দক্ষিণ চট্টগ্রামের বাঁশখালীর একমাত্র আঞ্চলিক মহাসড়কটি সোজা আনোয়ারা হয়ে বাঁশখালীর বুক চিরে পেকুয়া টৈটং এর সাথে সংযুক্ত হয়েছে। বাঁশখালীতে সুনির্দিষ্ট কোন বাস টার্মিনাল না থাকাতে এলোপাতাড়িভাবে গাড়িগুলো সড়কেই পড়ে থাকাতে যানজটের সৃষ্টি হয়। প্রতিনিয়ত বাঁশখালীর পুকুরিয়া চৌমুহনী বাজার, গুনাগরি, মিয়ার বাজার, চাম্বল বাজারে দীর্ঘ বিরক্তির যানযটে অতিষ্ট যাত্রী সাধারণ। আর অদক্ষ ও লাইসেন্সবিহীন ড্রাইভারগণ গাড়ি চালানোর ফলে দুর্ঘটনা যেন নিত্যসঙ্গী। সরকারি নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে পটিয়া-আনোয়ারা বাঁশখালী সড়কে ইচ্ছা মাফিক ভাড়া আদায় করছে মালিক শ্রমিকরা। একসময় মালিক সমিতি স্বাক্ষরিত হিসাব অনুসারে বাঁশখালী আনোয়ারা তৈলারদ্বীপ ফেরিঘাট হয়ে উপজেলা সদরের দূরত্ব ছিল ৪৪ কিলোমিটার। পরবর্তীতে শংখ নদীতে সাঙ্গু ব্রীজ নির্মাণ হওয়ার পর তার দূরত্ব প্রায় ৬ কিলোমিটার কমে আসে। কিন্তু মালিক কর্তৃপক্ষ পূর্বের কিলোমিটার অনুসারে ভাড়া আদায় করলেও নেওয়া হচ্ছে তার চেয়েও দিগুন। যা সরকারি কোন সিডিউলেই পড়ে না। তা নিয়ে প্রতিদিন যাত্রী ও কোস্টার শ্রমিকদের মাঝে প্রতিনিয়ত ঝগড়া বিবাদ লেগে থাকে।
এদিকে বাঁশখালী প্রধান সড়কে নিত্য যানযটের কারণে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের। বাঁশখালী প্রধান সড়কটি দিন দিন ছোট হয়ে যাচ্ছে অবৈধ দোকানপাট ও ভাসমান দোকানের রাজত্বে। সড়কের মাঝখানে বিদ্যুতের খুঁটি গুলোও যেন সড়কটিকে সংকোচিত করেছে। যার দরুন একটা বাস আরেকটা বাসকে ক্রস করে যেতে পারেনা। সড়কটিতে ব্যাপক হারে অটোরিকশা ও সিএনজি বেড়ে যাওয়াতে নিত্য লেগে থাকে যানযট। প্রতিনিয়ত বাঁশখালীর চাম্বল বাজারে দীর্ঘ যানযটের কবলে যাত্রীসাধারণ আটকে থাকে ১৫-২০ মিনিট, এমনকি তারও বেশী সময় ধরে। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই গড়ে উঠছে সড়কের উপর বাসষ্টেশন! বাঁশখালী পৌরসভার দক্ষিণে দারোগাবাজার সংলগ্ন প্রধান সড়কের উপর দীর্ঘ বাসের সারি যেন বাসের রাজত্ব। সড়কে উপর বাস মনে হয় যেন রিতীমতো বাসটার্মিনাল! এমনিক বাসের পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করন কাজও সেরে ফেলে সড়কের উপর। প্রশাসনের নজরে পড়লেও নেই কোন বিহিত ব্যবস্থা।
স্পেশাল বাসগুলো পুকুরিয়া নামক স্থানে চেক কাউন্টার থাকলেও তারা (ড্রাইভারের) সাথে আঁতাত করে চলে। বাঁশখালীতে মালিক/ শ্রমিক সমিতি থাকলেও তারা শুধু নামেই সীমাবদ্ধ। এ বিষয়ে তাদের কোন মাথাব্যথা নাই। অতিরিক্র ভাড়া নিয়ে প্রায় সময় ঝগড়া-বিবাদ হলেও তা নিরসনে তারা কোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে না। তাছাড়া শ্রমিকদের এ ধরনের অযৌক্তিক ভাড়া আদায় নিয়ে বিভিন্ন রকম ঝগড়াবিবাদ লেগে থাকলেও কোন কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না তারা। এ মুহুর্তে এটি বাঁখালীবাসীর প্রধান সমস্যা হিসেবে গণ্য হয়েছে।
এদিকে বাঁশখালীর সচেতন মহলে ভাড়া বাণিজ্য, লক্কর-ঝক্কর বাস, চালক-হেলফারের অশোভন আচরণ, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, রাত হলেই ভাড়া ডাকাতি, সড়কে দীর্ঘ যানযট, যত্রতত্র বাস পার্কিং নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রতিবাদ উঠে। এসব সমস্যা নিরসনে বাঁশখালীর সাংসদ মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী এমপির নিকট জোর দাবী জানান সচেতন মহল। তাদের দাবী বাঁশখালীতে যানযট নিরসণে শিগ্রই বাস টার্মিনাল নির্মাণ করা হোক।
Developed By Muktodhara Technology Limited