image

স্বৈরশাসকের বিদায় অবশ্যম্ভাবী, ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করবেনা

image

যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী সরকার কে হু‌শিয়ারী দি‌য়ে ব‌লেন, মানু‌ষের স্বাধীনতা গণতন্ত্র হরণ ক‌রে দেশ শাসন করা যা‌বে না জনগন আর তা মে‌নে নি‌বে না ।

‌তি‌নি ব‌লেন, ই‌তিহাস ব‌লে এই দে‌শে কোন সৈরাশাসক থাক‌তে পা‌রে নাই আপ‌নিও থাক‌তে পার‌বেন না।

বুধবার জাতীয় প্রেসক্লা‌বের মিলয়ত‌নে নাগ‌রিক ঐক্যর উ‌দ্যো‌গে ই‌ভিএম বর্জন জাতীয় নির্বাচন ও রাজ‌নৈ‌তিক জোট শীর্ষক আ‌লোচনা সভায় তি‌নি এসব কথা ব‌লেন।

তি‌নি ব‌লেন, উন্নয়ন থাকলে গণতন্ত্র থাকবে না what is this nonsense এটা জনগণ গ্রহণ করেনি। জনগণ উন্নয়ন চায় কিন্তু গণতন্ত্র থাকতে হবে। মানুষকে তুচ্ছ করে অধিকার হরণ করে দেশ শাসন করা যাবে না।

ঘরে নিরাপত্তা নাই, বাহিরে নিরাপত্তা নাই, স্বাধীনভাবে কথা বলা নিরাপত্তা নাই, স্বাধীনভাবে কথা বলতে গেলে হাতুড়িপেটা করে এই গণতন্ত্রহীনতা দেশের জনগণ আর মানবে না।

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ভালো রাজনীতি করেন এবং ভাল রান্না করতেও পারেন। এর সাথে বর্তমানে তিনি ছড়া কাটেন। ছড়া কাটেন আর না কাটেন দেশে গণতন্ত্র দিতে হবে না হলে কোন উপায় থাকবে না।

 সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে -প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্য তুলে ধরে বাংলাদেশের প্রথম পতাকা উত্তোলনকারী ও জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, সংবিধানের প্রতি এত শ্রদ্ধা থাকলে বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে সেখানেই আদালত করতে হবে কেন? এটা কোন সংবিধানে আছে ?পৃথিবীর কোন দেশের সংবিধানে এই ধরনের মামলা আদালত কারাগারে হয় না ।এটা বন্ধ করতে হবে ।এটা সংবিধানের ৩৫ অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, সারা পৃথিবী যখন ইভিএম বর্জন করছে তখন আমরা অর্জন করেছি ইভিএম এর জন্য কোন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা বা প্রশিক্ষণ দেয়া হয়নি আইন পাশ করা হয়নি তার আগেই টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ঘোড়ার আগে গাড়ি দেয়া হয়েছে আসলে টাকা লুটপাট করার জন্য এই বরাদ্দ করা হয়েছে।

আলোচনা সভায় গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, জাতীয় ঐক্য গড়ার লক্ষে যে আয়োজন করা হয়েছে এতে আমি আনন্দিত। এই আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচার থেকে জাতি মুক্তি লাভ করবে। 

তিনি বলেন, আমাদের সৌভাগ্য যে বাংলাদেশের জনগণ নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন। আমরা এই আয়োজন থেকে বৃহত্তর স্বার্থে জাতীয় ঐক্য গড়ে একটি স্বাধীন, প্রভাবমুক্ত এবং কার্যকরী নির্বাচনের লক্ষে কাজ করে যাবো। এর পাশাপাশি আমরা যুক্তফ্রন্ট যে সাতটি লক্ষ দিয়েছি তার একটি হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেয়া। আজকের উপস্থিতি প্রমাণ করে আমরা সকলকে নিয়ে জাতীয় ঐক্য গঠন করে এগিয়ে যাবো। বাংলাদেশের জনগণের জন্য একটি অবাধ সুষ্ঠ নির্বাচন হলে তাদের মৌলিক ক্ষমতার প্রমাণ হবে। এজন্য অবাধ ও সুষ্ঠ নির্বাচন হতে হবে। এইভাবে আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে আমরা বাংলা ভাষা এবং স্বাধীনতাসহ সকল মৌলিক অধিকার পেয়েছি।

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নার সঞ্চলনায় আলোচনা সভয় আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপি মসহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ নজরুল, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীক প্রমুখ।