image

পেকুয়ায় গণপিটুনীতে যুবক নিহতের ঘটনায় মূল হোতাকে আড়ালে রেখে থানায় মামলা

image

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় চোর সন্দেহে গনপিটুনীতে জিয়াবুল হোসাইন (২৭) নামের যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় দুইজন এজাহার নামীয়সহ অজ্ঞাত আরো ১৬জনকে আসামি করে থানায় মামলা রুজু হয়েছে। সোমবার নিহতের মা দিলুয়ারা বেগম বাদি হয়ে এ মামলাটি দায়ের করেন।

মামলায় শিলখালী ইউনিয়নের লম্বামুরা গ্রামের কামাল হোসেনের ছেলে মোকতার আহমদ (৩৫) ও জয়নাল আবেদীনকে (২৫) আসামি করা হয়েছে।

নিহত জিয়াবুল হোসাইন (২৭) টইটং ইউনিয়নের ছনখোলার জুম গ্রামের মৃত,মাহমুদুল হকের ছেলে।

মামলার এজাহার সুত্রে জানা গেছে, গত ২৭ অক্টোবর জিয়াবুল হোসাইন শিলখালীর লম্বামুরা গ্রামে রাতে আত্মীয়ের বাড়িতে দাওয়াত খেতে যান। সেখানে মোকতার হোসেন ও তার ভাই জয়নালের সাথে জিয়াবুলের বাকবিতন্ডাসহ হাতাহাতি হয়। ভোরে বাড়ি ফেরার পথে তাকে চোর আখ্যা দিয়ে ধাওয়া দিয়ে গনপিটুনী দেয়। এসময় স্থানীয় লোকজনও এসে চোর সন্দেহে তাকে পিটুনী দেয়।

শনিবার (৩১ অক্টোবর)  ভোর ৫টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান জিয়াবুল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত বুধবার ভোরে ওই যুবক শিলখালী ইউনিয়নের লম্বামূড়া এলাকায় ঘুরাঘুরির সময় কিছু লোক চোর চোর বলে ধাওয়া করে পিঠুনি দেয়। কিছুক্ষণ পর স্থানীয় ৩নং ওয়ার্ড়ের ইউপি সদস্য আব্দুল মালেক ও তার কয়েকজন সহযোগী এসে দ্বিতীয় দফায় লাটি নিয়ে ওই যুবককে আবারো মারধর করেন। ইউপি সদস্যের পাশাপাশি উশৃঙ্খল কিছু লোকও ওই যুবককে পেঠাতে থাকেন। মারধরের এক পর্যায়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন ওই যুবক। মারধরে ওই যুবক মারা গেছে ভেবে ইউপি সদস্য ও তার সাথে থাকা লোকজন দ্রুত সটকে পড়েন।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ঘটনার মুলহোতা ইউপি সদস্য আব্দুল মালেককে মামলায় আসামি করা হয়নি। মোটাংকের টাকা ম্যানেজ করে তাকে মামলা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে।

ইউপি সদস্য আব্দুল মালেক জানান, আমি পিটুনী দিইনি। চিকিৎসা দিতে হাসপাতালে নিয়ে গেছি। আমাকে মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে।

পেকুয়া থানার ওসি সাইফুর রহমান মজুমদার মামলা রেকর্ডের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আসামি গ্রেপ্তার করতে পুলিশি অভিযান অব্যহত রয়েছে।