image

শারীরিক সীমাবদ্ধতা দমিয়ে রাখতে পারেনি বিধবা পারভীনকে

image

চট্টগ্রাম রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার ৯নম্বর ওয়ার্ড দক্ষিণ ইছামতি গ্রামের নুরুল ইসলামের মেয়ে পারভিন আক্তার। তিনি একজন অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী নারী। ১৯৭৯ সালে রাঙ্গুনিয়ার গোয়াচ পাড়ায় তার জন্ম। ৬ বছর বয়সে পোলিওতে আক্রান্ত হয়ে তার পা দুটি বেঁকে যায়। তার পিতা একজন হত দরিদ্র কৃষক ছিলেন। তারপরও মেয়েকে সুস্থ করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন।

তার বিয়ে হয় রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার ইছামতি এলাকার মো. সেলিমের সাথে। বিয়ের ৪ (চার) বছরের পর তার স্বামী ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তার স্বামী মারা যাওয়ার পর শ্বশুর-শ্বাশুড়ি ও সন্তানদের নিয়ে অসহায় অবস্থার মধ্যে পড়েন পারভিন। খুব অভাব অনটনে সংসার চলতো। সংসারের এরকম দুরাবস্থায় কি করবেন তিনি বুঝতে পারছিলেন না।

তারপরও কোন রকম হতাশ না হয়ে সন্তানদের দিকে তাকিয়ে তাদের মুখে আহার জোটাতে খোড়া পায়ে ঘর ছেড়ে সংগ্রামের পথে নামেন শারীরিক প্রতিবন্ধি পারভিন আকতার । তিনি একটি এনজিও সংস্থা হতে সেলাই কাজ ও হাতের কাজ শিখেন । এরপর তিনি কাঁথা বানানো, বেঁতের মোড়া বানানোসহ সেলাই কাজ করে সংসারের অভাব অনটন দূর করে আস্তে আস্তে সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনেন। তার ১ মেয়ে তানজু ৭ম শ্রেণীতে ও ১ছেলে ফাহিম ১ম শ্রেণিতে পড়ে। ছোট খাট অভাব অভিযোগ থাকলেও পারভিন আকতার জানান, সে এখন সুখী। পারভিন আকতারের স্বপ্ন তার ছেলে মেয়েকে লেখাপড়া শিখিয়ে সুশিক্ষিত করে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলা।

পারভিন আক্তার জানান, তার শৈশব ও যৌবন কেটেছে অবহেলা আর লোক দেখানো সহমর্মিতায়। হত-দরিদ্র কৃষক বাবার সংসারে সে ছিলো অপাঙক্তেয়। দূর্বিসহ জীবনে মেহেদীর রং লাগলেও তা বেশি দিন টিকেনি। স্বামী মারা যাওয়ার পর তার দিন কেটেছে অর্ধাহারে-অনাহারে। এমনও দিন কেটেছে যে, তার অবুঝ শিশুর মুখে আহার দিতে পারেননি। তার বর্তমান অবস্থা অনেক ভাল। সমাজের বিভিন্ন প্রতিকূলতার সাথে যুদ্ধ করে তিনি নিজে আত্মনির্ভরশীল হয়েছেন এবং তার উৎপাদনমূখী কাজে সমাজের অন্যান্য মহিলাদেরকে আত্ম- কর্মসংস্থানে উৎসাহিত করছেন। বর্তমানে তিনি আর্থিকভাবে সফল এবং সমাজে একজন সংগ্রামী নারী হিসেবে পরিচিত। নারী উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী পারভিন আকতার প্রতিবেশীদের কাছে দৃষ্টান্ত স্বরূপ।