image

চট্টগ্রামে এক নেতার পকেটেই জিম্মি বিএনপি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃত্ব

image

চট্টগ্রামে বিএনপি’র রাজনীতিতে সাংগঠনিক সকল কমিটির নেতৃত্ব নির্বাচন এক নেতার পকেটবন্দি হয়ে যাওয়ার অহরাহ অভিযোগ পাওয়া গেছে। মূলত চট্টগ্রামের উত্তরের বাসিন্দা হলেও নব্য এ নেতা উত্তর দক্ষিণ মহানগরের সকল সাংগঠনিক কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে অনেকদিন ধরেই প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। দলের সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে তার পছন্দ-অপছন্দকে প্রাধান্য দিয়ে কেন্দ্র থেকেই তার অনুসারীদের নেতৃত্বে নিয়ে আসা হচ্ছে। ফলে চট্টগ্রামের তৃণমূল নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সিনিয়র নেতারাও ক্ষুদ্ধ হাইব্রিড নেতার কর্মকান্ডে।

দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন যুবদল, স্বেচ্ছাসেবকদল, ছাত্রদলের সম্প্রতি গঠিত জেলা ও উপজেলা এবং মহানগর কমিটিতে ঐ নেতার অনুসারীদের স্থলাভিষিক্ত করতে গিয়ে ত্যাগীদের অবমূল্যায়ন করেছে কেন্দ্র। ফলে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে। এ নিয়ে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও কোন্দলেও জড়িয়েছে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

এদিকে শনিবার (২৬ ডিসেম্বর) চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করা হলে সেখানে ঐ নেতার ১৮জন অনুসারীকে পদায়ন করার অভিযোগ ওঠেছে। ফলে ত্যাগী ও বঞ্চিত নেতারা কমিটি ঘোষণার পর গতকাল রবিবার নগর বিএনপির দলীয় কার্যালয় নাসিমন ভবনের সামনে বিক্ষোভ করেছেন। তারা সেখানে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর করে। 

চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা হয়েছিল গত ৩০ নভেম্বর। ২৫ দিন পর সেটি বিলুপ্ত করে ৩৫ সদস্যের নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। গত শনিবার গভীর রাতে ঘোষিত কমিটিতে সাইফুল আলমকে আহ্বায়ক ও শরিফুল ইসলাম তুহিনকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। ১৯ জন যুগ্ম আহ্বায়কসহ ৩৫ জনের কমিটিতে মাঠের কর্মীরা বাদ পড়েছেন। অন্যদিকে কমিটিতে আছেন দোকানের কর্মচারী ও এক নেতার চাকর। পদবঞ্চিত নেতাদের অভিযোগ, যারা নিয়মিত কর্মসূচিতে ছিল না তারাই কমিটিতে স্থান পেয়েছেন। আহ্বায়ক কমিটিতে বিতর্কিত এ নেতার ১৮ জন অনুসারী থাকলেও চট্টগ্রামের সিনিয়র নেতাদের দেওয়া তালিকা আমলেও নেওয়া হয়নি। এ ছাড়া মানা হয়নি সিনিয়র-জুনিয়র।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের কমিটি গঠনের জন্য পছন্দের প্রার্থীদের তালিকা দিয়েছিলেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর। কিন্তু শনিবার ঘোষিত আহ্বায়ক কমিটিতে শীর্ষ নেতাদের দেওয়া তালিকা বাদ দিয়ে কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য এ নেতার অনুসারীদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, ৩৫ জনের কমিটিতে ১৮ জনই তার অনুসারী। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের অনৈতিক সুবিধাদি দিয়ে তিনি কমিটি বাগিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠেছে।

পদবঞ্চিত নেতাদের অভিযোগ, কেবল দুই-তিনজন ব্যক্তির এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে মাঠের কর্মীদের বাদ দেওয়া হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে ২০ থেকে ৩০টা মামলা; জেলে গেছেন, নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তারা টাকার কাছে হেরে গেছে।

এর আগেও এই নেতা একইভাবে কমিটি বাগিয়ে নিজেকে অপ্রতিদ্বন্ধি নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার মিশন শুরু করেছিলো বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।