image

অলিখিত চেক নিয়ে প্রতারণায় র‌্যনকন অটোস

image

ঢাকা তেজগাঁও শিল্প এলাকার র‌্যনকন অটোস লিঃ ও কক্সবাজার সদরের লিংক রোডস্থ একে মোটরসের বিরুদ্ধে কিস্তিতে গাড়ি বিক্রির নামে প্রতারণা ও অলিখিত চেক নিয়ে গ্রাহকের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানী ও গাড়ি আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। টাকা আর গাড়ি হারিয়ে এবং উল্টো মামলার আসামী হয়ে পথে পথে ঘুরছে ক্রেতা রুহুল আমিন।

এ ঘটনায় লিংক রোডস্থ একে মোটসের মালিক কপিল মাহমুদ সহ ৩ জনের বিরুদ্ধে কক্সবাজার -৪ আদালতে প্রতারণা ও আত্মাসাত ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালত মামলাটি ( মামলা নং-সিআর-৬৩৮/২০২০) আমলে নিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন (সাক্ষীদের জবানবন্দিসহ) দাখিল করার জন্য কক্সবাজার ডিবির ওসিকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একই সাথে তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত কালে যে সকল সাক্ষীদের পরীক্ষা করবেন তাদের রেকর্ডকৃত জবানবন্দি তদন্ত প্রতিবেদনের সাথে প্রেরণ করার জন্যও নির্দেশ দেন কক্সবাজার আদালত নং-৪ এর বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট তামান্না ফারাহ। গত ৩ সেপ্টেম্বর মামলাটি দায়ের করা হয়।

দায়েরকৃত মামলার অভিযোগে জানা যায়, ৩ টন মাহিন্দ্রা লোডকিং জুম ২৬০০ সিসি মিনি ট্রাক। কিস্তিতে যার দাম ধরা হয়েছিল ২৪ লাখ ২০ হাজার টাকা। কক্সবাজার সদর উপজেলার নাপিতখালী বাঁশকাটা এলাকার মৃত ছৈয়দ আলমের ছেলে ও রামু চা বাগান এলাকার মা মনি ট্রেডার্স নামের ব্যক্তি মালিকানাধীন ব্যবসায়ীক প্রতিষ্টানের মালিক রুহুল আমিন গত ২০১৬ সালের ২১ আগষ্ট কক্সবাজার সদরের লিংক রোডস্থ একে মোটরস (অথরাইজ ডিলার) এর মালিক কপিল মাহমুদের মাধ্যমে গাড়িটি কিনেন।

র‌্যনকন অটোস লিমিটেড নামের একটি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানিকে (যার ব্যবসায়ীক অফিসের ঠিকানা ২১৫, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮) শুরুতে ২ লাখ টাকা ডাউন পেমেন্ট দিয়ে চুক্তিপত্র মতে মাসিক ৪৬৮৫০ টাকায় ৪৮ কিস্তিতে ( ৫/১০/২০১৬ইং হতে ৫/৯/২০২০ ইং মেয়াদ) মিনি ট্রাকটি কিনেন। চুক্তিপত্রের ৪নং দফা মতে ক্রেতা রুহুল আমিনের কাছ থেকে ১ম কিস্তি হতে ৭ম কিস্তির বিপরীতে ৭টি এমআইসি আর চেক (তার স্বাক্ষরযুক্ত) খালি চেক নেন। এছাড়াও সিকিউরিটি (জামানত) হিসেবে এক্সিকিউটিভ অফিসার ডেরেল ফ্রেজার একটি খালি চেক নেন।

পরবর্তীতে ক্রেতা রুহুল আমিন প্রায় টাকা পরিশোধ করেন। কিস্তির ৩৯৫৭৩০ টাকা পাওনা থাকায় র‌্যনকন অটোস লিমিটেডের পক্ষে হেড অব রিকভারী আবু ইউছুপ গত ২৪/৮/২০১৮ ইং তারিখ তাকে লিগ্যাল নোটিশ দেন। নোটিশের পরর্বতী যথারীতি ২ লাখ টাকা রশিদ মুলে পরিশোধও করেন গ্রাহক রুহুল আমিন। কিন্তু এরই মধ্যে মিনি ট্রাকটি ঢাকা নারায়ণগঞ্জে দুর্ঘটনায় কবলিত হয়। গাড়ীটি জিম্মায় নিতে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ায় বাকী টাকাগুলো পরিশোধে ব্যর্থ হন।

