image

রোহিঙ্গা ক্যাম্প বাজারে খাস কালেকশনের নামে চলছে হরিলুট

image

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ছড়িয়ে ছিটিয়ে গড়ে উঠা বাজার গুলোতে শৃংখলা ফিরিয়ে আনার জন্য জেলা প্রশাসনের নির্দেশে উখিয়া ভূমি অফিস সংশ্লিষ্ট পালংখালী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের মাধ্যমে খাস কালেকশন শুরু করেছেন।  

ইউনিয়ন ভূমি অফিস প্রতিটি বাজারে তাদের নিজস্ব ভলান্টিয়ার দিয়ে  শতকারা ১০% কমিশনের মাধ্যমে এই টাকা উত্তোলন করে আসছেন। কিন্তু উক্ত ভলান্টিয়ারেরা খাস টোল আদায় রশীদে কত টাকা নিয়েছে তা উল্লেখ না করার কারনে সাধারণ মানুষের মাঝে দেখা দিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া।  

রোববার সরজমিন জামতলী বাজার,কাঁঠাল তলা, ময়নারঘোনা,লম্বাশিয়া,নৌকার মাঠ,মুছড়া ওড়নি থাইংখালী ক্যাম্প বাজার ঘুরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। 

বালুখালী এলাকার মাছ ব্যবসায়ী নজির আহমদ অভিযোগ করে বলেন, বালুখালী ময়নারঘোনা ক্যাম্প বাজারে কম দামের কাঁচা মাছ বিক্রি করে থাকি। যে মাছ বিক্রি করে কেজিতে ২/৫ টাকা লাভ করা কষ্টকর হয়ে যায়, সেখানে প্রতিদিন খাস টোল আদায় করতে হয় ৪/৫শ টাকা। না দিলে মাছ বিক্রি করতে দেয়না। বিশেষ করে থাইংখালি এলাকার হেলাল উদ্দিন তাদের সাথে খারাপ আচারণ করে থাকেন বলে সে জানান। 

ময়নারঘোনা এলাকার বয়োবৃদ্ধ অছিয়র রহমান ক্ষোভের সাথে জানান, আমি একজন স্থানীয় লোক, কিন্তু যারা খাস কালেকশন করতেছে তারাও স্থানীয়। কিন্তু তাদের স্থানীয় ও রোহিঙ্গা কোন পার্থক্য নেই। এক তুরী পান বিক্রি করে যেখানে ১শ টাকা লাভ করা অসম্ভব সেখানে ২০০টাকা টোল দিতে হয়। যে টাকা গুলো নিচ্ছে তাও আবার রশীদে লিখেনা। যার কারনে আমাদের মনে সন্দেহ হচ্ছে যে তারা এসব টাকা খাস কালেকশনের নামে হরিলুট করছে৷ এভাবে অসংখ্য ব্যবসায়ী তাদের অনিয়মের ব্যাপারে অভিযোগ করেন। 

স্থানীয় আবু তাহের, নুরুল হক সহ আরো অনেকে জানিয়েছেন, তারা এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক সহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন। কিন্তু কোন কাজ হচ্ছেনা বলে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। 

এসব অপকর্মে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। 

উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহসিলদার সেলিম সিকদার জানান,৬টি বাজার থেকে খাস কালেকশন করা হচ্ছে। 

উখিয়ার সহকারি কমিশনার (ভূমি) আমিমুল এহসান খান বলেন, এই ধরনের কোন অভিযোগ এখনো পাইনি। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।