চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী পৌরসভার জঙ্গল জামিজুরী পাহাড়ি এলাকায় বিশাল যায়গা জুড়ে ২০০৫ সালে গড়ে তোলা দোহাজারী আদর্শ গ্রাম এখন জঙ্গলে পরিণত হয়েছে। বছরের পর বছর ধরে শূন্য পড়ে থাকায় এবং হাতির আক্রমনে প্রায় প্রতিটি ঘরই ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। আবার কেউ না থাকায় চোরের দল চুরি করে নিয়ে গেছে ঘরের টিন, কেটে নিচ্ছে লোহার এঙ্গেল। অপরদিকে আশ্রয় হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে আদর্শ গ্রামের ৪০টি অসহায় পরিবার।
জানা গেছে, দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে চন্দনাইশ উপজেলা প্রশাসনের তত্বাবধানে লোহার এঙ্গেল ও টিন দিয়ে ৪০টি ঘর তৈরী করা হয়। ২০০৫ সালের ২ জুন উদ্ভোধনের পর দোহাজারী আদর্শ গ্রামে ঠাঁই হয়েছিলো ৪০টি হতদরিদ্র অসহায় পরিবারের। এই আদর্শ গ্রামে আশ্রয় পাওয়া প্রতিটি পরিবারকে আট শতক যায়গার ওপর একটি বসত বরাদ্দ দেয়া হয়। পাঁচটি গভীর নলকূপের মাধ্যমে আদর্শ গ্রামবাসীর জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থাও করা হয়। আদর্শ গ্রামে আশ্রয় পেয়ে অসহায় ৪০টি পরিবারের সদস্যরা যেন নতুন জীবন পেয়েছিলেন। হাসিখুশি চলেছিলো তাদের জীবন। জীবন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে চলা এসব পরিবারের সদস্যরা আশ্রয়স্থল পেয়ে ভালোবাসায় আঁকড়ে ধরে স্বপ্ন বুনছিলেন আগামীর। কিন্তু বাধ সাধে বুনো হাতির পাল। হাতির আক্রমনে আদর্শ গ্রামের দু'জন মারা যাওয়ার পর থেকে শূণ্য হয়ে পড়ে আদর্শ গ্রাম।
স্থানীয়রা বলছেন, আদর্শ গ্রামটি সংস্কার করে বৈদ্যুতিক আলোর ব্যবস্থা করার পাশাপাশি পুরো আদর্শ গ্রামকে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘেরাও করে দিলে হাতির আক্রমন থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। সংস্কার ও আলোর ব্যবস্থা করলে অসহায় পরিবারগুলো আবারো নিজেদের আশ্রয়ে ফিরে আসতে পারবে। দোহাজারী আদর্শ গ্রাম দ্রুততম সময়ে সংস্কারের লক্ষে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের জন্য স্থানীয় সাংসদ বীরমুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মোঃ নজরুল ইসলাম চৌধুরী এবং দোহাজারী পৌরসভার প্রশাসক ও চন্দনাইশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইমতিয়াজ হোসেনের সুদৃষ্টি কামনা করছেন স্থানীয়রা।
Developed By Muktodhara Technology Limited