চন্দনাইশ উপজেলায় পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র না নিয়ে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ২১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) দিনব্যাপী উপজেলার দক্ষিণ হাশিমপুর ও কাঞ্চননগর এলাকায় যৌথভাবে এ অভিযান চালায় পরিবেশ অধিদফতর ও জেলা প্রশাসন। অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এসএম আলমগীর। তাঁর সাথে ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোঃ আফজারুল ইসলাম। এসময় র্যাব, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযানে দক্ষিণ হাশিমপুর এলাকায় কে.বি এবং টু.বি.এম নামে দু'টি ইটভাটাকে এক লাখ টাকা করে মোট দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এসময় ইটভাটা দুইটির কাঁচা ইট ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়ার পাশাপাশি চিমনি ফুটো করে দেয়া হয়। অপরদিকে কাঞ্চনগর এলাকায় বি.বি.এম, এম.এইচ.ওয়াই, বি.বি.সি, ফোর.বি.এম, সি.বি.এম, কে.বি.এম, এম.আর.বি, এম.বি.এম, আর.বি.এম, এইচ.বি.এল, এইচ.বি.এম, এম.এস.বি, ফাইভ.বি.এম নামের ইটভাটাগুলো আগামী দুই মাসের মধ্যে নিজেরাই গুঁড়িয়ে দেবে মর্মে মুচলেকা নেয়ার পাশাপাশি প্রত্যেকটি ইটভাটাকে দেড় লাখ টাকা করে ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এব্যাপারে পরিবেশ অধিদফতর চট্টগ্রাম কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আফজারুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ''ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন আইন ২০১৩ অনুযায়ী জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের লাইসেন্স, পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র, বন বিভাগের ছাড়পত্র নিয়েই ইটভাটা চালাতে হবে। হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী চন্দনাইশসহ চট্টগ্রামে যেসব অবৈধ ইটভাটা রয়েছে সবগুলো ভেঙে ফেলা হবে। ইটভাটা ফের চালু করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে ইটভাটা মালিকদেরকে সতর্ক করা হয়েছে।"
জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এসএম আলমগীরের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে তিনি বলেন, "হাইকোর্টের নির্দেশে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ব্যতীত যতগুলো ইটভাটা রয়েছে, প্রতিটি ভাটায় অভিযান পরিচালনা করা হবে।"
Developed By Muktodhara Technology Limited