image

উপকূলীয় এলাকার বেড়ীবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে ঢুকছে পানি, শংকিত বাঁশখালীর মানুষ

image

করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যেই সৃষ্ট হয়েছে আরেক দুর্যোগের আশঙ্কা।বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার উপকূলীয় অঞ্চল গুলোতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন ও ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি অফিস। আহুত ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকি এড়াতে কন্ট্রোল রুম ও মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইদুজ্জামান চৌধুরী জানান, 'আহুত ঘূর্ণিঝড় 'ইয়াস'র ঝুঁকি এড়াতে বাঁশখালী উপজেলা প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে। তাছাড়া উপকূলীয় এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র ও তৎসংশ্লিষ্ট কেন্দ্র গুলো খুলে দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। উপকূলের সকলকে সতর্কতা জারী করে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।'

বাঁশখালী উপজেলা ঘূর্ণিঝড় অফিসের রেডিও অপারেটর মিঠু কুমার দাশ জানান, 'উপজেলার পুকুরিয়া, খানখানাবাদ, বাহারছড়া, কাথারিয়া, সরল, গন্ডামারা, শেখেরখীল, পুঁইছড়ি, ছনুয়া ইউনিয়নকে উপকূলীয় অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।'

তিনি আরো বলেন, 'আহুত ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের মোকাবেলায় আমাদের ১৪২০জন সিপিপির স্বেচ্ছাসেবক (পুরুষ ও মহিলা) প্রস্তুত রয়েছেন। সতর্ক সংকেত ৪ নং এলার্ট জারি হওয়ার সাথে সাথে আমাদের টিম সক্রিয়ভাবে উপকূলবাসীর সেবায় ছড়িয়ে পড়তে প্রস্তুত আছে। ইতোমধ্যে সচল ১০৫টি আশ্রয় কেন্দ্রের সব ক'টি কেন্দ্র খুলে দেওয়া হয়েছে এবং উপকূলীয় অঞ্চলে অবস্থিত তৎসংশ্লিষ্ট স্কুল ও কলেজের ভবন গুলোও আশ্রয় কেন্দ্রের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।'

বাঁশখালী ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর রহমান বলেন, 'আহুত ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রস্তুতি ও পরিস্থিতিতে ঝুঁকি এড়াতে আমার টিম সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে।'
বাঁশখালী উপজেলা সিপিপির টিম লিডার মুহাম্মদ ছগির বলেন, 'আমাদের ১হাজার ৪শত ২০ জন সিপিপি সদস্যরা উপজেলার উপকূলীয় এলাকায় সার্বক্ষিণ প্রচার ও সতর্কতা সংকেট জানিয়ে যাচ্ছে।'

এদিকে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে বাঁশখালী উপজেলার উপকূলীয় অঞ্চলের বেশকিছু এলাকায় বেড়ীবাঁধ ভেঙে ও বেড়ীবাঁধের উপর দিয়ে বঙ্গোপসাগরের পানি লোকলয়ে প্রবেশ করেছে। এতে ফসলি জমি, লবণের মাঠ, মাছের ঘের, পুকুরঘাট, নিম্ন এলাকার আশ্রয় কেন্দ্রের নীচে ও বসতঘর পানিতে তলিয়ে গেছে।

গন্ডামারা ইউনিয়নের বড়ঘোনা থেকে মু. শাহ জাহান জানিয়েছেন, 'ইতোমধ্যে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে বঙ্গোপসাগরের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়ে গন্ডামারা ইউনিয়নের পূর্ব বড়ঘোনা ৭ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় প্রায় ৩৫ ফুট বেড়ীবাঁধ ভেঙ্গে গিয়ে লোকালয়ে পানি ডুকেছে। একই এলাকার লালপুরী বাড়ী সংলগ্ন বেড়ীবাঁধ  দিয়ে পানি ডুকে তলিয়ে যায় নিম্নাঞ্চল। পশ্চিম বড়ঘোনা খাটখালী বেড়ীবাঁধ ভেঙে পানি প্রবেশের খবরও পাওয়া যায়। তিনি আরো বলেন, সকাল ১১টার দিকে বেড়ীবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অসংখ্য মাছের ঘের, পুকুর, প্রজেক্ট লবণাক্ত পানিতে তলিয়ে গিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এখানকার লোকজন নানা শংকায় আছেন।'

তাছাড়াও শেখেরখীল ফাঁড়িমুখ ব্রীজের উত্তর পাশে, ছনুয়া ডগের পশ্চিম অংশে, বাহারছড়া ও খানখানাবাদের বেশ কিছু এলাকায় বেড়ীবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে ফসলী মাঠ, পুকুর-ঘাট তলিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

বাঁশখালী উপজেলা ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি অফিস সতর্কতা জারি করে বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন সমুদ্রে থাকা জাহাজগুলোকে অতিসত্বর উপকূলের কাছাকাছি নিরাপদ স্থানে থেকে অবস্থান গ্রহণের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।