মামলার আর্জিতে বাদী আরো উল্লেখ করেন, নারায়নগঞ্জ থেকে গাড়িটি জিম্মায় এনে ব্যবসা শুরু করলে পুনরায় গত ২০/৩/২০২০ ইং চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা কচ্ছপিয়া ঢালায় দুর্ঘটনায় কবলিত হয়। ডুলাহাজারা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে গাড়িটি জব্দ করা হয়। 
এদিকে, গাড়ি মালিক রুহুল আমিনের অজান্তে ডিলার অথরাইজড ডিলার কফিল মাহমুদ, র‌্যনকন অটোস লিঃ এক্সিকিউটিভ অফিসার তারেক আবদুল্লাহ ও এক্সিকিউটিভ অফিসার ডেরেল ফ্রেজার পরস্পর যোগসাজশ করে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে তাদের তত্ত্বাবধানে থাকা গাড়ির মালিকানার কাগজপত্র ডুলাহাজারা হাইওয়ে পুলিশের কাছে উপস্থাপন করে মিনি ট্রাকটি তারা তাদের আওতায় নিয়ে আসেন। কিন্ত মালিক রুহুল আমিন অনেক চেস্টা করেও গাড়ী নিজের জিম্মায় আনতে ব্যর্থ হন।

গত ২০ আগষ্ট বিকালে লিংক রোডস্থ একে মোটরস শাখায় গিয়ে গাড়ী ও কাগজপত্র ফেরত চান। কিন্তু তারা চুক্তিপত্র সহ লেনদেন অস্বীকার করেন। 

এর আগে, র‌্যনকন অটোস লিমিটেডকে দেয়া অলিখিত চেক নিয়ে র‌্যনকন অটোস লিমিটেডের পক্ষে ওই ক্রেতা রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে ঢাকা সিএমএম আদালতে এনআই এ্যাক্টে মামলাসহ গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করান। তিনি গত ৫ অক্টোবর ঢাকা সিএমএম আদালতে হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করলে, বিজ্ঞ বিচারক তাকে জামিন দেন বলে জানান, বাংলাদেশ সু প্রীম কোট হাই কোর্ট ডিভিশন এর তার নিযুক্ত আইনজীবি মো.রেজাউল করিম আবু। 

মা মনি ট্রেডার্সের মালিক ও জাতীয় শ্রমিক লীগ ঈদগাও শাখার নেতা রুহুল আমিন জানান,মালিক রুহুল আমিন জানান, লিংক রোডস্থ একে মোটরসের সামনে গাড়িটি রাখা হয় এবং ওই গাড়িটির দামী যন্ত্রাংশগুলো ইতোমধ্যে বিক্রি করেছে কফিল মাহমুদ ও র‌্যনকন অটোস লিঃ এর কয়েকজন মিলে।

তিনি আরো বলেন, একে মোটরসের মালিক কপিলের বিরুদ্ধে আরো নানা অভিযোগ রয়েছে। হঠাৎ কোটি কোটি টাকার মালিক হওয়া নিয়েও রহস্যের শেষ নেই।

র‌্যনকন অটোস লিঃ এর কাছ থেকে একে মোটরসের মাধ্যমে যারা গাড়ি ক্রয় করেছেন, তারা সবাই কোন না কোন ভাবে প্রতারিত হয়েছে। অনেকেই এখন তার মতো পথে বসেছে। এসব গাড়ির মোটর পার্টস বাহিরে পাওয়া যায়না। তাদের কাছ থেকেই বেশি দামে পার্টস কিনতে হয়। ইন্ডিয়ান তৈরী এসব গাড়িগুলোর পার্টস নষ্ট হলে, তা বদলিয়ে মেরামত করতে অনেক কাল ক্ষেপন করতে হয়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় মালিককরা।