আনোয়ারা উপজেলার বোয়ালগাঁও গ্রামে ব্যতিক্রমী এক ঘটনা ঘটেছে। কৃষক ভক্ত দের বাড়ীতে গাভী কিংবা ছাগী নয়, দুধ দিচ্ছে একটি পাঁঠা। ব্যতিক্রমী এ ঘটনার খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে দূর-দুরান্ত থেকে মানুষ এই পাঁঠাটিকে দেখতে আসছেন।
জানা যায়, বোয়ালগাঁও গ্রামে মৃত জয় গোপালের পুত্র ভক্ত দে বিগত ৯ বছর ধরে দূর্গাপুজায় বিক্রির জন্য পাঁঠা ছাগল পালন করে আসছে। গত বছর উপজেলার জয়কালী বাজার থেকে ১ বছর বয়সের দুইটি পাঁঠা ছাগল এনে আগামী দূর্গাপুঁজায় বিক্রির জন্য লালন-পালন শুরু করে। ছাগল গুলাকে প্রতিদিন ভাত, ভোট্ট, ভূঁষি, টিক্কা জাতীয় খাবার দেয়। কিন্তু ৪ মাস আগে একটি পাঁঠার তলপেটে ছাগীর মত দুধের বাঁট লক্ষ্য করেন ভক্ত দে ও তার পরিবারের সদস্যরা। দুধের বাঁট গুলো বড় হতে থাকলে পাঁঠা ছাগলটি লাফালাফি ও ডাকাডাকি শুরু করে। ছাগলটির এ অবস্থা দেখে ভক্ত দে ও তার ছেলে সন্তোশ দে বালতি নিয়ে দুধ দোহন করলে দেখা যায় ছাগীর মত আধা লিটার দুধ পাওয়া যায়। দুধ দোহনের পর পাঁঠা ছাগলটি স্বাভাবিকভাবে নিরব হয়ে যায়। এর পর থেকে প্রতি দিনই ঐ পাঁঠা ছাগলটি থেকে কখনও ১ পোয়া আবার কখনও আধা লিটার দুধ দোহন করে তারা। পাঁঠাটির ওই বাঁটগুলো দিয়ে যে দুধ নিঃসরণ হচ্ছে এর স্বাদ ও গুণগত মান গাভী কিংবা ছাগীর দুধের মতোই।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভক্ত দে তার ছেলে সন্তোশকে নিয়ে একটি গাছের সাথে পাঁঠা ছাগলটি বেঁধে বালতি নিয়ে এক পোয়া দুধ দোহন করছে, এসময় সাবেক চেয়ারম্যান ও সমাজ সেবক সুশীল ধরসহ স্থানীয় লোকজনের ভিড় জমে যায়। দুধ দোহনের সময় পাঁঠা ছাগলটি নিরবে দাড়িয়ে থাকে।
স্থানীয় আশি বছরের বৃদ্ধ দুলাল বাবু জানান, আমার ৮০ বছর বয়সে এ ঘটনা আর দেখিনি।
কৃষক ভক্ত দে জানায়, প্রতি দিন ১ পোয়া থেকে আধা লিটার দুধ দেয় প্রজনন ক্ষমতা সম্পন্ন এই পাঁঠাটি। আগামী দূর্গাপুঁজায় ২ বছর বয়সের এই পাঁঠা ছাগলটি ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা বিক্রি করা যাবে। আশ-পাশের গ্রামগুলো ছাড়াও দূর-দুরান্তের উৎসুক জনতা ভীড় করতে থাকেন তার পাঁঠা দেখার জন্য। দেশের কোথাও এমন বিরল ঘটনা কখনো শুনেনি বলে জানান তিনি।
আনোয়ারা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার দেলোয়ার হোসেন জানান, এই ব্যাপারটা এখনো আমাকে কেউ জানায়নি। তবে অনেক সময় অক্সি-ডক্সিন নামক একটি হরমুনের কারণে এমনটি হয়। এই হরমুনের সিক্রেশন যখন খুব বেশি হয়ে যায়, তখন পুরুষ ছাগলও প্রতিদিন আধা লিটার থেকে ১ লিটার দুধ দেয়া শুরু করে।
তিনি আরো জানান, পাঁঠার দুধ স্বাভাবিক ছাগীর দুধের মতই।
Developed By Muktodhara Technology Limited