image

পরকিয়ার নির্মমতার শিকার শিশু সামিউল : মা ও প্রেমিকের মৃত্যুদন্ড

image

মায়ের পরকিয়ার জেরে ঢাকার আদাবরে নির্মম খুনের শিকার শিশু সামিউল (৯) হত্যার অভিযোগে তার মা এশা এবং প্রেমিক বাক্কুকে মৃত্যুদন্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত

রোববার (২০ ডিসেম্বর) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক শেখ নাজমুল আলম এ রায় ঘোষণা করেন।

চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার আসামী সামিউলের মা আয়েশা হুমায়রা ওরফে এশা (২৫) এবং তার কথিত প্রেমিক শামসুজ্জামান বাক্কু (৩৮) এর বিরুদ্ধে ফাঁসির রায়ের পাশাপাশি পলাতক থাকায় গ্রেপ্তারী পরোয়ানাও জারি করেছেন আদালত।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, নবোদয় হাউজিংয়ের গ্রিনউড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের প্লে গ্রুপের ছাত্র ছিল সামিউল ২০১০ সালের ২৩ জুন পরকীয়া প্রেমিক শামসুজ্জামান আরিফ ওরফে বাক্কুর সঙ্গে মায়ের অনৈতিক কোনো ঘটনা দেখে ফেলায় তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এরপর মরদেহ গুম করতে ফ্রিজে লুকিয়ে রাখা হয়। মরদেহটি বস্তায় ঢুকিয়ে পরদিন ২৪ জুন রাস্তায় ফেলে দেয়া হয়। একইদিন আদাবরের নবোদয় হাউজিং এলাকা থেকে সামিউলের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এঘটনায় সামিউলের বাবা আজম বাদী হয়ে আদাবর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

মামলাটি তদন্ত করে পরের বছর ২৫ অক্টোবর হুমায়রা ও শামসুজ্জামানের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়া হয়।

২০১২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।  ২৩ নভেম্বর রায়ের দিনক্ষণ ঠিক করেন আদালত।

আসামি হুমায়রা আদালত থেকে জামিন নিয়ে নিয়মিত হাজিরা দিয়ে আসছিলেন। পরে তার জামিন বাতিল হয়ে যায়। অপর আসামি শামসুজ্জামান হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে পলাতক রয়েছেন।

কিডনি জটিলতায় আক্রান্ত মামলার বাদী শিশু সামিউলের বাবা আজম মামলার বিচার প্রক্রিয়া চলার মধ্যেই মারা যান। মৃত্যুর আগে ২০১৫ সালের নভেম্বরে মামলার গতিপ্রকৃতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছিলেন তিনি।

এ মামলার বিচার চলাকালে মোট ২২ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়।