image

মৃত্যু ভাইকে নৌকায় তুলেছেন : বুড়িগঙ্গায় নৌকা ডুবিতে নিহত দেলোয়ারের ছোট ভাই কবির

image

একমাস আগে মায়ের হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। মা অসুস্থ, ছেলে দেলোয়ারকে ফোন করে বলেছিলেন, বাবা তুমি বাড়িতেই চলে এসো। মা"য়ের কথায় দেলোয়ার ভাই কামরাঙ্গীর চরের ঝাউলা হাটি চৌ রাস্তায় বাড়ি ওয়ালাকে জানিয়ে দিয়েছিলেন এই মার্চ মাসই শেষ, আর ভাড়া থাকবেন না, গ্রামে মায়ের সঙ্গেই থাকবেন। ভাই আমার ঠিকই বলেছিলেন, গ্রামেই থাকবেন তবে নিথর দেহে লাশ হয়ে ফিরবেন গ্রামে এই কথাগুলো বলেই দুই চোখের পানি মুছছিলেন, সদরঘাটে নৌ দুর্ঘটনায় নিহত দেলোয়ারের ছোট ভাই মোহাম্মদ কবির।

সকালেই ভাইয়ের লাশ ভেসে উঠে নদীতে। বৃহস্পতিবার রাতে কবিরের ভাই দেলোয়ার,ভাবী জামশেদা,শিশু ভাতিজা বাবু  ছয় মাস বয়সের জুনায়েত আহমেদ কে নিয়ে শরিয়তপুরের সখিপুর থানার  দঃতারামুনিয়া গ্রামের বাড়িতে তার শ্যালিকার বিয়ের দাওয়াতে যেতে  কামরাঙ্গীর চরের ঠোটা থেকে নৌকায় সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালের কাছে এমবি সাগর -৭ এরপেছনের  ধাক্কায় নৌকা ডুবিতে নিখোঁজ হন।ঘটনার একদিন পর তার ভাবী জামশেদার লাশ শুক্রবার ভেসে উঠে।ভাই,দেলোয়ার, ভাতিজা জুনায়েত নিখোঁজ ছিলেন।

শনিবার ভাই- ভাতিজা দুজনের লাশই ভেসে উঠে।কবির বার বার আক্ষেপ করে বলছিলেন, প্রতিবারই ভাই দুই  রিক্সায় দেড়শত টাকা ভাড়া করে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে যান। এবারই বেয়াই শাহজালাল ভাইকে নিয়ে দুই পরিবার একসঙ্গে নৌকায় যান।

কবির বলেন, ভাই কখনোই নৌকায় যেতেন না, মৃত্যুই তাকে টেনে নিয়ে গেছে, এই বলেই কবির কান্নায় ভেঙে পড়েন। দেলোয়ার ছিলেন চার ভাই এক বোনের মধ্যে তৃতীয়। দেলোয়ার আর নৌ দুর্ঘটনায় দুই পা হারা আহত শাহজালাল টেইলারিং এর কাজ করতেন।দু’জনেই বোরকার কারিগর ছিলেন। দেলোয়ার শাহজালালের বোনের জামাতা। শাহজালাল থাকতেন কামরাঙ্গীর চর আবু সাঈদের ভিটায়।

কবির বলেন, শুক্রবার যে বিয়ে বাড়িতে আনন্দে মেতে থাকার কথা ভাই,ভাবী বেয়াই আর ভাতিজাদের সেই বাড়িতে শুক্রবার ছিলো শোকের মাতম। কোন অনুষ্ঠান ছাড়াই বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। পুরো গ্রামেই নেমে এসেছে শোকের ছায়া। যাদের দাওয়াতে হাজির হওয়ার কথা সেই আত্নীয়- স্বজনরা, গ্রামবাসী সবাই এ মৃত্যুতে শোকাহত।