image

ঢাকার কেরানীগঞ্জে পালিয়ে বিয়ের ১৩তম দিনে তরুণীর রহস্যময় মৃত্যু : স্বামী আটক

image

তাহমিনা আক্তার বীথি নামে এক তরুণীর মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সৃস্টি হয়েছে। বীথির পরিবারের অভিযোগ বীথিকে হত্যা করা হয়েছে। আর এম্বুল্যান্সে লাশ বহন করে নিয়ে আসা যুবক বলছে আমি বীথির স্বামী, বীথি অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে।এ নিয়ে এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে সতেরো বছরের তরুণী বীথি পিতা-মতার সঙ্গে দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জের কদমতলী খাল পাড় এলাকার খলিল মিয়ার ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ালেখা করেছেন। বাবা পেশায় একজন চাকুরীজীবি ও মা গৃহিনী। বীথি এলাকায় কয়েকজন শিক্ষার্থীকে বাসায় গিয়ে পড়াতেন। এভাবেই দিন কেটে যাচ্ছিলো তার। ছয় মাস আগে এলাকার পাশ্ববর্তী ভাড়াটিয়া মোঃ ফিরোজ(২৬) এর সঙ্গে প্রথমে পরিচয় ও পরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আস্তে আস্তে তাদের প্রেম গভীর হয়। একই এলাকায় হওয়ায় বীথির পরিবার ছেলেটিকে চিনতো কিন্তু তাদের প্রেমের বিষয়ে কেউ কিছু জানতেন না। এ মাসের ৬ জুলাই বীথি ও ফিরোজ বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়।  অনেক খোঁজাখুজির পড়েও বীথির পরিবার তার সন্ধান পায়নি। ঘটনার পরের দিন বিথী তার বাবাকে ফোন করে বলেন, আমি ফিরোজকে ভালোবাসতাম তার সাথেই চলে এসেছি এবং তাকে বিয়ে করেছি। তোমরা আমার জন্য ভেবো না আমি ভালো আছি। এই বলে ফোন কেটে দেয়। এরপর বীথির বাবা অনেক চেষ্টা করেও আর তার মেয়ের সঙ্গে আর যোগাযোগ করতে পারেনি।

রোরবার সকাল ১১ টায় কেরাণীগঞ্জের কদমতলী খাল পাড় এলাকায় রাস্তায় একটি এম্বুলেন্স আসে। ওই বাড়ির লোকজন রাস্তায় বেড়িয়ে এসে দেখে এম্বুলেন্সে বীথির  লাশ। ঘটনাটি তার বাবা-মাকে জানালে তাড়াহুড়া করে ঘর থেকে বেড়িয়ে এসে এম্বুলেন্সে মেয়ের লাশ দেখে তারা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। এ সময় এম্বুলেন্সে একজন লোক বসে ছিলো। লাশ সর্ম্পকে তাকে জিজ্ঞেস করলে সে পরিচয় দেয় আমি মৃত বিথীর স্বামী ফিরোজ। পরে লোকজন লাশটি বাড়ির ভিতরে নিয়ে যায়।

বীথির পিতা বিল্লাল হোসেন জানান, আমার মেয়ে ছয় জুলাই বাড়ি থেকে চলে যায়। পরের দিন সে আমাকে ফোন করে বলে আমি ফিরোজ নামে একটি ছেলেকে ভালোবাসি তাকে আমি বিয়ে করেছি। তার পর আর সে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার সময় ঘরে থাকা  নগদ ৭০ হাজার টাকা ও ১ ভরি স্বর্ণ নিয়ে যায়। আজ সে লাশ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। বীথির  লাশের মাথায় ও কপালে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে তার বাবা জানান। তিনি বলেন, ফিরোজ আমার মেয়েকে অত্যাচার করে মেরে ফেলেছে। আমি এর বিচার চাই।

বিথীর স্বামী ফিরোজ জানান, বীথির সঙ্গে আমার দীর্ঘ দিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিলো। বীথির পরিবার আমাদের সম্পর্কটি মেনে নেবেনা ভেবে আমরা গত ৬ জুলাই পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করি। বিয়ের পর আমার গ্রামের বাড়ি বাগেরহাট জেলার মোড়েলগঞ্জ থানার কালকি বাড়ি এলাকায় ওঠি। চার দিন পরে হঠাৎ বীথি অসুস্থ বোধ করে। পরে সেখান থেকে তাকে চিটাগং হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেই। শনিবার রাতে হঠাৎ বীথি আবার অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে আবার হাসপাতালে নিয়ে যাই। রোববার ভোরে বীথির মৃত্যু হয়। সঙ্গে সঙ্গে তার মৃত্যুর বিষয়টি বীথির পরিবারকে জানাই এবং লাশ এম্বুলেন্সে করে কেরাণীগঞ্জে তার বাড়ি নিয়ে আসি।

বীথির মা আমেনা জানান, আমার মেয়েকে ফুসলিয়ে ফিরোজ  পালিয়ে গেছে। ফিরোজ এর আগেও একটি বিয়ে করেছে। ওই ঘরে তার একটি সন্তানও রয়েছে। আমার মেয়ের সাথে করে নেওয়া ৭০ হাজার টাকা ও স্বর্ণ হাতিয়ে নিয়ে তাকে হত্যা করে এখন নাটক সাজিয়ে মেয়ের লাশ আমার কাছে নিয়ে এসেছে। আমার মেয়ে সম্পূর্ন সুস্থ ছিলো। তার কোন ধরনের অসুখ ছিলো না। আমি খুনি ফিরোজের শাস্তি চাই।

এ ব্যাপারে দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক অপারেশন আব্দুর রাশিদ জানান, আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌছে লাশটির সুরতহাল শেষে ময়না তদন্তের জন্য মিডফোর্ড হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছি এবং নিহতের স্বামী ফিরোজকে আটক করি। তদন্ত শেষে ঘটনাটি হত্যা প্রমানিত হলে আটককৃতের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে।