image

মুক্তিযোদ্ধার শেষ ইচ্ছ অনুযায়ী লাশ দাফন হলো না আজিমপুরে

image

করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের গোসল ও দাফন নিয়ে বিপাকে আছেন কবরস্থানগুলোর কর্মকর্তা ও মৃতদের স্বজনরা।লালবাগের পুষ্পসাহা লেন গোয়ালটুলির বাসিন্দা বীর মুক্তিযুদ্ধা মাহমুদুল হক গামা করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করলেও মৃত্যুর পূর্বে তার ইচ্ছা অনুযায়ী ঢাকার আজিমপুর কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হতে পারেননি জাতির বীর সন্তান। বাধা করোনা উপসর্গ। তাই রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবি কবরস্থানে দাফন করা হয় জাতির এই বীর সন্তানকে।

বীর মুক্তিযুদ্ধা মাহমুদুল হক গামা করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেলেও মৃত্যুর তিনদিন পর রিপোর্ট আসে করোনা নেগেটিভ। কিন্তু ততক্ষণে দাফন শেষ। তার পরিবারের আক্ষেপ মৃত্যুর পূর্বে তার ইচ্ছা অনুযায়ী তাকে আজিমপুরে সমাহিত করা হলো না। এভাবেই প্রতিদিন বহু লাশ দাফনের অন্তরায় ঢাকা দঃসিটি কর্পোরেশনের সিদ্ধান্ত। আক্রান্ত বা পজিটিভ হওয়া লাগবেনা, করোনা নয় উপসর্গ নিয়ে মারা গেলেই তাদের আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করতে দেয়া হচ্ছে না।

জানা গেছে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন গত ১৮ মার্চ দেশের প্রথম করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি ঢাকার বাসাবো কদমতলার আফসার উদ্দিন এর মৃত্যুর পরই ঢাকার আজিমপুর কবরস্থানে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃতদের দাফন না করার নির্দেশ দেয়া হয়।এরপর সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে  তার লাশ আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়।পরবর্তীতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়াদের শুধু উত্তর সিটি কর্পোরেশনের খিলগাঁও তালতলা কবরস্থানে দাফনের সিদ্ধান্ত হয়।

স্হানীয় এলাকাবাসী প্রথমে বাধা দিলেও পরে ঝিলের পাড় ঘেঁষে কবর দেয়া শুরু হয়। স্থান সংকুলান না হওয়ায় উত্তর সিটি কর্পোরেশনের রায়ের বাজার বুদ্ধিজীবি কবরস্থানে দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়। এরইমাঝে উপর মহলের নির্দেশে দূদকের পরিচালক সাইদুর রহমাম এবং জাতীয় অধ্যাপক মুক্তিযোদ্ধা ড.আনিসুজ্জামানকে আজিমপুর কবরস্থানেই দাফন করা হয়।

আজিমপুর কবরস্থানের মোহরার হাফেজ মোঃ হাফিজ উদ্দীন জানান, করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের লাশের গোসল ও দাফন নিয়ে তারা বিপাকে আছেন।

তিনি বলেন, উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের বেশীর ভাগ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের। করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়ার কারণ উল্লেখ থাকায় লাশের গোছল ও দাফনের কাজে থাকা সিটি কর্পোরেশনের স্টাফদের পর্যাপ্ত ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও সুরক্ষা ব্যবস্থা নেই। এরই মধ্যে লাশের গোছল করাতেন এমন একজন জ্বর, সর্দি ও পেটের ব্যথাসহ করোনা উপসর্গ দেখা দিলে তিনি ছুটি নিয়ে দেশের  বাড়িতে চলে যান।।

হাফিজ উদ্দিন আরো বলেন, যারা উপসর্গ নিয়ে মারা যাচ্ছে বিশেষ ব্যবস্থায় তাদের দ্রুত করোনা টেষ্টের ব্যবস্থা করা এবং ফলাফল আসার পর স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হলে লাশ দাফনের ভয় শংকা জটিলতা সব কিছুরই অবসান হতো।

তিনি বলেন, এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পদক্ষেপ নেয়া জরুরী।

তিনি বলেন, পুরান ঢাকার লালবাগ থানা এলাকার বীর মুক্তিযুদ্ধা মাহমুদুল হক গামা করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করেন। স্বজনরা তাকে আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করতে চাইলেও করোনা উপসর্গ থাকা ও টেষ্ট রিপোর্ট না থাকায় এই বীর মুক্তিযুদ্ধার লাশ বছিলা বুদ্ধিজীবি কবরস্থানে দাফন করা হয়।

হাফিজ উদ্দিন বললেন, মুক্তিযোদ্ধা গামা ভাই আজিমপুর কবরস্থানে এলেই নবনির্মিত মেয়র হানিফ মসজিদ দেখিয়ে বলতেন এর পাশেই আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আলাদা জোন করা হবে কবর দেয়ার জন্য। দোয়া করবেন দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি মৃত্যুর পরও যেন একসঙ্গে মুক্তিযুদ্ধারা ঘুমতে পারি। করোনা উপসর্গে মৃত্যুর কারণে তার লাশ আজিমপুরে দাফন হলো না।

গামার লাশ দাফনের ৩/৪ দিন পর গামার মেয়ের জামাতা আসেন আজিমপুর কবরস্থানে। তিনি জানান, গামার করোনা টেষ্ট রিপোর্ট নেগেটিভ। তাই তারা লাশ বুদ্ধিজীবি কবরস্থান থেকে তুলে আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করতে চান।

তিনি বলেন, একবার লাশ দাফন হলে তা উত্তোলন করতে হলে আইনী প্রক্রিয়ায় তা করতে হয়।

তিনি বলেন, প্রতিদিন বহু লাশ আসছে করোনা উপসর্গ  নিয়ে মৃত্যু হয়েছে এমন মানুষদের। কিন্তু  আমরা তাদের গোসল ও দাফন কাজ সম্পন্ন করতে পারছি না। ব্যক্তি সুরক্ষার অভাব ও দাফনে কোন নির্দেশনা না থাকায়। এতে উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের লাশ নিয়ে স্বজনদের নানা ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।