দক্ষিণ চট্টগ্রামের পটিয়া ক্রসিং হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বিমল চন্দ্র ভৌমিকের লাগামহীন চাঁদাবাজি ও হয়রানির কারণে দক্ষিণ চট্টগ্রামের পুরো পরিবহন ব্যবস্থায় বিরাজ করছে নৈরাজ্য। হাইওয়ে পুলিশের চাঁদাবাজির কারণে জরুরী প্রয়োজনে রোগী নিয়ে চট্টগ্রাম শহরে হাসপাতালে যেতেও ভয় পাচ্ছে পরিবহন শ্রমিকরা। দক্ষিণ চট্টগ্রাম থেকে শাক-সবজী নিয়ে নগরীতে যাওয়ার সময় হাইওয়ে পুলিশ সড়কে গাড়ি আটকে রেখে চাঁদা নেয়। যার কারণে কৃষকের উৎপাদিত শাক-সবজী কিনতে নগরী থেকে ব্যবসায়ীরা দক্ষিণ চট্টগ্রামে আসতে পারছে না, ফলে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে কৃষকরা, বাড়ছে দ্রব্যমূল্যের দাম।
পটিয়া ক্রসিং হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ বিমল চন্দ্র ভৌমিক কর্তৃক প্রতিদিন গাড়ি আটকে লক্ষাধিক টাকার ওপেন চাঁদাবাজীর কাছে এক প্রকার ধরাশায়ী পরিবহন মালিক শ্রমিকসহ এ খাতের সাথের যুক্ত সকলেই। সরকারি ফি হিসেবে টাকা আদায় করা হলেও কোষাগারে কোন টাকা জমা হয় না বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে।
অভিযোগ উঠেছে, হাইওয়ে পুলিশ ব্যাটারী চালিত ছোটখাট রিক্সা নিয়ে জরুরী প্রয়োজনে বের হলেও হাইওয়ে পুলিশ রাস্তায় রিক্সা চালককে আটকে মারধর, নির্যাতন চালায়। রিক্সা আটকে রেখে ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা নগদ নিয়ে গাড়িগুলো ছেড়ে দেয়। একইভাবে সিএনজি টেক্সীগুলো রাস্তা থেকে ধরে নিয়ে ১২ হাজার থেকে ১৮ হাজার টাকা পর্যন্ত নিয়ে ছাড়া হয়।
পটিয়া ক্রসিং হাইওয়ে পুলিশের বেপরোয়া চাঁদাবাজির ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশও বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছেন। হাইওয়ে পুলিশের গণহারে চাঁদাবাজি ও হয়রানির বিষয়টি জাতীয় সংসদের হুইপ সামশুল হক চৌধুরী এমপি ও ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এমপিকেও পরিবহন শ্রমিক ও মালিকদের সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে বলে পরিবহণ সংগঠনের নেতারা জানান।
জানা গেছে, পটিয়া ক্রসিং হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বিমল চন্দ্র ভৌমিক যোগদান করার পর থেকে পরিবহন সেক্টরে গণহারে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। তিনি যোগদানের পর চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে একটি মাদকের মামলও করতে পারেনি। ধরতে পারেনি কোন অপরাধীকেও। অথচ এর আগে ক্রসিং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এ.বি এম মিজানুর রহমান দায়িত্বে থাকাকালিন প্রতিদিন মাদক, ইয়াবা আটক, চুরি, ডাকাতির সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করে সারা দেশজুড়ে প্রসংশা কুড়িয়েছিলেন। বর্তমান ইনচার্জ আসার পর রাস্তা থেকে গরীব অসহায় মানুষের সিএনজি ও রিক্সা ধরে নিয়ে টাকা হাতিয়ে নেয়া ছাড়া কোন কাজই করছে না। প্রতিদিন গড়ে পটিয়া ক্রসিং হাইওয়ে পুলিশ শতাধিক ব্যাটারী চালিত রিক্সা ও সিএনজি টেক্সী ধরে নিয়ে ১০ হাজার থেকে ১৮ হাজার টাকা পর্যন্ত নিয়ে ছেড়ে দেয়। এভাবে প্রতিদিন প্রায় অর্ধশতাধিক গাড়ি আটক করে কয়েক লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেয়।
পটিয়া সদরের শীল পাড়া এলাকার জগদীশ শীল জানান, তার একটি রিক্সা ১৫দিন আটকে রাখার পর টাকা দিয়ে ছাড়াতে হয়েছে। সম্প্রতি ওই হাইওয়ে থানার সাথে লাগোয়া এক দোকানদারের নিজের ব্যাটারী চালিত রিক্সা আটকে ৫দিন পর টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দিয়েছে। একই অভিযোগ কর্ণফুলী এলাকার ওসমান, নুরন্নবী ও আজগরসহ অসংখ্য সিএনজি চালকের।
এ বিষয়ে পটিয়া পৌরসভা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন আমাদের কাছে অভিযোগ আসে হাইওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে, যেখানে রিক্সা চালক ও সিএনজি চালকদের সরকার মানবিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছন সেখানে হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ গরীব অসহায় মানুষদের কাছ থেকে গণহারে চাঁদাবাজি করে যাচ্ছেন। হাইওয়ে পুলিশের চাঁদাবাজির কারণে পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। ইনচার্জের অপসারণ চান পরিবহণ শ্রমিকেরা।
কর্ণফুলী উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি মোহাম্মদ এয়াকুব বলেন, আমার এক আত্মীয়ের একটি অটো রিক্সা হাইওয়ে পুলিশ আটক করার পর আমি অফিসার ইনচার্জ বিমল বাবুর সাথে যোগাযোগ করি। তিনি আমার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন, ১০দিন পর দাবিকৃত টাকা দিয়ে গাড়িটি ছাড়াতে হয়েছে।
এ বিষয়ে পটিয়া সিএনজি অটোরিক্স সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ বদিউল আলম বলেন, হাইওয়ে পুলিশ প্রতিদিন অকারণে সিএনজি টেক্সীগুলো ধরে নিয়ে ১০ হাজার, ১৫ হাজার, ২০ হাজার টাকা করে নিয়ে ছেড়ে দেয়। একটি গাড়ি মাসের মধ্যে দুই তিনবারও আটক করেও টাকা নেয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। একজন সিএনজি চালক মাসে কয় টাকা আয় করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, হাইওয়ে পুলিশের গণহারে চাঁদাবাজির বিষয়টি আমরা জাতীয় সংসদের হুইপ ও পটিয়ার এমপি মহোদয়কে অভিযোগ করে জানিয়েছি। হুইপ মহোদয়ের কথাও শুনে না, সিএনজি চালকদের গালি গালাজ করে বলেন, অনেক টাকা দিয়ে নাকি পটিয়া ক্রসিং পুলিশ ফাঁড়িতে এসেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানার জন্য পটিয়া ক্রসিং হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ বিমল চন্দ্র ভৌমিকের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
উপ পরিদর্শক মুজিবুর রহমান পরিবহন শ্রমিকদের অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, টাকা পয়সা দিয়ে সব কিছু হয় না, লোকাল জনগণ ও লোকাল জনপ্রতিনিধিদের কথাও শুনতে হয়। এ বিষয়ে ইনচার্জ মহোদয় ভাল বলতে পারবেন বলে তিনি জানান।
Developed By Muktodhara Technology Limited