রাজধানীর মিরপুরের বোটানিক্যাল গার্ডেনের পুকুর পাড়ের ঝোঁপ থেকে বিএএফ শাহীন কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর এক ছাত্রের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শাহীন মোল্লা নামের ওই কলেজ ছাত্র বিএএফ শাহীন কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।
বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে শাহ আলী থানা পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে। তার শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
থানা পুলিশের ভাষ্য, শাহীনের লাশ উপুড় হয়ে পড়েছিল। তার হাতে একটি কোকের বোতল পাওয়া গেছে। তবে তাকে কেউ হত্যা করেছে কিনা এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, নেশা জাতীয় কোনো কিছু পান করে তার মৃত্যু হয়েছে অথবা কেউ তাকে কিছু খাইয়ে হত্যা করেছে। তার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের দারুস সালাম জোনের সহকারী কমিশনার জাহাঙ্গীর আলম বুধবার রাত ১১টার দিকে যুগান্তরকে বলেন, কলেজ ছাত্রের লাশ উদ্ধারে ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তাকে হত্যা করা হয়েছে নাকি তিনি কিছু পান করে মারা গেছেন- এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হতে পারিনি। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং ভিসেরা রিপোর্ট পাওয়ার পর এ বিষয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যাবে। তদন্তের অন্যান্য পদ্ধতি ব্যবহার করে এরই মধ্যে আমরা কাজ শুরু করেছি।
তিনি বলেন, বোটানিক্যাল গার্ডেনের নিরাপত্তা কর্মী আমাদের বলেছেন, ওই স্কুলছাত্র বিভিন্ন সময় বোটানিক্যাল গার্ডেনে যেতেন। তার বক্তব্য আমরা খতিয়ে দেখছি।
এদিকে পুলিশের একটি সূত্র জানায়, শাহীন মোলার বাবার নাম শওকত আলী। শাহীন পরিবারের সঙ্গে রূপনগরের ইস্টার্ন হাউজিং এলাকায় থাকত। বুধবার কলেজ বন্ধ ছিল। দুপুরে শাহীন বাসা থেকে বের হন। তবে তিনি কোথায় যাচ্ছেন এ বিষয়ে কাউকে কিছু বলেননি। শাহীনের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে পরিবারও কোনো ধারণা দিতে পারছে না।
শাহ আলী থানার এসআই সঞ্জিত কুমার সাহা যুগান্তরকে বলেন, শাহীনের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। তার মৃত্যুর কারণ ময়নাতদন্ত রিপোর্টের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। তবে শাহীনের মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটনে আমরা তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি। এরই মধ্যে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। আশা করছি শিগগির শাহীনের মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হবে।
Developed By Muktodhara Technology Limited