ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে পশু কোরবানির জন্য ১১৬৩ টি ( ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৬২০, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৫৪৩ ) জায়গা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। যাতে করে কোরবানির পশুর বর্জ্য দ্রুত অপসারণ এবং পরিবেশগত বিপর্যয় ঠেকানো সম্ভব হয়। বর্জ্য অপসারণের সুবিধার্থে ২০১৫ সাল থেকে পশু জবাইয়ের জন্য এলাকাভিত্তিক স্থান নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে প্রথম বছরই নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি হয়েছে খুবই কম। গত বছরের চিত্র ও একই।
কারন হিসেবে এলাকাবাসী বলেন, বংশ পরমপরায় বাড়ির সামনে গরু জবাই করা হয়। এখন আর সেই রিতির বাহিরে যেতে ইচ্ছে করে না। এছাড়া দূরত্বকেই কোরবানির নির্ধারিত জায়গায় না যাওয়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন অনেকেই। তাই লোকজন আগের মতোই বাসার গ্যারেজ, খালি জায়গা, রাস্তা ও গলিতে পশু কোরবানি দিতে চায়।
তবে সরকারে এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই এলাকাবাসি। এবার এলাকার নির্ধ ারিত স্থানে পশু জবাই করার জন্য চেষ্টা করবেন বলে জানান এলাকাবাসী।
এইদিকে গেল বৃহসপ্রতিবার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, নির্দিষ্ট স্থানে কুরবানীর পশু জবাইয়ের বিষয়টি একটি শৃঙ্খলার মধ্যে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। সরকারের কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। দেশের ১১টি সিটি কর্পোরেশনে মোট দুই হাজার ৯৩৬টি নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। পশু কোরবানীর জন্য এ সংখ্যা যথেষ্ট। তারপরেও অনেকে যদি সেই জায়গায় না আসে সেক্ষেত্রে আমি মেয়রদের অনুরোধ করবো আপনারা যথেষ্টভাবে প্রচার প্রচারণা করুন। যাতে করে মানুষ নির্দিষ্ট স্থানে পশু জবাই করতে আসে।
মন্ত্রী বলেন, ‘উন্মুক্ত স্থানে পশু কোরবানী না করার বিষয়ে যেহেতু কোন আইন নাই যে, খোলা স্থানে কুরবানী করলে কোন শাস্তির নিয়ম আছে। আর ধর্মীয় বিষয়ে এসব জোরজবরদস্তি করতে গেলে মানুষের মাঝে প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে। কাজেই আমাদের উচিত পাড়ায় পাড়ায় সিটি কর্পোরেশনের যথেষ্ট লোক নিয়োগ করা যাতে করে নির্দিষ্ট স্থানে পশু কোরবানী নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।
যার যার বাড়ীর সামনে কোরবানীর বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বাড়ীতে যদি কেউ কুরবানী করে তাহলে তাদের তো আর জোড় করার বিষয় নেই। তবে সেখানে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। যাতে কোনকরম পরিচ্ছন্নতার অভাবোধ যেন এলাকাবাসি না করে।
এই বিষয়ে ঢাকা দক্ষিন সিটি কর্পোরেশন মেয়র সাঈদ খোকন ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, পশু কোরবানীর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট স্থানে আমাদেও যে প্রস্তুতি সেটা চলমান রয়েছে। আমরা মসজিদগুলোর প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি এবং সুশিল সমাজের সদস্যদেও সাথে আমরা মতবিনিময় করেছি। গেল তিন বছর যাবতই কুরবানীর ব্যবস্থাপনা করে আসছি। তবে তেমন সাড়া পাইনি। আমরা প্রচারণা করেছি। সাধারণ মানুষ তাদের নিজ বাড়িতে কুরবানী করতে বেশি স্বাচ্ছন্দবোধ করে। এটা একটি উৎসবের মতো। পশু হাট থেকে ক্রয় কওে কুরবানীর দিনে জবাই করে এটা একটি আনন্দের বিষয়। আমরা এটাকে সুশৃঙ্খলভাবে করা যায় সে ব্যবস্থা আমরা করছি। আমরা গেলবার নির্দিষ্ট সময় বেধে দিয়েছিলাম। এ সময়ে মধ্যে কুরবানীর বর্জ্য পরিস্কার করতে হবে। সেটা আমরা সক্ষম হয়েছিলাম। এবারও আমরা সর্বোত্তমভাবে প্রস্তুতি নিয়েছি। আমরা আমাদেও শহরকে পরিষ্কার করতে স্বচেষ্ট হবো।
Developed By Muktodhara Technology Limited