image

বাঁশখালী পৌরসভায় রাতারাতি আস্ত পুকুর গায়েব !

image

চট্টগ্রামের বাঁশখালী-আনোয়ারা পিএবি প্রধান সড়ক সংলগ্ন পৌরসদরস্থ জলদী মিয়ার বাজার  কৃষি ব্যাংকের দক্ষিন পার্শ্বে ও ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের উত্তর পার্শ্বে শতবর্ষী পূর্ব মিয়া বাড়ীর (বা-র পুকুর) ভরাট করা হচ্ছে। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অমান্য করে রাতের আঁধারে দক্ষিন জলদী আস্করিয়া পাড়ার এক আফ্রিকা প্রবাসী মোঃ নাছির ও তার ভাই মোঃ সেলিম অপরদিকে কাথরিয়া ইউপির আবুল হোসেন শতবর্ষী এই পুকুর ভরাট করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

প্রতিদিন  মধ্য রাতে মিনি ট্রাক (ডেম্পার) করে পাহাড়ী ও ফসলী জমির মাটি  পুকুরে ফেলা হচ্ছে। সেখানে কি নির্মাণ করা হবে তা জানা যাই নি। তবে রাস্তার পার্শ্বে দোকান ও  দালান নির্মান করা হবে বলে স্থানীয়রা ধারণা করেছেন। পুকুরটি ভরাটের ব্যাপারে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ও পৌর কতৃপক্ষের কোন অনুমতি নেওয়া হয়নি। বেআইনি ভাবে পুকুর ভরাটের অভিযোগ উঠল তাদের বিরুদ্ধে। খবর পেয়ে স্থানীয়রা  বাসিন্ধারা প্রতিবাদ করলে বাঁশখালী পৌরসভার পক্ষ থেকে নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেন।

সরেজমিনে পরিদর্শনকালে স্থানীয় এলাকাবাসীরা জানায়, বাঁশখালী পিএবি প্রধান সড়ক সংলগ্ন পৌরসভার ৫নম্বর ওয়ার্ডের জলদী মিয়ার বাজার  কৃষি ব্যাংকের দক্ষিন পার্শ্বে ও র্ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের উত্তর পার্শ্বে শতবর্ষী পূর্ব মিয়া বাড়ীর (বা-র পুকুর)টি যুগ যুগ ধরে  এলাকার মানুষ নানা কাজে ব্যবহার করে আসছে। পুকুরের পূর্বে হিন্দু পাড়া ও উত্তরে বেশ কয়েকটি মুসলিম পরিবার,  দক্ষিনে ও পশ্চিমে অনেক ব্যবসায়ীরা এখান থেকে পানির চাহিদা পূরণ করতেন। দেশের প্রচলিত আইনে জলাশয় ভরাট দÐনীয় অপরাধ হলেও পৌরসভা বা পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়াই পুকুরটি ভরাট শুরু করেন জনৈক এই ২ ব্যাক্তি । ব্যক্তিমালিকানাধীন পুকুর হলে ও পুকুর ভরাট করা বেআইনি। ওই এলাকায় অগ্নিদুর্ঘটনা হলে নির্বাপনে পানি সরবরাহের একমাত্র উৎস্য এই পুকুরটি। শতবর্ষী এই পুকুরটি রক্ষার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। অন্যদিকে উত্তর জলদী পৌরএলাকার ৬ নম্বর ওর্য়াডের রুদ্র পাড়া এলাকায় বালক সাধুর আশ্রম সংলগ্ন পুকুর টিনের বেড়া দিয়ে ভরাট করার চেস্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে পৌর এলাকার বিভিন্ন জায়গায় অধিকাংশ পুকুর ভরাটে মহাউৎসব চলছে। 

পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নজরুল কবির জানান, কোন প্রকার পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ও পৌরসভার অনুমতি না নিয়ে  আমার ওয়ার্ডের  শতবর্ষী বার পুকুরটি রাতে অন্ধাকারে ট্রাকে করে মাটি দিয়ে ভরাটের করতেছেন ২ ব্যক্তি । শতবর্ষী এই পুকুরটি ভরাটের খবর পেয়ে পৌরসভার মাধ্যমে পুকুরটি ভরাট কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে । পুকুর ভরাট করা সম্পূর্ণ বেআইনি। নিজের পুকুর হলেও কোনো ব্যক্তি তা পরিবেশের ছাড়পত্র ছাড়া ভরাট করতে পারবে না।  এ ভরাট বন্ধ করা উচিত এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে ভরাটকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি তিনি অনুরোধ জানান। 

বাঁশখালী পৌরসভার ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়াার্ডের সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর রোজিয়া সোলতানা রোজি জানান, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ও পৌরসভার অনুমতি না নিয়ে এভাবে পুকুর ভরাট বেআইনী। বর্তমানে পৌরসভার পক্ষ থেকে পুকুরটি ভরাট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পৌর কর্তৃপক্ষ পুকুর ভরাটের অনুমতি কাউকে দেয়নি।

বাঁশখালী পৌরসভার মেয়র আলহাজ্ব শেখ সেলিমুল হক চৌধুরী বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র স্থানীয় প্রশাসন এবং পৌরসভার অনুমতি ছাড়া পুকুর বা জলাশয় ভরাট করা নিষিদ্ধ। পুকুর বা জলাশয় ভরাট করা বা যেকোনো জায়গার শ্রেণি পরিবর্তন করতে হলে অবশ্যই প্রশাসনের অনুমতি নিতে হবে। বিনা অনুমতিতে পুকুর ভরাটের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে পৌরসভার পক্ষ থেকে পুকুরটি ভরাট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পৌর কর্তৃপক্ষ পুকুর ভরাটের জন্য কাউকে অনুমতি দেয়নি। দেশের প্রচলিত আইনে জলাশয় পুকুর ভরাট বেআইনী।

পরিবেশ অধিদপ্তরের  চট্টগ্রাম জেলা উপ পরিচালক জমির উদ্দীন বলেন, বাঁশখালী পৌরসভা এলাকায় পুকুর ভরাটের খবর তিনি শুনেছেন। কাউকে পুকুর ভরাটের অনুমতি দেয়া হয়নি। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা  সাইদুজ্জামান চৌধুরী বলেন, সরকারি, বেসরকারী কিংবা ব্যক্তি মালিকানাধীন পুকুর ভরাটের ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদফতরের অনুমতি নেয়ার প্রয়োজন আছে। পুকুর ভরাট করা সম্পূর্ণ বেআইনি। কেউ যদি অবৈধ ভাবে পুকুর ভরাট করে তার  বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।