সাতকানিয়ায় পুত্রবধূর ছুরিকাঘাতে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোকেয়া বেগম (৫৪) নামে শাশুড়ির মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ( ২৪ জুন) সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ মারা যান।
এর আগে গত সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার খাগরিয়া ইউনিয়নের মৈশামুড়াস্থ নিজ বাড়িতে ছুরিকাঘাতে আহত হন তিনি। শাশুড়িকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যাওয়ার সময় পুত্রবধূ নাছমিন আকতারকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে এলাকাবাসী।
এলাকাবাসী থেকে জানা যায়, মৈশামুড়া মুন্দার পাড়ার মো. ইলিয়াছ চৌধুরীর পুত্র গিয়াস উদ্দিন চৌধুরীর সাথে তিন বছর পূর্বে রাঙ্গুনিয়ার রাজনগর ইউনিয়নের সাতগরিয়া পাড়ার কবির আহমদের মেয়ে নাছমিন আকতারের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে এক সন্তান রয়েছে।
এদিকে, নাছমিন আকতার বিয়ের পর থেকে তার খেয়াল খুশি মতো চলতো। আর এসব বিষয় নিয়ে প্রতিবাদ করলে শাশুড়ি ও পুত্রবধূর মধ্যে ঝগড়া হতো।
গত সোমবার সন্ধ্যায় পুত্রবধূ নাছমিন সবার অজান্তে রাঙ্গুনিয়া থেকে শ্বশুর বাড়িতে এসে শাশুড়িকে একা পেয়ে প্রথমে ঘরের গেইট ও দরজা বন্ধ করে দেয়। এরপর বিদ্যুতের মেইন সুইচ বন্ধ করে দিয়ে নামাজরত অবস্থায় শাশুড়িকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে।
এক পর্যায়ে শাশুড়িকে মৃত ভেবে ফেলে রেখে ঘরের পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় এলাকার লোকজন পুত্রবধূ নাছমিনকে আটক করে পুলিশকে খবর দেয়।
খবর পেয়ে সাতকানিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নাছমিন আকতারকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়।
উপস্থিত লোকজন গুরুতর আহত শাশুড়ি রোকেয়া বেগমকে উদ্ধার করে প্রথমে কেরানীহাটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
চমেক হাসপাতাল থেকে বুধবার তাকে চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সন্ধ্যায় তিনি মারা যান।
সাতকানিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন জানান, পুত্রবধূর ছুরিকাঘাতে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাশুড়ির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় ইতিমধ্যে মামলা হায়েছে।
Developed By Muktodhara Technology Limited