চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলা প্রশাসনের নীরব ভূমিকাকে কাজে লাগিয়ে বোয়ালখালীর বিভিন্ন এলাকায় স্কেভেটর দিয়ে অবাধে কৃষিজমির টপ সয়েল বিক্রির কাজে জড়িয়ে পড়ছে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী।এতে করে ভূমি আইন লঙ্ঘনসহ এলাকার পরিবেশ বিপর্যয়ের পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন ও ফসল বৈচিত্র্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
এ নিয়ে বোয়ালখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার'সহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে স্মারকলিপি দিয়েছে ক্ষতিগ্রস্হ কৃষক ও স্হানীয় এলাকাবাসী।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বোয়ালখালী উপজেলার এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী পশ্চিম গোমদন্ডী, চরখিজিরপুর, পোপাদিয়া, খরনদ্বীপ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় স্কেভেটর দিয়ে ফসলী জমির উপরিভাগের উর্বর অংশ কেটে ট্রাক-ট্রলি করে সরিয়ে নেয়ার কাজ করে যাচ্ছে । রাতের আঁধারে এসব মাটি সরাসরি চলে যাচ্ছে বোয়ালখালীর আশপাশের ইটভাটায়। এছাড়াও বসতভিটা, পুকুর ভরাট কাজেও ব্যবহৃত হচ্ছে এসব মাটি।
রশীদ আহমদ নামের পশ্চিম গোমদন্ডী ৭ নং ওয়ার্ডের চরখিজিরপুর এলাকার এক কৃষক বলেন, আমাদের এলাকায় এক প্রভাবশালী গত কয়েকদিন যাবৎ অবৈধভাবে স্কেভেটর দিয়ে মাটি কেটে তা প্রতিনিয়ত বিক্রি করে যাচ্ছে। এতে পার্শ্ববর্তি আমাদের অন্যান্য ফসলী জমিগুলোর উপর মারাত্নক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। প্রথমে আমরা তাদের বারণ করেছি। তারা আমাদের কথা না শুনায় বিষয়টা আমরা স্হানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনকে অবহিত করেছি। কিন্তু প্রশাসনের নীরব ভূমিকাকে কাজে লাগিয়ে তারা প্রতিনিয়ত এ কাজে লিপ্ত রয়েছে। এতে করে এলাকার কৃষি জমির উর্বরতা নষ্টসহ পরিবেশ আইন লঙ্ঘন হচ্ছে।
এ নিয়ে জানতে চাইল গোমদন্ডী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের কৃৃষি শিক্ষক প্রলয় চৌধুুরী বলেন, কৃষি বিজ্ঞানের ভাষায় যেকোনো ফলনযোগ্য জমির উৎপাদন শক্তি জমা থাকে মাটির ৬ থেকে ১৮ ইঞ্চি পর্যন্ত গভীরতার মধ্যে। মাটির এই অংশেই যে কোনো ফসল বেড়ে ওঠার গুণাগুণ সুরক্ষিত থাকে। বীজ রোপণের পর এই অংশ থেকেই ফসলটি প্রয়োজনীয় উপাদান গ্রহণ করে। এই অংশটি একবার কেটে নিলে সে জমির আর মৃত্তিকা প্রাণ থাকে না। এমনকি ওই জমিতে ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে কোনো ফসল বেড়ে উঠবে না। অথচ এখানে তাদের মাটি কাটার গভীরতাটা ৫ থেকে ১০ ফুট পর্যন্ত ছাড়িয়ে যাচ্ছে।যার ফলে সহজেই এখানকার পুরো কৃষিজমি পরিত্যক্ত হয়ে যাচ্ছে।
স্হানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আবু তাহের এর সত্যতা স্বীকার করে বলেন, খবর পেয়ে আমি তাদের বার-বার বারণ করেছি। তারা আমার কথায় কর্ণপাত না করায় বিষয়টা আমি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।
বোয়ালখালীর উপজেলার নির্বাহী অফিসার আছিয়া খাতুন বলেন, আমি খোঁজ নিচ্ছি। ঘটনা যদি সত্যি হয় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্হা গ্রহন করব।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১৭ এপ্রিল মাটি কাটার দায়ে পশ্চিম শাকপুরার মাহবুবুল আলমের ছেলে ব্যবসায়ী মো. জালাল উদ্দিনকে বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০এর ১৫(১) ধারায় ৫০হাজার টাকা জরিমানা করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) একরামুল ছিদ্দিকের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমান আদালত। এ সময় মাটি কাঠায় ব্যবহৃত একটি স্কেভেটরসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
Developed By Muktodhara Technology Limited