image

ঢাকার হাজারীবাগে যৌতুকের বলি মুনা

image

ঢাকা।হাজারীবাগের কিশোরী গৃহবধূ মুনা(১৮)'র মৃত্যুর  রহস্য দুই দিনেও উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। গত মঙ্গলবার ভোরে হাজারীবাগ থানার ৪ মনেশ্বরের লোকমান সর্দারের লাল ভিলা'র একটি রুমে গৃহবধূ মুনার রহস্যজনক মৃত্যু হয়। মুনার স্বামী পারভেজের দাবি তার স্ত্রী  গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। মুনার বাবার অভিযোগ পারভেজ তার বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে তার মেয়ে মুনাকে হত্যা করা হয়েছে।ইতিমধ্যে পুলিশ মুনার স্বামী পারভেজসহ তিনজনকে আটক করেছে। গত দুইদিনেও পুলিশ  তাদের কাছ থেকে মুনার মৃত্যু আত্মহত্যা না হত্যা এর কোন কুল-কিনারা করতে পারেনি।

ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, মঙ্গলবার ভোরে মুনার স্বামী পারভেজ তার স্ত্রী'র লাশ কাধে নিয়ে বের হলে প্রতিবেশীরা কি হয়েছে জানতে চাইলে পারভেজ জানায় তার স্ত্রী ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়েছে। গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করলে আপনি পুলিশে খবর দেননি, লাশ নিয়ে কোথায় যাচ্ছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে পারভেজ জানায়, মেডিকেল নিয়ে যাচ্ছি, বেঁচে আছে কিনা দেখতে। এরপর লাশ কাঁধে নিয়ে রিকসায় ঢাকা মেডিকেলে জরুরী বিভাগে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মুনাকে মৃত ঘোষনা করেন। এ সময় পারভেজ তার শ্বশুর মনির হোসেনকে ফোনে জানায় তার মেয়ে মুনা আত্মহত্যা করেছে, লাশ ঢাকা মেডিকেলে আছে। মুনার বাবা ও স্বজনরা হাসপাতালে গিয়ে দেখে মুনার নিথর দেহ জরুরী বিভাগের মর্গে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পুলিশ মুনার স্বামী পারভেজকে আটক করেছে।

মুনার বাবা মনির হোসেন জানান, মুনার সঙ্গে পারভেজের বিয়ে হয়েছে মাত্র আট মাস হয়। এরই মধ্যে সে যৌতুকের জন্য মুনাকে চাপ দিতে থাকে। বিয়ের দুই মাস পরই মুনার পিতা সুদে দুই লাখ টাকা যোগাড় করে মেয়েকে দেন। মেয়ের সংসার টিকিয়ে রাখতে গত আট মাসে ভ্যান চালক মনির হোসেন তার সাধ্যমত মেয়ের জামাইকে আর্থিক সহায়তার চেষ্টা করেছেন বলে মনির হোসেন জানান।

তিনি বলেন, শবেবরাতের আগে পারভেজ কেরানীগঞ্জে জায়গা কিনবে বলে আবার মুনার ভ্যান চালক বাবার কাছ থেকে চার লাখ টাকা নিয়ে আসতে চাপ দেয় এবং তাকে মার-ধর করা হয়। এরপর শবেবরাতের আগের দিন মুনার বাবা ভ্যান চালক মনির হোসেন কিস্তি উঠিয়ে মেয়ের জামাইকে ৫০হাজার টাকা দেন। মুনা পারভেজের কাছে জানতে চায় কোথায় জায়গা কিনেছে। সেই জায়গা দেখতেও চায় মুনা। মঙ্গলবার বার সন্ধ্যায় মুনাকে জায়গা দেখাতে কেরানীগঞ্জ নিয়ে যায়। এ সময় পারভেজ সঙ্গে তার কয়েক বন্ধুও ছিলো। কোন জায়গা ক্রয় করেছে এই জায়গা দেখাকে কেন্দ্র করে মুনার সঙ্গে পারভেজের ঝগড়া হয়।

তার পিতার অভিযোগ রাতেই বন্ধুদের এবং তার মা, ননদ এবং ননদের জামাইয়ের সহায়তায় মুনাকে নির্যাতন করে হত্যা করে লাশ ঢাকা মেডিকেলে ফেলে পালিয়ে যেতে চেয়েছিলো পারভেজ। চিকিৎসক এবং পুলিশ মুনার শরীরে আঘাত- নির্যাতনের চিহ্ন পেয়েছে বলে জানা গেছে।

মনির হোসেন বলেন, বাড়ির প্রতিবেশী এবং ঢাকা মেডিকেলে পুলিশের তৎপরতার কারণে হাসপাতালে লাশ ফেলে পালাতে পারেনি খুনি।

মনির হোসেন জানান, তিনি ঢাকার হাজারীবাগের ৬৯ মনেশ্বর ২য় লেনে ভাড়া বাসায় থাকেন। তার গ্রামের বাড়ি ঢাকার আড়াই হাজার  থানার কালাপাড়া গ্রামে। তার দুই ছেলে- মেয়ের মধ্যে মুনা ছিলো বড়। সে নবম শ্রেনী পর্যন্ত পড়া-লেখা করেছে।

এদিকে হাজারীবাগ থানার ওসি ইকরাম আলী মিয়া জানান, মুনার বাবার লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে এরই মধ্যে মুনার স্বামী পারভেজ, তার মা কাওসারী, ননদ এবং ননদের স্বামীকে আটক করা হয়েছে। আদালত তাদের দুই দিনের জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত তারা মুনার মৃত্যুর ব্যাপারে কিছুই বলেনি। তারা দাবি করছে মুনা আত্মহত্যা করেছে। কেন করলো বিয়ের আট মাসের মাধ্যই এর কোন সঠিক জবাব দিচ্ছে না।

তিনি বলেন, আমরা লাশটি বাড়িতে ঝুলন্ত অবস্হায় পাইনি। হাসপাতালে লাশ মৃত অবস্হায় পাওয়া গেছে। তাই ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পরই তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। পাশা-পাশি আমাদের তদন্তও চলবে।

হাজারীবাগ থানার এসআই আসাদ জানিয়েছেন, মুনা আত্নহত্যা করেছে বলে তার স্বামী পারভেজ দাবি করলেও আমি লাশের সুরতহাল তৈরি করেছি হাসপাতালে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং আমরা তদন্ত করে মুনার মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করছি।