রার্থী মির্জা আব্বাসের ওপর হামলার ঘটনাকে নজিরবিহীন অভিহিত করে মির্জা ফখরুল বলেন, একজন প্রার্থীর বিরুদ্ধে এই ধরনের হামলা হওয়ার পরও নির্বাচন কমিশন নির্বাক হয়ে তাকিয়ে থাকে, সরকার কিছুই করে না। নোয়াখালী-১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী মাহবুবউদ্দিন খোকনকে গুলি করা হয়েছে। সে আহত হয়ে হাসপাতালে রয়েছেন। ঢাকা-৬ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী সুব্রত চৌধুরীর ওপরে হামলা হয়েছে। ঢাকা-৪ আসনে সালাহ উদ্দিন আহমেদের নির্বাচনী এলাকায় একজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, তাদের এই শোভযাত্রা করতেও বাঁধা দেওয়া হয়েছে। বহু নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের শোভযাত্রা ছিলো ২টায়। সেটাকে পুলিশ পরিবর্তন করে সকাল ১০টায় নিয়ে এসেছে। এজন্য এটা করা প্রায় অসম্ভব ছিলো।

সুব্রত চৌধুরী দেশবাসীকে বিজয়ের শুভেচ্ছা জানিয়ে জিয়াউর রহমানকে 'স্বাধীনতার ঘোষক' বলে সম্বোধন করেন। তিনি বলেন, ১৬ কোটি মানুষ ও ১০ কোটি ভোটারের ওপর নির্ভর করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। আশা করি ৩০ ডিসেম্বর জনগণ ধানের শীষ প্রতীকে রায় দিয়ে বিপুল ভোটে বিজয়ী করবে।

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, এই নির্বাচনেও সরকার ২০১৪ সালের মতো ওয়াকওভার চেয়েছিলো। কিন্তু সিদ্ধান্ত নিয়েছি- এবার ওয়াকওভার দেব না, নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছি, প্রার্থী দিয়েছি। এতে সরকারের মাথা খারাপ হয়ে গেছে।

শোভাযাত্রায় বিএনপি কেন্দ্রীয় নেতা সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স,আশরাফউদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল, আবদুস সালাম আজাদ, মুনির হোসেন, মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, হারুনুর রশীদ, অর্পনা রায়, আনোয়ার হোসেইন, ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, সাদেক আহমেদ খান, শাহ নেসারুল হক, হেলাল খান, সুলতানা আহমেদ, হেলেন জেরিন খান, দেবাশীষ রায় মধু, প্রদীপ কুমার সরকার, সাম্যবাদী দলের সাঈদ আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।