image

রাউজান মোহাম্মদপুরের অধ্যাপক সেলিম নেওয়াজ চৌধুরী শিক্ষা বিস্তারে রেখে চলেছেন অগ্রণী ভুমিকা

image

চট্টগ্রামের রাউজানে জন্ম নিয়েছেন অনেক গর্বিত সন্তান। গর্বিত মায়ের সন্তানেরা আজ নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন দেশে-বিদেশে। পুর্ণভূমি রাউজানের একটি আধুনিক ও শিক্ষিত গ্রাম মোহাম্মদপুর। বিশাল এই মোহাম্মদপুরে অনেক রত্নাগর্ভা সন্তানেরা আলোকিত হয়ে আলোর মশাল হাতে আলোকিত করেছেন অনেককে।

তাঁরই একজন আলোকিত মানুষ অধ্যাপক সেলিম নেওয়াজ চৌধুরী। মোহাম্মদপুরে বেড়ে উঠা অধ্যাপক সেলিম নেওয়াজ চৌধুরী আজ রাউজান সরকারী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

কথা হয় তাঁর সাথে। বলেন, ছাত্র থাকাকালে স্বপ্ন ছিল শিক্ষাকতা পেশার প্রতি। শিক্ষিত সমাজে একজন পিতার মত আদর্শিক শিক্ষক হওয়া কঠিন বিষয়। একজন শিক্ষককে মানুষ তৈরির কারিগর বলি আমরা। শিক্ষকের সুশিক্ষায় ছাত্র আদর্শের মানুষ হয়ে জন্ম নেয়। এমন একজন পিতার মত শিক্ষক হতে চেষ্টা করেছি। প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীকে মমতায়-শাসনে রেখে পড়াশোনার প্রতি কাছে ডেকেছি। রাউজান কলেজেই জীবনের অর্ধাংশ। 

অধ্যাপক সেলিম নেওয়াজ চৌধুরী মোহাম্মদপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি সমাপ্ত করে, রাউজান কলেজ হতে এইচএসসি'র পাঠ চুকিয়ে ভর্তি হোন চট্টগ্রামের শীর্ষ বিদ্যাপীঠ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ম্যানেজমেন্টে অনার্স-মাস্টার্স শেষ করে তিনি ৩ বছর জাপানে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করেন।

প্রভাষক পদে তিনি রাঙ্গুনিয়া ডিগ্রি কলেজে শিক্ষকতার যাত্রা শুরু করেন। এরপর রাউজান বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে। পদোন্নতি লাভ করে সহকারী অধ্যপক পদে নিযুক্ত হোন। রাউজান কলেজের প্রয়াত অধ্যক্ষ অধ্যাপক একেএম আব্দুর রশিদের (মাগফেরাত  কামনা করি) মৃত্যুর পর তিনি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

বিবাহিত জীবনে অধ্যাপক সেলিম নেওয়াজ চৌধুরী এক ছেলে ও এক কন্যা সন্তানের জনক। স্যারের সহধর্মিণী প্রফেসর ডক্টর লুলু ওয়াল মারজানও অধ্যাপক হিসেবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও বায়োটেকনোলজি বিভাগে আছেন। 

একজন নম্র-ভদ্র ও নিরহংকার মানুষ অধ্যাপক সেলিম নেওয়াজ চৌধুরী। কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতি তাঁর একবুক ভালবাসা। চেষ্টা করেন তাদের নিয়ে কাজ করার। উপজেলার বিভিন্ন দিবসের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় ছাত্র-ছাত্রীদের অংশগ্রহণে আপ্রাণ চেষ্টা করেন। সময় দেন, সাহস যুগিয়ে পাশে থাকেন। এইতো একজন পিতা, এইতো একজন শিক্ষক।

মোহাম্মদপুরে এমন অনেক সেলিম নেওয়াজ চৌধুরী জন্ম নিয়েছেন। যাদের জন্মে সার্থক হয়েছে মোহাম্মদপুর গ্রাম। যারা অন্ধকার কাটিয়ে সূর্যের প্রদীপের ন্যায় কাজ করছেন মানুষের জন্যে, দেশের জন্যে। মোহাম্মদপুরের আলোকিত এমন সন্তান আছেন যাদের নাম হয়তো সবার বলতে পারছি না।

তাঁর মধ্যে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের নেতা নুরুল আবছার চৌধুরী, জ্ঞানতাপস অধ্যাপক আবদুল জলিল মুহাম্মদ মুহিউল ইসলাম (রহ.), ভাষা সৈনিক মরহুম অধ্যক্ষ শামসুদ্দিন মো. ইসহাক, মরহুম নুরুল হক বিএল, ফোরক আহমদ, মৌলভী হাফিজুর রহমান বিএবিটিসহ অসংখ্য জ্ঞানী-গুণী মানুষের স্মৃতিধন্য রত্নগর্ভা মোহাম্মদপুর গ্রামে এখনও রয়েছে অনেক আলোকিত মানুষ।

অধ্যাপক নজিরুল হক, মো. আবুল কাশেম (সাবেক সিজিএ ও সচিব), ডা. শেখ কামাল উদ্দিন আহমদ, মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট আবু মো. হাশেম, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবু জাফর চৌধুরী, অধ্যাপক শামসুল আনোয়ার জামাল, লায়ন ডা. আবদুল্লাহ আল হারুন, অধ্যক্ষ মো. আবুল হাসান, আলহাজ্ব মুসলেহউদ্দিন মো. বদরুল, অধ্যক্ষ আনোয়ারা আলম, বিএম জসিম উদ্দিন হিরু (চেয়ারম্যান, রাউজান সদর ইউনিয়ন পরিষদ), প্রফেসর কামরুল ইসলাম, মোহাম্মদ আলী এমকম। 

যুবক-তরুণদের মধ্যে ডা. আবদুল আউয়াল, গোলাম মামুন জাবু, অধ্যাপক সাইয়িদ করিম, ব্যাংকার ও সব্যসাচী লেখক মো. নাজিম উদ্দিন, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতি শিক্ষার্থী সেগুফতা হুমা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক সোহানা আল সানজি, 'সাক্ষী ছিলো শিরোস্ত্রাণ' সহ একাধিক বহুল প্রচারিত পুস্তকের রচয়িতা ইঞ্জিনিয়ার সুহান রিজুয়ানসহ প্রমুখ অনেক নবীন প্রবীণ সারাদেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে সফলভাবে।

এভাবে এগিয়ে যাবে রাউজান, সফলতার শিখড়ে পৌঁছাবে মুহাম্মদপুর।