image

দোহাজারী পৌরসভা সাতছড়ি খাল : ভাঙা কালভার্টে ৪ বছর, কারো নেই সুনজর

image

চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী পৌরসভায় একটি কালভার্টের অভাবে নিত্যদুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় জনসাধারণকে। পৌর এলাকার জামিজুরী টু আদর্শগ্রাম সড়কে সাতছড়ি খালের উপর নির্মিত ডাবলবেন্ড কালভার্টটি ভেঙ্গে পড়ার পর চার বছর অতিবাহিত হলেও নতুনভাবে কালভার্ট নির্মাণ না হওয়ায় নিত্যদুর্ভোগ পোহাতে হয় এলাকাবাসীকে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৩-১৪ সালে সাতছড়ি খালে একটি ডাবলবেন্ড কালভার্ট নির্মাণ করা হয়। এরপর যোগাযোগ ক্ষেত্রে আসে পরিবর্তন। তখন সিএনজি, রিকশা, ভ্যান এলাকায় প্রবেশ করায় কৃষি পণ্যসহ বিভিন্ন মালামাল পরিবহন সহজ হয়। অভিযোগ আছে, কালভার্টটি নির্মাণের সময় নিম্নমানের কাজ করা হয়েছিল। ফলে নির্মাণের দুই বছরের মাথায় তা ভেঙে পড়ে। আবার এলাকাবাসীর দুর্ভোগ শুরু হয়। কালভার্ট ভেঙেছে প্রায় চার বছর হলো। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়েও এখানে কালভার্ট নির্মাণ করা হয়নি। অথচ এ এলাকা দোহাজারী পৌরসভার অন্তর্ভুক্ত।

সরেজমিনে দেখা যায়, কালভার্টটি ভেঙে পড়ে আছে খালের মধ্যে। গ্রামবাসী জানান, চার বছর ধরে কালভার্টটি ভাঙাই পড়ে রয়েছে। এলাকার মানুষ সাঁকো বেঁধে চলাচল করছে। ফলে কৃষি পণ্যসহ অন্যান্য মালামাল পরিবহনে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। জামিজুরী টু আদর্শগ্রাম সড়কে সম্প্রতি দোহাজারী পৌরসভার অধীনে গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (২য় পর্যায়) এর আওতায় ৯৮ লাখ ৩৫ হাজার ৩শ ৭৯ টাকা ব্যয়ে জামিজুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৮শ ৮৫ মিটার অংশ আরসিসি ঢালাই করা হলেও সড়কের অবশিষ্ট অংশ এখনো কাঁচা রয়েছে।   

এ এলাকায় রয়েছে একটি আদর্শ গ্রাম। এলাকার অধিকাংশ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। সাতছড়ি খালের ওপারে রয়েছে অসংখ্য পেয়ারা ও লেবু বাগান। জামিজুরী মুসলিম পাড়া ও হিন্দুপাড়া এবং আদর্শ গ্রাম মিলে প্রায় দুই শতাধিক পরিবারের বসবাস। এসব পরিবারের সদস্যদের নির্বিঘ্নে যাতায়াতে বিভাজন সৃষ্টি করেছে সাতছড়ি খাল। গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের মাঝখানে কালভার্টটি দীর্ঘদিন ভাঙ্গা থাকার ফলে বর্তমানে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। কালভার্ট ভাঙ্গা থাকার কারণে গাড়ি চলাচল তো দূরের কথা পায়ে হেঁটে পর্যন্ত যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। গ্রামীণ এই রাস্তা দিয়ে এলাকার শিক্ষার্থী ছাড়াও শত শত কৃষক প্রতিদিন ক্ষেত খামারে যাতায়াত করে থাকেন। এছাড়া পেয়ারা ও লেবু বাগান পরিচর্যাকাজে নিয়োজিত বাগানি এবং শ্রমিকরা নিত্যযাতায়াত করেন। একটি কালভার্টের অভাবে ওই সড়কের দুই কিলোমিটার এখন অকেজো হয়ে পড়েছে।

জনস্বার্থে কালভার্টটি দ্রুত নির্মাণ করে রাস্তাটি সচল করার দাবি জানান স্থানীয়রা।

এব্যাপারে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোঃ জহিরুল ইসলাম কালভার্টটি কোন প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ করা হয়েছিল তিনি সঠিকভাবে বলতে পারেননি। তবে নতুন করে কালভার্টটি নির্মাণের জন্য প্রজেক্ট প্রোপাইল তৈরী করে ঢাকায় পাঠানোর পর সয়েল টেষ্ট করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

দোহাজারী পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমতিয়াজ হোসেন সাতছড়ি খালের উপর ভাঙা কালভার্টটির ব্যাপারে অবগত আছেন জানিয়ে বলেন, খুব শীঘ্রই তিনি কালভার্টটি সরেজমিন পরিদর্শন করবেন। কারা এ কালভার্টটি নির্মাণ করেছে, কেন হঠাৎ করে ভেঙে গেলো তদন্ত করে দেখা হবে। পৌরসভা বা এলজিইডির আওতায় কালভার্টটি নতুন করে করা যায় কিনা তথ্য উপাত্ত যাচাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।