image

আরেকটি নির্ঘুম রাত ও অসহায়ত্বের গল্প

image

দুদিন আগেই ঈদের চাঁদ রাতে ঘুমাতে পারিনি কারন সেদিন রাত ১টা ২০মিনেটে জানলাম এলাকার তরুন শিক্ষক এনামুল হক অক্সিজেনের স্বল্পতার কারনে প্রচন্ড শ্বাসকষ্টে মেডিকেলের আইসোলেশন ওয়ার্ডে কাতরাচ্ছে। সেন্ট্রাল অক্সিজেন এর প্রেসার কম বা এক পোর্ট থেকে অনেক রোগীকে অক্সিজেন দিতে হচ্ছে বিধায় বাইরের সিলিন্ডার এর সাপোর্ট দরকার হয়ে পড়ে। তাই রাত ২ টায় ব্যক্তিগত সিলিন্ডার পৌঁছে দিয়ে আসি।এরপর থেকে আরো ৪/৫ টি সিলিন্ডার একটার পর একটা শেষ হয়ে যায়। সিলিন্ডার এর অক্সিজেন বাদ দিয়ে লাইনের অক্সিজেন দিলে একপর্যায়ে স্যাচুরেশন ৭৩ তে নেমে আসে যেটা স্বাভাবিক ৯৫ এর বেশি থাকতে হয়। আমি জানি এই পর্যায়ে ন্যাসাল ক্যাথেটার এর সাহায্যে হাই ফ্লো অক্সিজেন সরবরাহ করতে হয়।কিন্তু সেই ৩ লাখ টাকার মেশিন এখন ১৫ লাখ টাকা। চট্টগ্রামে তো ২/১ টার বেশি নাই।

যাই হোক আজ আবার রাত ২ টায় আমাকে জানালো আবার অক্সিজেন শেষের দিকে। রোগি ছটফট করছে। এরপর থেকে আর ঘুম নেই। জেনারেল হাসপাতালে খবর নিলাম যেখানে এখন আমি চাকরি করি সেখানে আইসিইউ তো দুরের কথা কোন সাধারন বেড ও খালি নাই। রাত ১০ টায় আমার ওয়াইফ ফৌজদার হাট বি আই টি আই ডি তে ডিউটি করে আসছে, বলছে ওখানে ও কোন সিট খালি নাই। কয়েকটি প্রাইভেট ক্লিনিকে ফোন করলাম কোথাও ভর্তি নিবে না। তাই অপর্যাপ্ত অক্সিজেন স্যাচুরেশন নিয়ে রোগী চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ড এ যমদূতের সাথে লড়াই করছে।

আমি শুনেছি আবুল খায়ের গ্রুপ নাকি যতো অক্সিজেন লাগে সাপ্লাই দিচ্ছে। তাহলে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কতৃপক্ষ কে অনুরোধ জানাচ্ছি আইসোলেশন ওয়ার্ডে সাপ্লিমেন্টারী অক্সিজেন এর পর্যাপ্ততা নিশ্চিত করুন।

অক্সিজেন স্বল্পতা কি জিনিস সেটা একমিনিট দম বন্ধ করলেই বুঝতে পারবেন। অসহায় রোগীদের শ্বাস নিতে না পারার যন্ত্রণা যখন একজন মানবিক ডাক্তার হিসেবে আমার মধ্যে সংক্রমিত হয় তখন ঘুম কি আসে?

লেখক : মেডিকেল অফিসার, আন্দরকিল্লা জেনারেল হাসপাতাল, চট্টগ্রাম।