image

রমজানের আগেই কর্ণফুলীতে মাংস’র দাম আকাশছোঁয়া : অসহায় ভোক্তা সাধারণ

image

গরুর মাংস থেকে শুরু করে মাছ সবজির দাম নিয়ন্ত্রণহীন কর্ণফুলীর বাজারে। রমজানকে সামনে রেখে দোকানীরা ইচ্ছে করেই এমন চড়া দামের বাজার গড়ে তুলছেন । রমজান তথা সারাবছরই চট্টগ্রামের মানুষের খাদ্য তালিকার অন্যতম আইটেম গরুর মাংস। লায়লাতুল বরাতকে সামনে রেখে ইতোমধ্যেই গরুর মাংসের বাজার অগ্নিমূর্তি ধারণ করছে। ৪০০ টাকা কেজির গরুর মাংস বিক্রি করছে  ৬৫০ টাকা হতে ৭০০ টাকা করে। প্রতি বছর রমজান মাস এবং রমজানের ঈদ এলেই ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন অজুহাতে গরুর মাংসের দাম বাড়িয়ে দেয়। এবারো তা করতে শুরু করেছে । 

স্থানীয়রা জানায়, ভ্রাম্যামান আদালত পরিচালনা হচ্ছেনা দেখে উপজেলার শিকলবাহা, ফকিরন্নিরহাট, বোর্ড বাজার, চরপাথরঘাটা পুরাতন ব্রীজঘাট মাংসের দোকানে যেনো আগুন লেগেছে। যেকোন অজুহাতে চতুর ব্যবসায়ীরা মাংসের দাম একবার বাড়াতে পারলে তা কমার আর কোন নজির তেমন দেখা যায়না।

খোয়াজনগরের ব্যবসায়ি আলহাজ্ব আব্দুল শুক্কুর (৬৫) জানান, ‘শবে বরাত সামনে তাই মাংস কিনতে আসলাম কিন্তু এসেই অবাক হতে হলো। ৭০০ টাকা মূল্যে চড়া দাম হাঁকিয়ে গরুর মাংস কি হিসেবে বিক্রি করছে সেটা বোধগম্য হয়নি আমার। পরে মাংস না কিনেই চলে আসলাম।’ 

তিনি আরো বলেন, আমার জানা মতে এভাবে স্বাধীনতা-উত্তর কাল থেকে এই পর্যন্ত গরুর মাংসের ম‚ল্য ৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৭০০ টাকায় এসে দাঁড়িয়েছে। ধনী শ্রেণীর লোকেরা এই চড়া দামেই নিঃশব্দে ১০ কেজি ১৫ কেজি করে গরুর মাংস কিনে নিয়ে যাচ্ছে। আর সাধারণ স্বল্প আয়ের মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে গরুর গোশত’র স্বাদ নিতে। এই দুর্মূল্যের বাজারে সাধারণ মানুষ এখন গরুর গোশত খাওয়ার কথা চিন্তাই করতে পারছে না। যে হারে দাম বাড়াচ্ছে তাতে আগামী কয়েক বছরে প্রতি কেজি ২/৩ হাজার হলেও করার কিছু থাকবেনা।

গরুর মাংসের দাম বেশি হওয়ার কারণ জানতে মাংস ব্যবসায়ী আকবর হোসেন, আব্দুল খালেক, মো. কফি, জহুর আহাম্মদ, জোস মোহাম্মদ এর সাথে ক্রেতা সেঁেজ কথা হলে তাঁরা সকলে বলেন, এখন খরচ বেশি তাই বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। প্রতি কেজি ৬০০ টাকা থেকে ৭০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন।

শুক্রবার কয়েকটি বাজার ঘুরে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। প্রতিটি মাংসের দোকানেই থরে থরে সাজানো হয়েছে মাংস। বাড়তি দামে গরুর মাংস বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে মাংস ব্যবসায়ী মামুনুর রশিদ বলেন, গরুর দাম বাড়তি তাই আমরা আজকেও হাড় ছাড়া মাংস ৭০০টাকা ও হাড়সহ মাংস ৬০০-৬৫০ টাকায় বিক্রি করছি। কেনো হঠাৎ গরুর দাম বেড়ে গেছে জানতে চাইলে তিনি কোন সঠিক কারণ জানাতে পারেননি। 

এদিকে মাংস কিনতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে ক্রেতাদের। পুরাতন ব্রীজঘাট বটগাছ তলা বাজারের কয়েকজন মাংস বিক্রেতার সঙ্গে দর কষাকষির পর খালি হাতে ফিরতে দেখা যায় কয়েকজন ক্রেতাকে। অনেকে বলেন, ভেবেছিলাম সামনে রমজান মাংসের দাম কিছুটা কমবে কিন্তু বাজারের চিত্র ভিন্ন, কমার পরিবর্তে দাম আরও বেড়েছে। এমন চলতে থাকলে মাংস খাওয়াই বাদ দিতে হবে।

এদিকে আগের সপ্তাহের তুলনায় ব্রয়লার মুরগির দামও বেড়েছে। চরপাথরঘাটার মুরগি বিক্রেতা নুরুল আজম বলেন, গত কয়েকদিন আগে থেকে গরুর মাংসের দাম বাড়তি থাকায় ব্রয়লার মুরগির চাহিদা বাড়ছে ও দামও বেড়েছিল। এ সপ্তাহে কেজি প্রতি ব্রয়লার মুরগি ১৫-২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে কেজি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা এবং কক মুরগি প্রতিপিস ২৫০ টাকা থেকে ৩৫০ টাকা ও দেশি মুরগি ৩৫০-৪৫০ টাকায়।

এবিষয়ে জানতে চাইলে কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ শামসুল তাবরীজ জানান, রমজানের আগে আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবশ্যই ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করবো। পাশাপাশি খাদ্যপণ্যের মান নিয়ন্ত্রণে ‘বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন’কে রমজান মাসে কর্ণফুলীতে সেবা দিতে বলা হয়েছে।’