image

পাওনা টাকা চাওয়ায় বিজয় খুন, লাশ পার্সেলের মিশন ব্যর্থ

image

চট্টগ্রামের পাহাড়তলি থানাধীন বিজয় কুমার বিশ্বাস হত্যার মুল হোতা আবদুর রহমানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) যার মামলা নং-১৪,১৫/১০/২০২০,ধারা-৩০২/২০১/৩৪।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) তাকে নগরীর ইপিজেড থানাধীন বন্দরটিলা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি।

গত ১০ দিন আগে খুনের ঘটনায় ২০অক্টোবর ২০২০ইং তারিখে মামলার তদন্তে নেমে লোমহর্ষক তথ্য পায় পুলিশ। সিআইডির চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিশেষ পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শাহনেওয়াজ খালেদ'র নেতৃত্বে ইন্সপেক্টর মুহাম্মদ শরীফ, ইন্সপেক্টর মিজানুর রহমান, এস আই জাহাঙ্গীর গত শুক্রবার পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন এলাকায় তদন্ত ও বিশেষ কৌশলে তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে অনুসরণ করে শুক্রবার বিকেলে আবদুর রহমান(৪০)কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

গ্রেফতার হওয়া আসামী হলো গোপালগঞ্জ জেলার মকসুপুর থানার গোলাবাড়িয়া গ্রামের আব্দুল গফুরের ছেলে আবদুর রহমান (৪০)।

সিআইডি সূত্র জানায়, আসামী আবদুর রহমান মেসার্স রাইড এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স হাওলাদার বিল্ডার্স এর স্বত্বাধিকারী, অপরদিকে নিহত বিজয় কুমার বিশ্বাস চাদনী এন্টারপ্রাইজ ও বিকাশ এজেন্টের দোকানদার। দুজনেরই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান একই মার্কেটে হওয়ায় তাদের মধ্য বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তারই ধারাবাহিকতায় এই হত্যাকান্ডের ৮/৯ মাস আগে আসামী আবদুর রহমান ভিক্টিম বিজয় কুমার হতে মুনাফার ভিত্তিতে দেড়লক্ষ টাকা ধার নেন। বিজয় কুমার পাওনা টাকা চাইলে আসামী আব্দুর রহমান মুল টাকা ও মুনাফা দিতে গড়িমসি শুরু করে। ফলে দু’জনের মধ্যে সৃষ্টি হয় বিরোধের।

আব্দুর রহমান তার দেয়া স্বীকারোক্তিতে জানায়, ইন্টারনেটের তার পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে বিজয়কে। পরবর্তীতে আসামী আব্দুর রহমান ও তার কর্মচারী নাছির উদ্দিন মিলে চট-ছালা, ককশিট পেঁচিয়ে লাশকে পার্সেলে রুপান্তর করে ট্রাক বা বাসের ছাদে দূরে কোথাও বেনামে সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করে। কিন্তু তাদের এই প্লানিং ব্যার্থ হয়।

পরে তারা ১৫অক্টোবর ২০২০ তারিখে যেকোনো একটি সময়ে পাহাড়তলি থানাধীন আলিফ গলিতে লাশ ফেলে চলে যায়। পরে ১৫ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্থানীয়রা লাশটি দেখতে পায়।

সিআইডির চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিশেষ পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শাহনেওয়াজ খালেদ জানান, ‘তদন্তে নেমে আমরা জানতে পারি পাওনা টাকা না দেয়ার জন্য আসলে এটি একটি ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পিত হত্যাকান্ড।হত্যাকান্ডের মূল আসামী আবদুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অচিরেই তার সহযোগী কর্মচারীকেও গ্রেপ্তার করা হবে।

সিআইডির চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিদর্শক ইন্সপেক্টর মিজানুর রহমান বলেন, ‘এ ঘটনায় মূলহোতা আব্দুর রহমানকে ইপিজেড থানাধীন বন্দর টিলা ইদ্রিস মিয়ার ভাড়া বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। সে বেশ কয়েকদিন ধরে বার বার স্থান পরিবর্তন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল। সে চট্টগ্রামে মাত্র ২ঘন্টার জন্য এসেছিল। এরমধ্য আমরা দ্রুত গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হই। তার সহযোগিতায় থাকা কর্মচারী নাছির উদ্দিনকেও গ্রেপ্তাররে চেষ্টা চলছে।