চট্টগ্রামে এখন পর্যন্ত ৫০ জনের মত চিকিৎসক করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। যাদের মধ্যে রয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক ডাক্তার হাসান শহারিয়ার কবিরসহ নগরীর নামকরা অনেক চিকিৎসকও।
কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে এই ভাইরাসে চিকিৎসক আক্রান্ত হওয়া এখন নিয়মিত ঘটনা। সেটা ধরে নিয়ে বিশ্বের অনান্য দেশের মত বাংলাদেশেও লড়াই চলছে করোনার বিরুদ্ধে। তবে, সম্প্রতি চট্টগ্রামে কয়েকজন চিকিৎসক আক্রান্ত হয়েছেন, যারা এই মহামারি ব্যবস্থাপনায় একবারে শীর্ষ পযায়ে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
করোনা প্রতিরোধে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সদস্য সচিব ডাক্তার হাসান শাহরিয়ার কবির, চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রধান পরীক্ষাগার বিআইটিআইডির ল্যাব প্রধান ডা: শাকিল আহমদ আক্রান্ত হয়ে এখন দায়িত্ব থেকে দূরে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
শাকিল আহমদ জানান, বিআইটিআইডির আউটডোর এর অবকাঠামো ও ব্যবস্থাপনা যথাযথ না হওয়ায় তিনিসহ আরো অনেকের মধ্যে ভাইরাস ছড়িয়েছে।
হৃদযন্ত্রের সমস্যা নিয়ে আইসিইউতে আছেন চট্টগ্রামের বড় করোনা চিকিৎসা কেন্দ্র জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধয়ক অসীম কুমার নাথ। এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে করোনার সাথে লড়ছেন চট্টগ্রামের জনপ্রিয় চিকিৎসক ডা: সামিরুল ইসলাম। তার প্রাণ রক্ষা করতে, প্লাজমা থেরাপি, রেমিডিসিভিরসহ আরো অনেক উন্নতমানের ঔষধ প্রয়োগ করা হয়েছে। ডা: সামিরুলকে দ্বিতীয় দফা প্লাজমা দেওয়া হবে জানিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেলে কলেজ মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক অনিরুদ্ধ ঘোষ জানিয়েছেন, অবস্থার অবনতি না হলেও তিনি এখনও সংকটাপন্ন।
প্রতিদিনই চট্টগ্রামে চিকিৎসকদের মধ্যে করোনা সংক্রমণের খবর পাওয়া যাচ্ছে। করোনা রোগীর জন্য নির্ধারিত হাসপাতাল পুর্ণ হয়ে যাওয়াতে অনেক চিকিৎসকও যথাসময়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন, বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন চট্টগ্রাম শাখার সাধারাণ সম্পাদক ডা: ফয়সাল ইকবাল, যিনি নিজেও অসুস্থ হয়ে কোভিড-১৯ এর পরীক্ষার জন্য নমুনা দিয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের আক্রান্ত শীর্ষ কর্মকর্তাদের স্থলে নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একইসাথে করোনা আক্রান্তদের জন্য নতুন নমুনা সংগ্রহ কেন্দ্র এবং হাসপাতাল চালুর প্রক্রিয়াও অব্যাহত আছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
লেখক : গণমাধ্যমকর্মী
Developed By Muktodhara Technology Limited