আলোকিত এক সকালে স্বপ্ন সারথী হয়ে রিচার্ড এলেন! বিমানবন্দরে নেমেই দেশের প্রতি ভালোবাসার আবেশে বিমোহিত হতে গিয়ে বুঝলেন ওশেনিয়া মহাদেশের তাঁর চিরচেনা দেশটি কেমন যেন পাল্টে গেছে। ইমিগ্রেশন পার হতে গিয়ে চোখে-মুখে অনেকগুলো ধান দেখলেন। তিনি এত ধানে কত চাল হতে পারে ঠিক বুঝে উঠতে পারলেন না!
মারি'র কালে তাঁর দেশের ফ্রন্টলাইনের যোদ্ধাদের জন্য আনা কিছু প্রয়োজনীয় সামগ্রী আইনের নানা মারপ্যাঁচে বিমানবন্দর পেরুতে পারলো না! কিন্তু, তবুও তেমন কষ্ট পেলেন না তিনি। ভাবলেন আইনতো এমনই কড়া হওয়া উচিত, দেশের আইন সবার জন্য সমান!
যাহোক, ইমিগ্রেশন পেরিয়ে দেশের মুক্ত আকাশ দেখার প্রতিক্ষায় যখন আমাদের গল্পের নায়ক ব্যাকুল, তখনই তাঁকে জানানো হলো, তাঁকে আগামী চৌদ্দ দিন থাকতে হবে সরকারের তত্ত্বাবধানে কোয়ারেন্টিনে!
রিচার্ড জানালেন, তিনি করোনা এন্টিবডি পজিটিভ, তার মানে করোনা থেকে আলহামদুলিল্লাহ তিনি মুক্ত! সাথে এটির স্বপক্ষে সার্টিফিকেটও দেখালেন আর জানালেন যদি চৌদ্দ দিন বন্দি হয়ে থাকতে হয়, তবে যাদের জন্য তাঁর দেশে ফেরা তাঁদের জন্য কাজ করাতো পিছিয়ে যাবে! না, আইন মতোই চলতে হবে তাঁকে! অগত্যা কোয়ারেন্টিন৷
ওদিকে, তিনি জানতেন না, তাঁর প্রিয় দেশে তখন কিছু দেশপ্রেমিক (!) সাইবার যোদ্ধা তাদের ফেবু জুড়ে তাঁর চৌদ্দপুরুষের ময়না তদন্ত করছে আর কেউ কেউ প্রমানও করে ফেলেছে তিনি তাদের চেতনাবিরোধী ব্যক্তি!
কোয়ারেন্টিনে গিয়ে তিনি জানলেন, ফেবু'র সেইসব ফ্রন্টলাইনের যোদ্ধাদের নাওয়া-খাওয়া ভুলে তাঁর বিরুদ্ধে সংগ্রামের কথা! আমাদের গল্পের নায়ক একদিনেই বুঝে গেলেন, তাঁর প্রিয় স্বদেশে থাকতে বা মানুষের জন্য কিছু করতে হলে শুধু দেশপ্রেমের সস্তা বোধ থাকলেই চলবে না, তাঁকে রাজনীতির সদর দরজা চিনতে ও জানতে হবে!
অবশেষে, তিনি ভিডিও বার্তায় সবার সামনে এলেন আর বললেন, যারা তাঁর বিরুদ্ধাচরণ করছে তারা জানেন না তিনি তাঁদেরই একজন ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন!!!
#পুনশ্চ: গুগলে গল্পটি পুরো পড়তে পারিনি, এর মাঝে গুগলে চলে এসেছে ওশেনিয়া মহাদেশের ঐ দেশে নাকি একটি বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের উদ্ভাবিত কিটের মাসের উপর হয়ে গেলেও গ্রহনযোগ্যতা পরীক্ষার ফলাফল এখনও পাওয়া যায় নি!! আর সেই প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলরা নাকি এখনও বলেননি, আসলে তারা তাদের পক্ষেরই লোক ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন!!
সফিক চৌধুরী, বিতার্কিক ও কলাম লেখক।
Developed By Muktodhara Technology Limited